ঘরে নরম ও গরম নান বানান সহজে। ছবি: সংগৃহীত।
রুটি বানানোয় পারদর্শী হতেই পারেন। কিন্তু বাড়িতে ভাল নান বানানো সহজ নয়। কবাব থেকে শুরু করে হালিম, পনির বাটার মশালা থেকে চিকেন রেজ়ালা, এই সমস্ত পদের সঙ্গে সাধারণ রুটি বা রুমালি রুটি খেয়ে তৃপ্তি হয় না। নান বা বাটার নানই এই খাবারগুলির সঠিক যুগলবন্দি। কিন্তু ঘরে বানাতে হলে কিছু কিছু ভুল হয়ে যায়। তখন আর রেস্তরাঁর মতো নরম নান বানানো যায় না, ভাল স্বাদও আসে না। তাই ঘরে নান বানানোয় পটু হতে শিখে নিন কয়েকটি টোটকা।
১. সঠিক অনুপাতে ময়দা মেশানো
নানের গঠন ঠিক করতে ময়দার অনুপাত খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই শুধু সাধারণ ময়দা ব্যবহার করেন বা অনুপাত ঠিক রাখেন না। কিন্তু ভাল নান বানানোর জন্য সাধারণ ময়দার সঙ্গে সামান্য ব্রেড ফ্লাওয়ার বা পাউরুটির গুঁড়ো মেশানো যেতে পারে। সাধারণত ১:৩ অনুপাতে ব্রেড ফ্লাওয়ার এবং ময়দা ব্যবহার করলে নান নরম ও ইলাস্টিক হয়। ভুল অনুপাত হলে নান শক্ত হয়ে যায়।
২. ময়দার মণ্ডটি মজানোর জন্য সময়
অনেকেই তাড়াহুড়ো করে ময়দা মেখেই নান বানাতে শুরু করেন। আর সেখানেই বড় ভুল হয়ে যায়। ময়দার তাল ভাল ভাবে মজতে দিতে হবে। কিন্তু তালটি যদি অন্তত ৪-৫ ঘণ্টা বিশ্রাম না পায়, তা হলে তাতে ঠিক মতো গ্লুটেন তৈরি হবে না। এই সময়ের মধ্যে মণ্ডটি নিজে নিজে ফুলেও উঠবে। ফলে নান নরম ও হালকা হবে না। শক্ত হয়ে যাবে।
৩. দই, ইস্ট বা বেকিং পাউডার মেশানো
নান বানানোর ময়দায় সাধারণত দই, ইস্ট বা বেকিং পাউডার মেশানো হয়। কিন্তু অনেকেই বাড়িতে বানানোর সময়ে এই ধাপটি বাদ দিয়ে ফেলেন। এই উপাদানগুলিই মণ্ডটিকে ফোলাতে সাহায্য করে। ফলে নানও বেশ নরম নরম হয়। তবে খুব বেশি ব্যবহার করলে স্বাদ তেতো হতে পারে।
নান বানানোর পন্থা। ছবি: সংগৃহীত
৪. লেচি বেলায় সতর্ক থাকা
অনেকেই নানের লেচি বেলার সময়ে রুটির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। রুটির লেচি পাতলা বেলা হয়, কিন্তু এ ক্ষেত্রে মোটা করে বেলা উচিত। এতে সেঁকার সময়ে ভিতরে বাতাস ঢুকে নান ফুলে ওঠে এবং ভিতরের অংশ নরম হয়। খুব পাতলা করলে সেই ফোলা ফোলা ভাবই আসবে না।
৫. তাওয়ায় তাপমাত্রার দিকে নজর দেওয়া
নানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল হালকা পোড়া দাগ। এটি তৈরি হয় খুব বেশি তাপে রান্না করলে। তাই তাওয়ার তাপমাত্রা কমে গেলে নান শুষ্ক হয়ে যাবে এবং ঠিক ভাবে ফুলবেও না। তাই নান বানানোর সময়ে তাওয়া ভাল ভাবে গরম করা খুব জরুরি।