কাশ্মীর নিয়ে আসরে আডবাণী

জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে গভীর ফ্যাসাদে পড়ে গিয়েছে বিজেপি। নতুন শরিক দল পিডিপি একের পর এক বিতর্কিত পদক্ষেপ করার পরেও যে ভাবে মোদী সরকার শুধুমাত্র বিবৃতি দিয়ে দূরত্ব বজায় রেখে ক্ষান্ত হচ্ছে, তাতে বেজায় ক্ষুব্ধ লালকৃষ্ণ আডবাণী-সহ দলের অনেক সাংসদ। তাঁরা মনে করছেন, বিজেপির উচিত অবিলম্বে জম্মু-কাশ্মীরের সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়া।

Advertisement

জয়ন্ত ঘোষাল

নয়াদিল্লি শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০১৫ ০৩:২৯
Share:

জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে গভীর ফ্যাসাদে পড়ে গিয়েছে বিজেপি। নতুন শরিক দল পিডিপি একের পর এক বিতর্কিত পদক্ষেপ করার পরেও যে ভাবে মোদী সরকার শুধুমাত্র বিবৃতি দিয়ে দূরত্ব বজায় রেখে ক্ষান্ত হচ্ছে, তাতে বেজায় ক্ষুব্ধ লালকৃষ্ণ আডবাণী-সহ দলের অনেক সাংসদ। তাঁরা মনে করছেন, বিজেপির উচিত অবিলম্বে জম্মু-কাশ্মীরের সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়া। দলের অন্দরে এই ক্ষোভ দেখে আজ বিজেপির পক্ষ থেকে মুফতিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অভিন্ন কর্মসূচির বাইরে গিয়ে আর কোনও পদক্ষেপ করলে জোট ভাঙতেও পরোয়া করবে না দল।

Advertisement

গত কাল বিরোধীদের চাপের মুখে সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ শুধুমাত্র বিবৃতি দিয়ে গোটা বিষয় থেকে দূরত্ব বজায় রাখার কৌশল নিয়েছেন। তাতে সন্তুষ্ট নন আডবাণী-সহ বিজেপি ও সঙ্ঘের একাংশ। আডবাণী মোদী সরকারের মন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নায়ডু, সুষমা স্বরাজ, রাজনাথ সিংহদের জানিয়েছেন, কাশ্মীর নিয়ে দলের অবস্থানটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এই কাশ্মীরের জন্যই জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ফলে, সেখানে পিডিপির পক্ষ থেকে একের পর এক বিতর্কিত পদক্ষেপ মেনে নেওয়া উচিত নয়। বরং কালবিলম্ব না করে দলের উচিত, এখনই সমর্থন তুলে নেওয়া। সেখানে ফের রাজ্যপালের শাসন জারি হলেও ক্ষতি নেই। তাতে বকলমে কেন্দ্রেরই হাতে থাকবে কাশ্মীরের রাশ।

দলের মধ্যে এই অসন্তোষ ক্রমশ তীব্র হতে দেখে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ আজ রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী নির্মল সিংহকে দিল্লিতে ডেকে পাঠান। আডবাণীরা এখনই জোট ভাঙার কথা বললেও মোদী ও অমিত শাহ আরও একটা সুযোগ দিতে চান পিডিপিকে। নির্মল সিংহকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সরকার চালানোর জন্য ন্যূনতম অভিন্ন কর্মসূচি তৈরি করা হয়েছে। তার বাইরে গিয়ে পিডিপি যদি একতরফা পদক্ষেপ করে, তাহলে বিজেপি যে জোট ভাঙতে দ্বিধা করবে না তা পিডিপিকে জানাতে হবে। দলের সেই বার্তা পৌঁছেও দেওয়া হয়েছে মুফতিকে। গত কাল খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সংসদে বিবৃতি দেওয়ার সময় পরোক্ষে সেই বার্তাটিই দিয়েছিলেন। মোদী এবং শাহও বুঝতে পারছেন, এখনই কড়া পদক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

