চারটি শিশুকে নিয়ে সমস্যায় কাছাড় জেলার লেভারপুতা গ্রাম। সব চেয়ে ছোটটির বয়স ২ বছর। বড়টি ৬ বছরের। শনিবার তাদের মা ও দিদির খুনের পর চার জনের কী হবে, তা ভেবে দুশ্চিন্তায় গ্রামবাসীরা। আপাতত পড়শির বাড়িতে ঠাঁই হয়েছে চার জনের। কিন্তু খেতমজুর ওই পরিবারের পক্ষে অতিরিক্ত চার জনের খাবার জোগাড় করা কঠিন। বড় দু’জন কিছুই মুখে তুলছে না, ছোট দু’টি মাঝেমধ্যেই মা- মা বলে কেঁদে উঠছে।
শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত চার জনই নিজেদের বাড়িতে খেলছিল। তাদের মা ও দিদি ছিল ঘরেই। কয়েক জন গ্রামবাসী এসে ডাকলেও কেউ ওঠেনি। ছ’বছরের শেফালির আচমকা সন্দেহ হয়। পড়শিকে সে-ই ডেকে নিয়ে আসে। ছুটে আসেন গ্রামের অন্যরাও। তখনই দেখা যায়, তাদের মা হেমারানি দাস ও দিদি রূপালি খুন হয়েছেন। পুলিশ মৃতদেহগুলি ময়না তদন্তে পাঠায়। কাছাড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শঙ্করজ্যোতি রায়মেধি জানান, প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনার পিছনে হেমারানির স্বামী সঞ্জিতচন্দ্র জড়িত বলে অনুমান। শুক্রবার রাতে ওই ব্যক্তি বাড়িতেই ছিলেন। শনিবার সকালেও গ্রামের মানুষ তাকে দেখেছেন। তার পরই থেকেই তিনি নিখোঁজ। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, সঞ্জিত অনেক বছর ধরে মেঘালয়ে শ্রমিকের কাজ করেন। ১২ বছর আগে হেমারানিদেবীকে বিয়ে করেন। সঙ্গে ছিল বছর দু’য়েকের রূপালি। গ্রামবাসীরা জানান, হেমারানি অবাঙালি ছিলেন। রূপালি তাঁর প্রথম পক্ষের মেয়ে। পরে জন্ম হয় সঞ্জিতের চার সন্তানের শেফালি, সুমিতা, সঞ্চিতা ও সঞ্জুর। গ্রামবাসীরা তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, রূপালির বয়স বাড়তেই সমস্যা তৈরি হয়। অভিযোগ, সঞ্জিতের নজর পড়ে তার সৎ মেয়ের উপর। এ নিয়ে এলাকায় কয়েক দফা বৈঠকও হয়।
মা, দিদি খুন হয়েছে, নিখোঁজ বাবাও। গ্রামবাসীরা সমস্যায় পড়েছেন চারটি শিশুকে নিয়ে। সঞ্জিতের মা-বাবা নেই। এক বোন রয়েছে। তিনি খুবই গরিব। হেমারানি কোন জনগোষ্ঠীর, কোথায় তাঁর বাপের বাড়ি তাও কেউ জানেন না। পড়শি একটি বাড়ির লোকেদেরই আপাতত চারটি শিশুর দেখভালের অনুরোধ করেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানায়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে কিছু একটা করা হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, সঞ্জিতকে গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।