অম্বানী-কন্যার ত্বকচর্চার ধরনধারণ। ছবি: সংগৃহীত।
ভারতীয় পোশাকশিল্পীদের থেকে দেশজ কাপড়ের কদর করতে জানেন শিল্পপতি মুকেশ অম্বানীর কন্যা ঈশা অম্বানী। ভারতীয় ধনকুবেরের কন্যা হয়েও সাজগোজের ক্ষেত্রে নিজেদের শিল্পের উপর ভরসা রাখেন তিনি। ত্বকচর্চার ক্ষেত্রেও ঈশার ধ্যানধারণা খানিক তেমনটাই। কোনও প্রকার পরিচর্যায় বিশ্বাসী নন তিনি। বাহুল্যবর্জিত চর্চার পক্ষপাতী অম্বানী-কন্যা।
অপ্রচলিত ধারায় বিশ্বাসী ঈশা। ছবি: সংগৃহীত
এমন উজ্জ্বল ত্বক, তার নেপথ্যে কি নেই দামি প্রসাধন বা দীর্ঘ রুটিন? ঈশার দাবি, নিখুঁত ত্বকের রহস্য কোনও ক্রিম, সিরাম বা সানস্ক্রিন নয়। বরং, ত্বকের উপর কোনও প্রকার প্রসাধনীর প্রলেপই রাখতে চান না তিনি। অবাক লাগলেও, এই ‘কিছু না করার’ দর্শনই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ফ্যাশন শো বা অনুষ্ঠানের কথা মনে করলে দেখা যাবে, ঈশা কিন্তু প্রবল ঝলমলে সাজ বা উগ্র মেকআপ কখনওই করেন না। তাঁর পছন্দ, ন্যূনতম মেকআপ বা নো-মেকআপ লুক। একই টোটকা অনুসরণ করেন ত্বকের পরিচর্যার ক্ষেত্রেও। তাঁর কথায়, ‘‘শুনে অনেকেরই ভাল লাগবে না। কিন্তু আমার কোনও বিউটি রুটিন নেই। ফেসওয়াশ, ময়েশ্চারাইজ়ার, এসপিএফ— কিচ্ছু ব্যবহার করি না।’’
ঈশার এই অভ্যাস একটি বড় প্রবণতা দিকে ইঙ্গিত করে। আর তা হল, ‘মিনিমাল স্কিন কেয়ার’। অর্থাৎ যত কম ব্যবহার করা যায়, তত ভাল। অনেকেই মনে করেন, ত্বকের নিজস্ব একটি ভারসাম্য থাকে। অতিরিক্ত প্রসাধন সেই ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
কিন্তু প্রশ্ন জাগে, সবাই কি এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারবেন?
ত্বকের প্রয়োজন প্রত্যেকের ক্ষেত্রে আলাদা। অনেকের ক্ষেত্রে কোনও প্রসাধন না ব্যবহার করলেও সমস্যা হয় না, কিন্তু সবার ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। বিশেষ করে সানস্ক্রিন এবং ময়েশ্চারাই়জ়ার বা ন্যূনতম তেল ব্যবহার নিয়ে চিকিৎসকেরা বার বার সতর্ক করেন। সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ত্বকের অকালবার্ধক্য এনে দিতে পারে। পাশাপাশি, মুখে দাগ, ব্রণ, এমনকি গুরুতর সমস্যাও হতে পারে। তাই সানস্ক্রিনকে অনেকেই অপরিহার্য বলে মনে করেন। সে ভাবেই ক্রিম বা তেল না মাখলে ত্বকের শুষ্কতা বেড়ে যায়। তবু ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা সম্ভব, কিন্তু সানস্ক্রিন এই মুহূর্তে বাধ্যতামূলক বলে মনে করছেন চর্মরোগ চিকিৎসকেরা।
তবে, ঈশার স্বীকারোক্তি থেকে একটি কথা স্পষ্ট, কেউ হয়তো খুব কম প্রসাধনেই ভাল থাকেন, কেউ আবার নিয়ম মেনে যত্ন না নিলে সমস্যায় পড়েন। তাই অন্ধ ভাবে কোনও ধারাকে অনুসরণ না করে নিজের ত্বকের ধরন, পরিবেশ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু সানস্ক্রিন মাখা নিয়ে চিকিৎসকের পরার্মশ নেওয়া দরকার। অনেকেই এই ধাপ এড়িয়ে যান, কিন্তু এর ফলেই ত্বকের সমস্যা দিন দিন বাড়তে থাকে। তাই ঈশার টোটকা সকলের জন্য উপযুক্ত নয়।