পর্যটক টানতে নীরবে শহর সাজাচ্ছেন পাহাড়-জঙ্গলঘেরা ঝুমরি তিলাইয়ার সাধারণ মানুষ। সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় না থেকে তিলাইয়া সরোবরে তাঁরা গড়ছেন ‘কেজ হাউজ’।
সকলেই চাইছেন, পূর্ব ভারতের পর্যটন মানচিত্রে থাকুক ঝুমরি তিলাইয়ারও নাম।
কোডারমার একটি ছোট্ট শহর। চার পাশে পাহাড়, ঝর্না, জঙ্গল, সরোবর। সেখানে বাঁধ তৈরির সময় উচ্ছেদ হওয়া মত্স্যজীবী পরিবারগুলির জন্য তিলাইয়া সরোবরে মাছ ধরার খাঁচা (স্থানীয় ভাষায় কেজ) বসিয়ে দিয়েছিল প্রশাসন। ভাসমান সে সব খাঁচার উপর ছোট ছোট দু’টি ঘর গড়ছেন এলাকার বাসিন্দারা। অনেকটা কাশ্মীরের ডাল লেক বা কেরলের অলেপ্পির হাউস বোটের আদলে। সেখানে রাতও কাটাতে পারবেন পর্যটকরা। সে সবের দায়িত্বে থাকবেন স্থানীয় গ্রামবাসীরাই। তাঁরা জানান, তিলাইয়া সরোবরের দু’টি কেজ হাউস পর্যটক টানতে সক্ষম হলে, পরবর্তী সময়ে ওই ধরনের আরও ভাসমান ঘর তৈরি করা হবে।
মত্স্যজীবী সমিতির সদস্য তথা সরোবর লাগোয়া ওরমা গ্রামের বাসিন্দা শীতলকুমার যাদব বলেন, “আমাদের গ্রামের লোকেরা নৌকা চালাতে, মাছ ধরতে পটু। কেজ হাউসের পর্যটকদের জন্য সরোবরে নৌকাবিহারের ব্যবস্থাও করা হবে। ভাসমান ঘরের অতিথিদের জন্য টাটকা মাছ সরবরাহ করবেন মত্স্যজীবীরা।”
এই উদ্যোগে গ্রামবাসীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিলাইয়ার ব্যবসায়ী, চিকিত্সক, সাধারণ মানুষ। কোডারমা স্টেশন থেকে কেজ হাউস পৌঁছনোর গাড়ির ব্যবস্থা করছেন কেউ, কেউ সরোবরের পাশে রেস্তোঁরা তৈরির দায়িত্ব নিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা তথা চিকিত্সক বীরেন্দ্র কুমারের কথায়, “তিলাইয়া সরোবরের কাছেই পশ্চিমবঙ্গ, বিহার। সেখানকার মানুষ বেড়াতে ভালবাসেন। ভাসমান বাড়িতে তাই পর্যটকের অভাব হবে বলে মনে হয় না। এই অঞ্চলে মাওবাদী উপদ্রব নেই। সরোবরের পাশে নিরাপত্তা বাহিনীর শিবিরও রয়েছে।”
ঝুমরি তিলাইয়ার আশপাশে রয়েছে পরিচিত কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্র। কয়েক কিলোমিটার দূরের গজণ্ডি বা চতরা জেলার তমসিম ঝর্না দেখার মতো। গাড়িতে ঘণ্টাতিনেকের দুরত্বে রয়েছে বিহারের বোধগয়া, নালন্দা, রাজগির।
পুজোর ছুটিতে কাশ্মীরের হাউস বোটে থাকার সুযোগ না মিললে তাই মন খারাপের কিছু নেই। কয়েক কদম দূরেই যে রয়েছে তিলাইয়া সরোবর।