Sunglass Types

'যদি বলো নেতা, সানগ্লাস পরে মারি কেতা', কিন্তু তা পরতে হবে মুখের গড়ন বুঝে, নইলে মাটি সাজ

রোদে বেরিয়ে রোদচশমা পরাই দস্তুর। তা চোখ বাঁচাতে হোক বা ফ্যাশনের জন্য। তবে সানগ্লাস পরলেই হল না, মুখের গড়নের সঙ্গে তা মানানসই হওয়াও জরুরি। মুখাবয়ব কেমন হলে কী ধরনের রোদচশমা আকর্ষণীয় লাগবে, তা জেনে রাখা ভাল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ ০৯:০১
Share:

মুখের আকৃতি বুঝে রোদচশমা কিনুন। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

প্রবল গরমে ডাবের জল, সুতির পোশাক, বাতানুকূল যন্ত্রের মতোই সানগ্লাস প্রায় অপরিহার্য। চিকিৎসকেরা বলেন, রোদ থেকে বাঁচতে রোদচশমা পরতেই হবে। আর ফ্যাশন বলে, এটি পরলে মুখের হাবভাব, সাজসজ্জাই বদলে যাবে। রোদচশমা তো আজকের স্টাইল স্টেটমেন্ট নয়। সে কবে থেকেই ফ্যাশনের সঙ্গে এর নাম ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে গিয়েছে। সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘নায়ক’ সিনেমায় অরিন্দমরূপী উত্তমকুমার সিনেমার একটা বিরাট অংশ জুড়ে সানগ্লাস ব্যবহার করেছেন। ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ ছবিতে জাদুকর বরফিকেও দেখা গিয়েছে বরফি আকৃতির কালো চশমা ব্যবহার করতে। বিশ্ব তোলপাড় করা বহু গান এবং নাচে সানগ্লাস পরিহিত অবস্থাতেই দেখা গিয়েছে মাইকেল জ্যাকসনকে। রুপোলি পর্দার নায়ক-নায়িকা থেকে খেলোয়াড়, গীতিকারদের কাছে রোদচশমাই যেন সাজগোজের এক অন্যতম অঙ্গ হয়ে উঠেছে। সেই সঙ্গে এ কথাও ভুললে চলবে না, রোদচশমা কেবল চোখে পরে নিলেই হল না। তার ধরন বোঝাও জরুরি। গোলপানা মুখ যাঁর, তাঁকে যে সানগ্লাস মানাবে, ডিম্বাকার মুখে তা বেমানান। মুখের গড়ন অনুযায়ী বদলাবে রোদচশমার আকৃতি।

Advertisement

সানগ্লাসের নানা ধরন

অ্যাভিয়েটর সানগ্লাস পাতলা ধাতুর তৈরি। পাইলটদের জন্যই এই ডিজাইনটি করা হয়েছিল। নানা রঙের মিলমিশ থাকে এতে। এর লেন্স চোখকে সম্পূর্ণ ভাবে সুরক্ষা দেয়।

Advertisement

আয়তাকার সানগ্লাস বেশ পরিচিত। এর লেন্স লম্বার চেয়ে চওড়ায় বেশি হয়। কোণগুলি তীক্ষ্ম বা হালকা গোলাকার হয়।

সানগ্লাসের নানা ধরন হয়।

বর্গাকার সানগ্লাস আকারে বড় হয় ও এর চারদিক সমান। কোণগুলি খুব তীক্ষ্ণ হয় না। চারকোনা সানগ্লাস তারকাদেরও বেশির ভাগ সময়েই পরতে দেখা যায়।

রাউন্ড বা গোলাকার সানগ্লাস রেট্রো লুক দেয়। এখন অবশ্য আরও মোটা ফ্রেমের গোলাকার সানগ্লাসও লভ্য।

ক্যাট-আই বা বিড়ালের চোখের মতো আকৃতিটি যেন তৈরিই হয়েছে সানগ্লাসের জন্য! রঙিন ফ্রেম ও উপরের দুই কোনার ডিজাইটি বিড়ালের চোখের মতোই। এটি মেয়েদেরই বেশি মানায়।

জিয়োমেট্রিক সানগ্লাস।

রেট্রো স্টাইলের ক্লাবমাস্টার সানগ্লাস পঞ্চাশের দশকের ফ্যাশনের দুনিয়া কাঁপিয়েছিল। হাফ-রিমলেস ডিজাইনে রহস্যময়তা তৈরি করে। নীচের অংশে কোনও ফ্রেম থাকে না বললেই চলে।

জিয়োমেট্রিক বা জ্যামিতিক নকশার সানগ্লাস ষড়ভূজ, অষ্টভূজ বা ট্রাপিজিয়ামের মতো আকৃতির হয়। দেখতে অত্যন্ত মজাদার এবং আকর্ষণীয়।

কি-হোল ব্রিজ সানগ্লাসের নকশা এমন হয় যে, নাকের অংশটি পুরু ও পুরনো দিনের চাবির ছিদ্রের মতো দেখতে হয়। নাক খুব চওড়া হলে এমন সানগ্লাস বেশ মানাবে।

সানগ্লাস বাছতে হবে মুখের ধরন বুঝে।

ওভারসাইজ়ড বা বড় আকৃতির সানগ্লাস এখন অনেকেই পরেন। এর বড় ফ্রেম চোখকে অনেক বেশি সুরক্ষা দেয়। আবার সত্তরের দশকের ফ্যাশনের কথাও মনে করিয়ে দেয়।

ক্লিপ-অন সানগ্লাস রূপ বদলায়। সাধারণ ফ্রেম থেকে রঙিন ফ্রেমে রূপান্তর সেকেন্ডের অপেক্ষা মাত্র। বাড়ি থেকে সাধারণ চশমা পরেই বেরোলেন, রোদে গিয়েই তা বদলে ফেললেন রোদচশমায়।

কি-হোল সানগ্লাস।

ওয়েফেয়ারার সানগ্লাস বহু পুরনো, অথচ বর্তমান সময়ের ফ্যাশনে এর কদর বেড়েছে। ১৯৫২ সালে রে-ব্যান ব্র্যান্ড এই সানগ্লাসের প্রবর্তন করে। ফ্রেমের ট্রাপিজিয়াম আকৃতি এর ধরনে ভিন্নতা এনেছে। এক সময়ে হলিউডের তারকা ও সঙ্গীতশিল্পীদের ফ্যাশনের অন্যতম অঙ্গ হয়ে ওঠে এই সানগ্লাস।

কোন মুখে কেমন মানাবে?

গোলপানা মুখ

গোল মুখের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ প্রায় সমান থাকে এবং চোয়ালের হাড় বা থুতনি খুব একটা সুচালো হয় না। গালে ফোলা ভাব থাকে। তাই ওয়েফেয়ারার, বর্গকার বা চারকোনা ফ্রেমের অথবা ক্যাট-আই সানগ্লাস এমন মুখে মানাবে।

কী এড়িয়ে চলবেন: সম্পূর্ণ গোল বা ছোট আকারের ফ্রেম একেবারেই পরবেন না। এতে মুখ আরও বেশি গোল দেখাবে।

সানগ্লাসের পুরনো ধরনও জনপ্রিয় হচ্ছে এখন।

পানপাতার মতো মুখ

টানা চোখ ও পানপাতার মতো মুখ বরাবরই সৌন্দর্যের মাপকাঠিতে উপরের দিকেই থাকে। এমন মুখে কপাল ও গালের অংশটি বেশ চওড়া হয়, কিন্তু থুতনিটি সুচালো বা সরু। এমন মুখে অ্যাভিয়েটর, ক্যাট-আই বা চওড়া রাউন্ড ফ্রেমের সানগ্লাস মানাবে।

কী এড়িয়ে চলবেন: ওভারসাইজ়ড সানগ্লাস না পরাই ভাল। এতে কপাল আরও বেশি চওড়া দেখাবে।

চৌকো মুখ

চৌকো মুখে কপাল, গালের হাড় ও চোয়াল, সবই চওড়া হয়। এঁদের চোয়ালের হাড় তীক্ষ্ণ বা কৌণিক হয়। এমন মুখে রাউন্ড বা গোল ফ্রেম, ডিম্বাকার ফ্রেম ও অ্যাভিয়েটর সানগ্লাস মানাবে।

রেট্রো স্কোয়ার বা অ্যাভিয়েটর সানগ্লাসই বেশি পছন্দ দীপিকা পাডুকোনের।

কী এড়িয়ে চলবেন: চারকোনা বা তীক্ষ্ণ কোণযুক্ত জিয়োমেট্রিক ফ্রেম একেবারেই মানাবে না। এতে মুখের কঠোর ভাব আরও বেশি প্রকাশ পাবে।

ডিম্বাকার মুখ

কপাল ও চোয়ালের অংশ সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং গালের হাড় কিছুটা উপরে থাকে। এমন মুখে যে কোনও ধরনের সানগ্লাস মানাবে। তবে ওয়েফেয়ারার, অ্যাভিয়েটর বা আয়তাকার রোদচশমা বেশি আকর্ষণীয় লাগবে।

কী এড়িয়ে চলবেন: ফ্রেমটি যেন খুব বেশি বড় বা ওভারসাইজ়ড না হয়। এতে মুখের গড়ন আড়ালেই চলে যাবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement