কালচে ছোপ হালকা হবে ঘরোয়া পন্থায়। মাখতে হবে কী ? ছবি: সংগৃহীত।
ছাতা, রোদচশমা, সানস্ক্রিন যতই থাক— রোদে ঘোরাঘুরি করলে ট্যান পুরোপুরি এড়ানো কিছুটা কঠিনই। বিশেষত যাঁদের কাজের জন্য বাইরে ঘোরাঘুরি করতে হয়, তাঁদের সমস্যা হয় আরও বেশি।
সমস্যা থাকলে তার সমাধানও থাকবে। বাজারচলতি নানা রকম ডি-ট্যান মাস্ক আছে। কালচে ছোপ তোলার নানা রকম পেশাদার পন্থাও ইদানীং জনপ্রিয় হচ্ছে। তবে চাইলেই সব সময় সালোঁয় যাওয়া যায় না। আবার বাজারচলতি সব মাস্ক সমান ভাবে কার্যকরও হয় না। তা ছাড়া এগুলিতে থাকে নানা রকম রাসায়নিক, তাতে ত্বকের ক্ষতির আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বদলে ভরসা রাখতে পারেন পুরনো পন্থায়। হেঁশেলের নানা উপকরণ ত্বকের পরিচর্যায় ব্যবহার হয়ে এসেছে, নানা সময়ে। বেছে নিতে পারেন এমন কিছুই।
উপকরণ তালিকায় কী কী থাকতে পারে
টক দই: এতে থাকে ল্যাকটিক অ্যাসিড, যা কিছুটা এএইচএ বা আলফা-হাইড্রক্সি অ্যাসিডের মতো কাজ করে। এএইচএ মৃত কোষ ঝরিয়ে ত্বককে উজ্জ্বল করে তোলে। টক দইও কিছুটা তেমন কাজ করে।
বেসন: বেসন ত্বক থেকে তেলময়লা তুলে দিতে দারুণ কাজ করে। কালচে ছোপ দূর হয় বেসনের প্রলেপে। জিনিসটি প্রাকৃতিক বলেই ত্বকের ক্ষতির ঝুঁকি সে অর্থে থাকে না।
পেঁপে: পাকা পেঁপে ট্যান তুলতে দারুণ কার্যকর। এতে থাকা এনজ়াইম বা উৎসচেক ত্বকের কালো ভাব দূর করতে সাহায্য করে। ত্বকে কোমলতা জোগায়।
টম্যাটো: টম্যাটোয় থাকা লাইকোপেন, সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগনি রশ্মি জনিত ক্ষতির হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করে। মুখের কালো ভাব দূর করতে টম্যাটো অত্যন্ত উপযোগী।
কী ভাবে বানাবেন ফেস প্যাক
· ১ টেবিল চামচ টক দই, ১ টেবিল চামচ বেসন এবং ১ টেবিল চামচ কফি গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়ার পরে মিশ্রণটি মুখে ২-৩ মিনিট মাসাজ করে মিনিট ৫ রেখে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২-৩দিন মুখে মাখলেই ট্যান ধীরে ধীরে হালকা হবে।
· ১ টেবিল চামচ পাকা পেঁপের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ দুধ, ২-৩ ফোঁটা মধু মিশিয়ে নিন। ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়ার পরে প্যাকটি মাখতে হবে। ১০-১৫ মিনিট মুখে মাসাজ করে ধুয়ে নিন।
· টম্যাটোর ক্বাথ বার করে তার সঙ্গে মিশিয়ে নিন মধু। এই মিশ্রণটি কিছুটা ব্লিচের কাজ করে। মুখে আলতো করে মাসাজ করে মিনিট পাঁচেক রেখে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে ২-৩দিন ব্যবহার করুন।
ঘরোয়া উপকরণে তৈরি প্যাকগুলি ব্যবহার করলে, ট্যান হালকা হতে থাকবে। তা ছাড়া নিয়ম করে মাখলে নতুন করে ট্যান পড়বে না। মুখ দেখাবে ঝকঝকে।