ঘামের সঙ্গে মেকআপ গলে যাচ্ছে? ছবি: সংগৃহীত।
বৈশাখে রোদের তেজ বাড়তে শুরু করেছে। সঙ্গে আর্দ্রতাও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। ভ্যাপসা গরমে বার বার সাজের দফারফা হচ্ছে। মেকআপ করে বাড়ি থেকে বেরোনোর পরই ঘাম, তেল আর আর্দ্রতায় সব গলে যাচ্ছে। তা বলে মেকআপ করা বন্ধ করে দেওয়ার দরকার নেই। এ সময়ে বরং প্রস্তুতি আর পদ্ধতিতে বিশেষ নজর দেওয়া দরকার। সঠিক কৌশল জানলে গরমেও মেকআপ অনেক ক্ষণ টিকে থাকতে পারে। চেহারায় সতেজ ভাবও বজায় রাখা যায় সহজ কিছু নিয়ম মেনে।
গরমের সময়ে এমন ভাবে মেকআপ করা দরকার, যাতে ঘামের চোটে ফাউন্ডেশন, কাজল, আইলাইনার গলে গলে না পড়ে। আর তাই গরম ও আর্দ্রতার সঙ্গে যুঝতে ঘাম শুষে নেওয়ার পদ্ধতি শিখে নেওয়া দরকার।
গরমে মেকআপ টিকিয়ে রাখার কৌশল। ছবি: সংগৃহীত
গরমের সময়ে মেকআপ করার কৌশল—
১. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরু হয় মেকআপের আগেই। ত্বককে আগে থেকেই ঠান্ডা রাখা গেলে ঘাম কম হবে। বরফ বা আইস রোলার দিয়ে মুখ ঠান্ডা করলে ঘামগ্রন্থির কার্যকলাপ কিছুটা কমে এবং ত্বক কম তৈলাক্ত হয়। ফলে মুখে মেকআপ বসবেও ভাল ভাবে।
২. এর পর ত্বকচর্চার ধাপ। ভারী, তেলচিটে ক্রিম এড়িয়ে হালকা টেক্সচারের ময়েশ্চারাইজ়ার ব্যবহার করা উচিত। জেল-ভিত্তিক ঠান্ডা ময়েশ্চারাইজ়ার সবচেয়ে ভাল কাজ করে। অথবা এমন লোশন ব্যবহার করা উচিত, যাতে ত্বক থেকে তেল দূর হতে পারে।
৩. তার পর সানস্ক্রিন অবশ্যই লাগাতে হবে। জলভিত্তিক সানস্ক্রিন অনেক সময়ে প্রাইমারের মতো কাজ করে এবং মেকআপকে মুখে বসে থাকতে থাকতে সাহায্য করে।
৪. এ বার শুরু হবে মেকআপ। তার জন্য সঠিক প্রসাধনী বেছে নেওয়া দরকার সবার আগে। যদি ফাউন্ডেশন ব্যবহার করেন, তা হলে অবশ্যই ম্যাট ফিনিশের হতে হবে, যা গালের উপর চকচক করবে না। এতে ত্বক কম ঘামে এবং মেকআপ গলে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে।
৫. মেকআপের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল হল ভারী লেয়ার তৈরি করা। তাই এর পর ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার দিয়ে সেট করলে অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৬. তার পর সেটিং স্প্রে এবং ম্যাটিফাইয়িং পাউডার ব্যবহার করবেন। এতে ঘামও কমে যাবে এবং চেহারায় ম্যাট ফিনিশও আসবে। এগুলি মেকআপকে লক করে রাখে এবং ঘামের প্রভাব অনেকটাই কমায়।
৭. যদি তবু ঘাম হয়, তা হলে অবশ্যই ব্লোটিং পেপার সঙ্গে রাখবেন। ত্বকের উপর চেপে ধরলে মুখ থেকে অতিরিক্ত ঘাম শুষে নেবে।
তবে যদি খুব বেশি ঘাম হয়, সেই প্রবণতাকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। অতিরিক্ত ঘাম অনেক সময়ে হাইপারহাইড্রোসিসের লক্ষণও হতে পারে, যা উত্তাপ, ঝাল খাবার বা মানসিক চাপের কারণে বাড়ে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সঠিক পথ।