Advertisement

বিরোধীরা তো বটেই, এনডিএ-র শরিকরাও এখন মুফতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাতে শুরু করেছে। জম্মু-কাশ্মীরে সরকার গড়তে গিয়ে যে ভাবে বিজেপি সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে আপস করেছে, তা নিয়ে গোড়া থেকেই ক্ষুব্ধ আরএসএস। সঙ্ঘ নেতৃত্বকে প্রধানমন্ত্রী বার্তা দিয়েছেন, বিজেপি এই প্রথম বার জম্মু-কাশ্মীরে সরকার গড়ার অবস্থায় এসেছে। ভবিষ্যতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সে রাজ্যে সরকার গড়লে সঙ্ঘের কর্মসূচিও রূপায়ণ করা সম্ভব হবে। দোলের দিন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ মোহন ভাগবতের সঙ্গে দেখা করেছেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা পৌঁছে দেন অমিত শাহ। শীঘ্র নাগপুরেও সঙ্ঘ নেতারা বৈঠকে বসছেন। খোদ মোদীও সেখানে যেতে পারেন।

মুফতি মহম্মদ সঈদের বিতর্কিত মন্তব্য থেকে কট্টর হুরিয়ত নেতা মাসারত আলমকে জেল থেকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় পিডিপি নিজেদের কর্মসূচি রূপায়িত করেছে। মোদীর অনুরোধে এই বিষয়গুলি নিয়ে চুুপ করে বসে থাকলেও আদৌ খুশি নয় সঙ্ঘ। সঙ্ঘের এক সূত্রের মতে, রামমন্দির আন্দোলনও প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। হিন্দুত্ব নিয়ে কিছু বলতে গেলেই মোদীর পক্ষ থেকে আপত্তি আসে। তাতে নাকি সরকারের উন্নয়ন ধাক্কা খাচ্ছে। এই অবস্থায় সঙ্ঘের কাছে এখন শুধু সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদটি পড়ে ছিল। সেটিও এখন হাতছাড়া হতে চলেছে। আডবাণী শিবিরের বক্তব্য অবশ্য সামান্য ভিন্ন। তাঁরা মনে করছেন, আরএসএসের নিজস্ব বক্তব্য থাকবেই। কিন্তু আরএসএস যা-ই বলুক না কেন, দলের স্বার্থেই সমর্থন তুলে নেওয়া উচিত। পরে এমনও হতে পারে, বিজেপির আগে খোদ মুফতিই সমর্থন তুলে নিজের রাজনৈতিক তাস খেলে ফেললেন। তার আগে বিজেপিরই পদক্ষেপ করা উচিত। এরই মধ্যে কেন্দ্রের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে প্রকাশ্যে এসেছে জম্মু-কাশ্মীর স্বরাষ্ট্র দফতরের একটি চিঠি। গত কাল রাতে প্রকাশিত ওই চিঠি অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসেই মাসারত আলমকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র দফতর। রাজ্যে তখন রাজ্যপালের শাসন।

এ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ আজ বলেন, “গত কালই আমি সংসদে বিবৃতি দিয়ে বলেছি, রাজ্য সরকারের কাছে আরও ব্যাখ্যা চেয়েছি। সে রিপোর্ট এলেই আমরা আরও তথ্য দিতে পারব।” তাঁর বক্তব্য, “কোনও এক রাজ্য সরকার আমাদের বিচার্য বিষয় নয়। দেশের নিরাপত্তাকেই সব চেয়ে বেশি প্রাধান্য দিই আমরা। তার সঙ্গে কোনও রকম আপস করা হবে না।” তবে এই চিঠি নিয়ে মুফতিও কিছুটা বিপাকে পড়বেন বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, আলমের মুক্তি নিয়ে কৃতিত্ব নিতে চাইছেন তিনি।

আজ অবশ্য জম্মু-কাশ্মীর সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, আর কোনও জঙ্গি বা ‘রাজনৈতিক বন্দি’কে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা তাদের নেই। রাজনৈতিক সূত্রে খবর, আরএসএস নেতা রাম মাধব ও অমিত শাহ এখনও পিডিপি-র সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাঁরা সফল হবেন কিনা তাই এখন দেখার।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন