ধেমাজি বিস্ফোরণে ভরত নরহের হাত, দাবি করলেন আলফা নেতা

প্রাক্তন আলফা নেতা মিহির চেতিয়া ফের পুরনো বিতর্ক উস্কে দিলেন। তাঁর সদ্য প্রকাশিত বই ‘এজন আলফার দিনলিপি’তে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৪ সালের ১৫ অগস্ট আলফা ধেমাজি কলেজের মাঠে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যে বিস্ফোরণ ঘটায়, তাতে সাহায্য করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রেস উপদেষ্টা ভরতচন্দ্র নরহ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০১৬ ০৪:১২
Share:

প্রাক্তন আলফা নেতা মিহির চেতিয়া ফের পুরনো বিতর্ক উস্কে দিলেন। তাঁর সদ্য প্রকাশিত বই ‘এজন আলফার দিনলিপি’তে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৪ সালের ১৫ অগস্ট আলফা ধেমাজি কলেজের মাঠে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যে বিস্ফোরণ ঘটায়, তাতে সাহায্য করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রেস উপদেষ্টা ভরতচন্দ্র নরহ।

Advertisement

১১ জন ছাত্র-ছাত্রী এবং কয়েকজন শিক্ষিকা-সহ ১৭ জন ওই বিস্ফোরণে প্রাণ হারান। ঘটনার জন্য পরে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন আলফা সভাপতি অরবিন্দ রাজখোয়া ও সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেতিয়া। চেতিয়া দাবি করেন, নিরাপত্তাবাহিনীকে লক্ষ্য করেই বোমাটি রাখা হয়েছিল। ২০০৪ সালেই আলফার একটি সূত্র দাবি করেছিল— ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় তদানীন্তন মন্ত্রী ভরত নরহ জড়িত। মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ বলেছিলেন, ‘‘তদন্তে দোষ প্রমাণ হলে সকলে সাজা পাবেন।’’ কিন্তু তদন্তে ভরতবাবুর নাম ওঠেনি।

মিহির চেতিয়া তাঁর বইতে ফের ওই ঘটনায় ভরতবাবুকে দায়ী করে লিখেছেন, ভরত নরহের নির্দেশেই আলফা ওই কাণ্ড ঘটিয়েছে। তার জন্য মোবাইল ফোন থেকে আরম্ভ করে আলফা জঙ্গিদের অনেক সুবিধা করে দিয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। এমনকী অসম মন্ত্রিসভার অপর দুই সদস্য ভূমিধর বর্মন এবং গৌতম রায় আলফাকে প্রচুর টাকাও দিয়েছিলেন বলে চেতিয়া বইতে দাবি করেন।

Advertisement

ধেমাজিতে বিস্ফোরণের পরে জনমনে আলফার বিরুদ্ধে ঘৃন্য মনোভাবের সৃষ্টি হয়। সেই মনোভাব কাটানোর জন্য মিহির চেতিয়াকে মায়ানমার থেকে অসমে পাঠিয়েছিল আলফা। তিনি পরে হালোয়াটিঙ থেকে গ্রেফতার হন। এখন চেতিয়া শান্তি আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।

ভরতবাবু এখন মুখ্যমন্ত্রীর প্রেস উপদেষ্টা। আজ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ভরতবাবুর কুশপুতুল পোড়ানো হয়। করিমগঞ্জ জেলা বিজেপিও ভরতবাবুর কুশপুতুল পোড়ায়। জেলা বিজেপির সভাপতি বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘কংগ্রেস দল নিজেদের স্বার্থে রক্তের হোলি খেলতে কুণ্ঠাবোধ করে না। রাজ্যে কংগ্রেস সরকার থাকায় মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা এমন জঘন্য কাজ করেও আইনের হাত থেকে বেঁচে গিয়েছেন।’’

ভরতবাবু অবশ্য বলেন, ‘‘এ সব খুব পুরনো ব্যাপার। আগেও এই অভিযোগ উঠেছিল। তদন্তে তা ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। নতুন করে বলার কিছু নেই।’’
গৌতমবাবু ফোন ধরেননি। এসএমএসেরও জবাব দেননি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement