চুলের যত্নে কাজে লাগান অ্যাভোকাডোর বীজ। বীজ ফোটানো জলেই বৃদ্ধি পাবে কেশ। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
খেতে যেমনই হোক না কেন, পুষ্টিগুণের জন্য আর পাঁচটি ফলের চেয়ে দামি হওয়া সত্ত্বেও অ্যাভোকাডোর কদর বাড়ছে বঙ্গে। ফলটি কেটে চামচের সাহায্যেই বের করে নেওয়া যায় নরম শাঁস। ফ্যাটি অ্যাসিড, মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ফাইবারে পূর্ণ অ্যাভোকোডা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট-সহ নানা পুষ্টিগুণ সম্পন্নও। মাখনের মতোই পাউরুটিতে মাখিয়ে খাওয়া যায় এর শাঁস। তবে চুলের যত্নে শাঁস নয়, তার বীজটুকুই যথেষ্ট। ফলটিতে একটি বড়সড় গোলাকার বীজ থাকে। শাঁস খেয়ে বীজটি ফেলেই দেওয়া হয়। সেটি ফেলে না দিয়েই ব্যবহার করতে পারেন কেশচর্চায়।
বীজ কী ভাবে কাজ করবে?
অ্যাভোকাডোয় রয়েছে প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, কে, বিবিধ অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। ফলের পুষ্টি উপাদানের কিছুটা থাকে বীজেও। সেই কারণেই বীজ ফেলে না দিয়ে তা কেশচর্চায় কাজে লাগানো যায়। দিনে দিনে অ্যাভোকাডোর বীজ দিয়ে চুলের যত্নের জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। ব্যবহারকারীদের অনেকেরই দাবি, এতে চুল নরম এবং মসৃণ হয়। ভাল হয় চুলের বৃদ্ধি। ভিটামিন ই মাথার ত্বকের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ধোঁয়া, ধুলো, দূষণের হাত থেকে মাথার ত্বক এবং চুলকে রক্ষা করে।
বীজের ব্যবহার
চুলের যত্নে বীজের নির্যাস যুক্ত জল ব্যবহার করা যায়। প্রথমেই বীজটি খুব ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে, যাতে শাঁসের অংশবিশেষ লেগে না থাকে। ছুরির সাহায্যে বীজ টুকরো করে বা নোড়া দিয়ে সেটি থেঁতলে ২-৩ কাপ জলে মধ্যম আঁচে ফুটিয়ে নিন। মিনিট ১০-১৫ পরে সেটি ছেঁকে ঠান্ডা করে রাখুন।
· চুলে শ্যাম্পু করে নিন। তার পরে এই জলটি মাথার ত্বকে মাসাজ করে কিছু ক্ষণ রেখে ধুয়ে নিন।
· অনেকে শ্যাম্পু করে চুল মুছে নেওয়ার পরে স্প্রের সাহায্যেও অ্যাভোকাডোর জল ব্যবহার করেন।
· সবচেয়ে ভাল হয় মাথায় স্প্রে করার পর হালকা মাসাজ করে ১৫-২০ মিনিট সেই জল বসতে দিলে। এতে জলের গুণ মাথার ত্বকে পৌঁছয়। তার পর চুল ধুয়ে নিলেই চলবে।
· সপ্তাহে ৩-৫ দিন তা ব্যবহার করতে পারেন। তবে অতিরিক্ত নয়, পরিমিত পরিমাণে। অ্যাভোকাডোর ব্যবহারে রাতারাতি চুলের জেল্লা ফিরবে, এমন নয়। তবে নিয়ম করে মাখলে ধীরে ধীরে রুক্ষ চুল নরম এবং মসৃণ হবে। ভিটামিন, খনিজের গুণে চুলের হাল ফিরবে।