Haircare 3.0

বদলাচ্ছে কেশচর্চার ভাবনা, চুল ভাল রাখতে শ্যাম্পু কেন যথেষ্ট নয়? কেন দরকার ‘হেয়ারকেয়ার ৩.০’

প্রতিশ্রুতি নয়, বরং চুলের প্রকৃত অর্থেই যত্ন নিতে বদলাচ্ছে কেশচর্চার পন্থা। তেমনই একটি ধারা ‘হেয়ারকেয়ার ৩.০’। কী এর উদ্দেশ্য?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ ১৮:১২
Share:

কেশচর্চার নতুন ধারা, চুল ভাল রাখতে নজরে থাকবে কী? ছবি:সংগৃহীত।

চুল ভাল রাখতে, মসৃণ করতে বাজারে রয়েছে কেশচর্চার রকমারি প্রসাধনী। রয়েছে শ্যাম্পুও। কোনওটি কেরাটিন প্রোটিনের জোগান দিয়ে চুল মসৃণ করার দাবি করে, কোনটি আবার চুল জটমুক্ত রাখার বিজ্ঞাপন প্রচার করে।

Advertisement

শ্যাম্পু-সহ কেশচর্চার রকমারি প্রসাধনীতেই জুড়ছে এখন মসৃণ, নরম, গভীরে গিয়ে চুলের যত্ন নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া শব্দবন্ধ।কিন্তু তাতেই কি চুলের হাল ফেরে? প্রতিশ্রুতি নয়, বরং চুলের প্রকৃত অর্থেই যত্ন নিতে বদলাচ্ছে কেশচর্চার পন্থা। তেমনই একটি ধারা ‘হেয়ারকেয়ার ৩.০’।

রোদের তাপ, মরসুম ভেদে তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার ফারাক, অতিবেগনি রশ্মি, অফিসে এসির শুষ্ক ঠান্ডা হাওয়া— নিয়মিত এই সবই সহ্য করতে হয় চুলকে। ফলে রুক্ষ চুল, জট, ডগা ফাটা, চুল ঝরা হয়ে ওঠে সাধারণ সমস্যা। আধুনিক কেশচর্চার ধারণাটি চুলের বাহ্যিক সৌন্দর্যবৃদ্ধির বদলে কেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে জোর দেয়। মাথার ত্বকের যত্ন নেওয়াতে গুরুত্ব দেয়, যাতে চুল প্রকৃত অর্থেই হয়ে ওঠে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।

Advertisement

এমন কেশচর্চা তিনটি স্তম্ভের উপরে দাঁড়িয়ে। তার একটি স্তম্ভ হল ‘বায়োমিমেটিক রিপেয়ার’। যেখানে প্রযুক্তির সাহায্যে চুলের নিজস্ব কেরাটিনের মাত্রা ঠিক করার কথা বলা হচ্ছে। দ্বিতীয় স্তম্ভটি হল, ‘অ্যাডপটিভ হাইড্রেশন সিস্টেম’, এই পন্থা বলে চুলে আর্দ্রতার বর্ম সুনিশ্চিত করা দরকার। তৃতীয়টি হল, সুরক্ষা বর্ম বা চুলের কিউটিকল স্তরটি মজবুত রাখা যাতে তা রোদ, ধোঁয়া, দূষণের হাত থেকে চুলকে রক্ষা করতে পারে। এই ত্রিস্তরীয় কেশচর্চাকেই বলা হচ্ছে ‘হেয়ারকেয়ার ৩.০’।

একটি জনপ্রিয় চুলের প্রসধানী সংস্থার এগজ়িকিউটিভ ডিরেক্টর জিগর রাভারিয়া এক সাক্ষাৎকার জানাচ্ছেন হেয়ারকেয়ার ৩.০ –এর ভাবনা রূপচর্চা থেকেই অনুপ্রাণিত। হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বকের যত্নে জরুরি উপাদান। তেমনই ত্বকের জন্য যা ভাল, তার মধ্যে থেকে কিছু উপাদান কেশচর্চাতেও কাজে আসতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিচ্ছেন চুলের সুরক্ষাতেও। চুলের উপরিস্তর বা কিউটকল স্তর স্বাস্থ্যোজ্জ্বল থাকলে, ধুলো, রোদে চুলের ক্ষতি হয় কম। কিন্তু কিউটিকলের বর্ম ভেঙে পড়লেই চুল সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

কেরাটিন কেন জরুরি

চুলের অন্যতম জরুরি প্রোটিন হল কেরাটিন। অতিরিক্ত তাপ, দূষণ, বার বার বৈদ্যুতিক যন্ত্র প্রয়োগে কেশসজ্জা, চুলে রঙের ব্যবহারে কেরাটিনের আস্তরণ নষ্ট হতে থাকে। ফলে চুল রুক্ষ এবং দুর্বল হয়ে পড়ে। শ্যাম্পুতে থাকা বেশ কিছু কেশচর্চা প্রসাধনী উপর থেকে কেরাটিনের পরত দিয়ে চুল নরম রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু এতে চুলের ক্ষতি আটকায় না। তার বদলে চুল কী ভাবে ভিতর থেকে রক্ষা করা যায়, চুলের ক্ষতি আটকানো যায়, তা নিয়ে ভাবনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ‘বায়োমিমেটিক রিপেয়ার টেকনোলজি’-জনপ্রিয় হচ্ছে, যার মাধ্যমে চুলের দীর্ঘ দিনের সমস্যার সমাধান সম্ভব। এই পন্থা, চুলকে ভিতর থেকে শক্তিশালী করার উপায় বলে।

চুলের জন্য হাইড্রেশন

ত্বকের যত্নে আর্দ্রতা নিয়ে বার বার কথা হয়। শুধু ত্বক নয়, চুলের জন্যও হাইড্রেশন বা আর্দ্রতা জরুরি। আর্দ্রতার অভাব হলে চুল রুক্ষ হয়ে পড়বে, ডগা ফাটবে। আবার আর্দ্রতা বেশি হলে চুলের ফোলা বা ফাঁপা ভাব কমে যাবে। সুতরাং চুলের জন্য আর্দ্রতা যতটা জরুরি, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ তার ভারসাম্য ঠিক রাখা।

কিউটিকলের বর্ম

চুলের বাইরের স্তর বা কিউটিকল মজবুত থাকলে চুলের ক্ষতি হয় কম।

রকমারি শ্যাম্পুতে কেরাটিন-সহ নানা উপকরণ সংযুক্তকরণের দাবি করা হয়। তাতে চুল কিছুটা নরম, মসৃণও হয়। তবে তা বাহ্যিক এবং সাময়িক। চুলের উপর ময়েশ্চারাইজ়ারের বর্ম থাকলে চুল মসৃণ দেখাবে। কিন্তু প্রশ্ন হল, চুল কি ভিতর থেকেও আর্দ্র রয়েছে? কেশচর্চা শিল্পীদের কথায়, দেওয়ালে ফাটল ধরলে, বাইরে থেকে তাপ্পি দিয়ে তা ঢেকে দেওয়া যায়, কিন্তু তাতে ফাটল ভরে না। আবার সেই বিশেষ কৌশলে সেই ফাটল সারাই করা যায়। নতুন কেশচর্চার ধারাটি দ্বিতীয় পন্থায় বিশ্বাস করে।

তাই নতুন কেশচর্চার মূল ধারণাই হল চুলের জন্য সঠিক উপাদান বাছাই। যদি চুল মজবুত হয়, ময়েশ্চারাইজ়ারের মাত্রা ঠিক থাকে, সুরক্ষাবর্ম ভেঙে না পড়ে, তা হলেই সুন্দর কেশপ্রাপ্তি হবে। সুতরাং কেউ কোনও প্রসাধনী মাখছেন বলে নয়, চুলের সমস্যা বুঝে তার প্রতিকার করা উচিত। নজর দেওয়া দরকার, যাতে কেশ সুরক্ষার বর্মে থাকে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement