Juhi Babbar Fashion Tips

নাট্যচরিত্রের পোশাকের নকশা করতে গিয়ে কোন অনুভূতিতে ভেসে যান রাজ-নাদিরার কন্যা জুহি বব্বর?

সুন্দরের ভাষা, নান্দনিক ভাষা, যার আবেদন বিষয় নির্দিষ্ট ক্ষুদ্র ঘেরাটোপে বাঁধা পড়তে নারাজ। শিল্পের এই উদারতাই বয়ে আনে দখিনা বাতাস, তাই নানা মাধ্যমের মাঝে গড়ে ওঠে অর্থবহ সংলাপ।

Advertisement

শর্মিলা বসুঠাকুর

শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ১০:১২
Share:

ফ্যাশন নিয়ে কী ভাবনা জুহির?

ফ্যাশন, অভিনয়, অন্দরসাজ, আপ্যায়ন, ছবি, নাচ, গান আপাতদৃষ্টিতে আলাদা আলাদা মাধ্যম মনে হলেও এদের মাঝে একটা সাধারণ সূত্র আছে। আমার মতে, সেই সাধারণ সূত্র ধরে বিনিসুতোর মালা যিনি গাঁথতে জানেন, তিনিই প্রকৃত শিল্পী। এই সব বিভিন্ন মাধ্যমের ভাষা আলাদা। ছবির ভাষা, গানের ভাষা, অভিনয়ের ভাষা, সাজপোশাকের ভাষা এক নয়, ব্যাকরণ এক নয়। এদের মধ্যে কেউ স্বাবলম্বী, কেউ কেউ আবার একে অপরের আশ্রয় অপেক্ষা করে। কিন্তু তফাৎ যতই থাক না কেন, সব বিভেদ, বিভাজন, ব্যাকরণ ব্যতিরেকে এদের একটা সার্বিক ভাষা আছে, বৈশ্বিক ভাষা আছে, তা হল সুন্দরের ভাষা, নান্দনিক ভাষা, যার আবেদন বিষয় নির্দিষ্ট ক্ষুদ্র ঘেরাটোপে বাঁধা পড়তে নারাজ। শিল্পের এই উদারতাই বয়ে আনে দখিনা বাতাস, তাই নানা মাধ্যমের মাঝে গড়ে ওঠে অর্থবহ সংলাপ।

Advertisement

তাই ফ্যাশনের কলাম লিখতে বসে শুধুই সাজপোশাকের মধ্যে কিছুতেই লেখা বাঁধা পড়তে চায় না। দেখা হল জুহি বব্বরের সঙ্গে। নাদিরা আর রাজ বাব্বরের মেয়ে। আর পাঁচটা বাচ্চার চেয়ে জুহির বেড়ে ওঠাটা অন্য রকম। এনএসডি (ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা) শিক্ষিত মা, বাবা দু’জনেই নাটকের সঙ্গে জড়িত। নিজেদের দল। বাড়িতে রিহার্সাল, স্ক্রিপ্ট রিডিং, মঞ্চের সেট ডিজ়াইন, চরিত্র অনুযায়ী ড্রেস ডিজ়াইন— এই সবের মধ্যেই জুহির বেড়ে ওঠা। “মঞ্চ, অভিনয় আমার প্রথম ভালবাসা হলেও এনএসডিতে পড়তে যাইনি, কারণ এনএসডির দুই মাস্টারমশাই তো আমার বাড়িতেই। তাই মুম্বই নিফট-এ ভর্তি হই ফ্যাশন নিয়ে পড়াশোনা করব বলে। “ফ্যাশন অ্যান্ড কস্টিউমস হ্যাভ অলওয়েজ় বিন মাই সেকেন্ড লাভ”, বলেন জুহি। পেশা হিসেবে ডিজ়াইনিংকে বেছে না নিলেও কাপড়, কাট, স্টাইলিং নিয়ে সব সময়েই ভাবনাচিন্তা চলে। সেই ভাবনার প্রকাশ তাঁর নাটকের পোশাক নির্মাণেও দেখতে পাই আমরা। “থিয়েটারের জন্য পোশাকের নকশা করতে গিয়ে আমি খুবই অনুপ্রাণিত বোধ করি, কারণ সে ক্ষেত্রে কস্টিউম ডিজ়াইনের কাজটি কোনও ব্যক্তিবিশেষের জন্য নয়, বরং একটি চরিত্রের মধ্যে প্রাণ প্রতিষ্ঠার, এক বিশেষ অনুভূতিকে সাকার করার কাজ”, জানান জুহি। তাই তো বলছিলাম, নান্দনিক ভাষা কাঁটাতারের বেড়ার মানে বোঝে না।

জুহিকে বলা মাত্রই রাজি। কলকাতায় ছিল তখন। শুটিংয়ের তারিখ, সময় ঠিক হয়ে গেল। ডেকে নিলাম বিশিষ্ট ডিজ়াইনার পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। হ্যান্ডলুম সিল্ক মটকা, খাদি কটন, জামদানি মোটিফ, বুননে বুটি, জরি স্ট্রাইপের মুন্সিয়ানা পারমিতার কাজে নজর কাড়ে। আমাদের সনাতনী টেক্সটাইল হেরিটেজকে সম্মান জানিয়ে গান বাঁধেন আধুনিক সুরে। তাই আমার মনে হল জুহি আর পারমিতার যুগলবন্দি জমবে ভাল।

Advertisement

ধূসর জমিতে লাল জামদানি বুটির বুননে ‘সর্বজয়া’ ড্রেসের সঙ্গে ‘মুসাফির কেপ’-এর কালার ব্লকিং একে অপরের পরিপূরক। ড্রেস জুড়ে তাঁতে বোনা বুটিতে মায়েদের পরা টাঙ্গাইল শাড়ির হাজার বুটির অনুষঙ্গ। সিল্ক মটকার উজ্জ্বল কেপ সলিড কালার এই ড্রেসের সঙ্গে নিখুঁত লেয়ারিং।

সিল্ক মটকার নীলাম্বরী ‘কোকিলা কুর্তা’-র সারা গায়ে সোনালি বুটি। সঙ্গে ঘের দেওয়া ‘ট্রি অফ লাইফ’ স্কার্ট। স্কার্টে জামদানী মোটিফে কুঁড়ি এবং গাছের কল্পনা। তাই এমন নামকরণ। আবার কালার ব্লকিং এর খেলা।

যে কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম। নানা মাধ্যমের ভাষা আলাদা, কিন্তু আলাদা হয়েও কখন যে তারা মিলেমিশে যায়, একে অপরের সহায়তায় তৈরি হয় অনন্য এক শিল্পের ভাষা, তা শিল্পীরও অজানা। আর সেখানেই শিল্পের ম্যাজিক।

(মডেল: জুহি বব্বর, ছবি: সহেলি দাস মুখোপাধ্যায়, পরিকল্পনা: শর্মিলা বসুঠাকুর)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement