Fitkari as Deodorant

ঘামের দুর্গন্ধে নাজেহাল আশপাশের সকলে? দাদুর আমলের ফটকিরিই হতে পারে সহায়, জেনে নিন কৌশল

বাজারচলতি অনেক পণ্যে অ্যালকোহল, কৃত্রিম সুগন্ধি এবং বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা সব ত্বকের জন্য উপযুক্ত নয়। এমন পরিস্থিতিতে বহু পুরনো এক ঘরোয়া উপাদানে ফিরে যেতে পারেন, তা হল, ফটকিরি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ ১৩:৫৪
Share:

দুর্গন্ধ তাড়াবে ফটকিরি। ছবি: সংগৃহীত।

গরম পড়তেই ঘাম এবং শরীরের দুর্গন্ধ অনেকেরই বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই ডিয়োডোর‌্যান্ট, বডি স্প্রে বা সুগন্ধির ব্যবহারও বেড়ে যায়। কিন্তু বাজারচলতি অনেক পণ্যে অ্যালকোহল, কৃত্রিম সুগন্ধি এবং বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা সব ত্বকের জন্য উপযুক্ত নয়। তা ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে সুগন্ধি মাখলে তার রেশও বেশি ক্ষণ থাকে না। এমন পরিস্থিতিতে বহু পুরনো এক ঘরোয়া উপাদানে ফিরে যেতে পারেন, তা হল, ফটকিরি। ঠাকুরদার আমলে দাড়ি কামানোর পরে অ্যান্টিসেপ্টিক হিসেবে ব্যবহারের জন্য বাড়িতে সব সময়ে হাজির থাকত খনিজ এই স্ফটিক। ছোটখাটো কাটাছেঁড়াতেও রক্তপাত বন্ধ করার জন্য ব্যবহৃত হত ফটকিরি।

Advertisement

ফটকিরি ব্যবহার করতে পারেন প্রাকৃতিক সুগন্ধি হিসেবে। ছবি: সংগৃহীত

ফটকিরি একটি প্রাকৃতিক খনিজ লবণ। এতে জীবাণুর বৃদ্ধি রোধ করার ক্ষমতা রয়েছে। সাধারণত সাদা বা স্বচ্ছ স্ফটিকের মতো দেখতে এই জিনিসটি খুব কম দামেই বাজারে পাওয়া যায়। স্ফটিক ছাড়াও গুঁড়ো আকারেও বাজারে ফটকিরি পাওয়া যায়।

ফটকিরি কী ভাবে ঘামের গন্ধ দূর করতে পারে?

Advertisement

এতে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল এবং অ্যান্টিসেপ্টিক গুণাবলি। সেখান থেকেই দুর্গন্ধ দূর করার ক্ষমতা তৈরি হয় ফটকিরির। এটি শরীরের দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে, অথচ ঘামের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় না। আসলে ঘাম নিজে খুব বেশি গন্ধ তৈরি করে না। ত্বকের উপরে থাকা ব্যাক্টেরিয়া ঘামের বিভিন্ন উপাদান ভেঙে দুর্গন্ধ তৈরি করে। ফটকিরিতে থাকা জীবাণুনাশক উপাদান সেই ব্যাক্টেরিয়ার বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করতে পারে। ফলে ঘাম হলেও দুর্গন্ধ কম হয়।

ঘামের গন্ধ থেকে মুক্তি পান। ছবি: সংগৃহীত

কী ভাবে ফটকিরি ব্যবহার করবেন?

১. স্নানের পরে একটি ফটকিরির টুকরো পরিষ্কার জলে ভিজিয়ে নিন। তার পর বাহুমূলের ত্বকে আলতো করে ঘষে নিন কয়েক সেকেন্ড। ত্বকের উপরই শুকোতে দিন। শুকিয়ে গেলে পোশাক পরে নিন। ধুয়ে ফেলার প্রয়োজন নেই।

২. কেউ কেউ আবার গুঁড়ো ফটকিরিও ব্যবহার করেন। সে ক্ষেত্রে সেটি মাস্ক হিসেবে মাখতে পারেন। অল্প গোলাপজলের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। তাতে তুলো চুবিয়ে আলতো করে বাহুমূলে ঘষে নিন। তার পর একই ভাবে শুকিয়ে নিয়ে জামা পরে নিন।

সংরক্ষণের নিয়ম কী?

ফটকিরি ব্যবহারের পরে সেটি পরিষ্কার জলে ধুয়ে পুরোপুরি শুকিয়ে রাখতে হবে। না হলে ধীরে ধীরে গলে যেতে পারে। একটি বাক্সে ভরে রেখে দিতে পারেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement