ভ্রু নিখুঁত করার প্রক্রিয়াটি কতটা বেদনাদায়ক? ছবি: সংগৃহীত।
আঁকা ভ্রু নয়, বাঁকা ভ্রু। তা-ও আবার প্রাকৃতিক ভাবে ঘন রোমে ঢাকা। অনেকেরই এমন সুন্দর ভ্রু নিয়ে জন্মান। তবে অনেকের তা থাকেও না। তাঁরা ঘন ভ্রুয়ের সৌন্দর্য পেতে সাহায্য নেন ভ্রু আঁকার। সম্প্রতি ঊর্মিলা মাতোন্ডকর সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো ভাগ করেছেন, সেখানে দেখা গিয়েছে তিনি ভ্রু নিখুঁত করার ট্রিটমেন্ট করাচ্ছেন।
নিজের নতুন লুকের ছবি ভাগ করে নিয়ে অভিনেত্রী বেজায় খুশি। তিনি লিখেছেন, ‘‘ভ্রু ঠিক করানোর বিষয়টি নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ ছিল। আমি মুখে কোনও কিছু করাতে দ্বিধা বোধ করি, কারণ মুখে অতিরিক্ত কিছু আমার পছন্দ নয়। ব্যক্তিগত ভাবে আমি মেকআপ ব্যবহার করতেও পছন্দ করি না… তবে, নিজের নতুন লুকটা আমার দারুণ লাগছে। এখন আর মুখে কিছু লাগানোর প্রয়োজন হয় নেই, কারণ আমার ভ্রু দুটি আমার মুখটাকে খুব সুন্দরভাবে ফ্রেম করে দিয়েছে।’’ বার বার ভ্রু আঁকার ঝক্কি এড়াতে অনেকেই এখন ঊর্মিলার মতো কসমেটিক সার্জনদের কাছে গিয়ে ‘আইব্রো ফিলার’ করাচ্ছেন। বিভিন্ন উপায় ভ্রুকে সুন্দর করার প্রক্রিয়াটি করা হয়।
ভ্রুকে সুন্দর ভাবে এঁকে দিতে শল্যচিকিৎসকেরা মাইক্রোব্লেডিং, মাইক্রোশেডিং, ব্রো ল্যামিনেশন, টিন্টিং— এই চার প্রক্রিয়ার সাহায্য নেন। কোনও কোনও প্রক্রিয়ার স্থায়িত্ব বেশি, তাই খরচও বেশি।
কী কী লাভ হয়?
১) ভ্রু প্লাক করার প্রক্রিয়াটি বেশ যন্ত্রণাদায়ক। তার উপর মেকআপের সময়ে ভ্রু নিখুঁত করতে গিয়েও বেশ অনেকটা সময় খরচ হয়। এর বদলে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে এক বার আইব্রো ফিল করিয়ে নিলে ১ থেকে দেড় বছর আর কোনও সমস্যাই নেই। কোনও রকম ঝক্কি ছাড়াই সুন্দর দেখায় ভ্রু।
২) কোনও রকম যন্ত্রণা ছাড়াই হয়ে যায় ভোলবদল। এই প্রক্রিয়াটি করাতে অনেকেই ভয় পান যন্ত্রণার কথা ভেবে। তবে এ ক্ষেত্রে যন্ত্রণা ছাড়াই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
৩) অনেক সময়ে মেকআপের প্রসাধনী দিয়ে ভ্রু মোটা করলে তা কৃত্রিম দেখতে লাগে। তবে এ ক্ষেত্রে দেখে মনে হবে, আপনার ভ্রুটাই ভীষণ নিখুঁত। কোনও রকম কৃত্রিম ব্যাপার চোখে পড়ে না।
৪) প্রক্রিয়াটি করাতে ২-৩ ঘণ্টা সময় লাগে। তাই খুব বেশি সময়সাপেক্ষ নয় বিষয়টি।
৫) ঘাম, জল, মেকআপ কোনও কিছুই কৃত্রিম ভাবে আঁকা ভ্রুতে কোনও প্রভাব ফেলবে না। তাই নিশ্চিন্তে করানো যেতেই পারে।
কী ভাবে করা হয় আইব্রো মাইক্রোব্লেডিং প্রক্রিয়া?
প্রথমে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে নিজের পছন্দ-অপছন্দের কথা খুলে বলতে হবে। কতটা মোটা বা ঘন ভ্রু চাইছেন, বা আদৌ কী ধরনের আকার আপনার মুখের সঙ্গে মানানসই হবে, সে বিষয়ে খোলাখুলি আলোচনার পর শুরু হয় গোটা প্রক্রিয়া। চিকিৎসক প্রথমে ভ্রুটি ভাল ভাবে পরিষ্কার করে সেই জায়গায়টি অবশ করার জন্য বিশেষ ক্রিম ব্যবহার করেন। তার পর বিশেষ টুল দিয়ে রোমের মতো স্ট্রোক টানা হয়। প্রক্রিয়া শেষে কয়েক দিন একটু যত্ন নিতে বলা হয়। ৪-৬ সপ্তাহ পর আবার ডাকা হয় রিফিলিংয়ের জন্য। এই প্রক্রিয়াটি করতে মোটামুটি আট থেকে দশ হাজার টাকা খরচ পড়ে। ক্লিনিক ভেদে খরচের ফারাক থাকেই।
কারা করাবেন না?
১) যাঁদের সানবার্ন হয়েছে। অর্থাৎ রোদের কারণে চামড়া পুড়ে গিয়েছে।
২) যাঁদের কেমোথেরাপি চলছে।
৩) যাঁরা শিশুকে স্তন্যপান করান।
৪) শরীরে যদি সংক্রমণযোগ্য রক্তের রোগ থাকে।
৫) এগজ়িমা, শিঙ্গলসের মতো চর্মরোগ থাকলে।