বসন্ত উৎসবে চলছে আবির খেলা। রবিবার, ময়দানে। ছবি: বিশ্বনাথ বণিক।
কিশোরের চোখের সমস্যা শুরু হয়েছিল দোলের দিন বিকেল থেকে।অঝোরে জল পড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখ ক্রমশ লাল হয়ে যাচ্ছিল। সময় গড়াতে অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়। চোখ ফুলে গিয়ে অবস্থা এমন হয় যে, তা খুলে রাখা দুষ্কর। শেষে একাধিক চিকিৎসকের পরামর্শ, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরে পরিস্থিতি কিছুটা সামলানো গিয়েছিল।
প্রতি বছর দোল বা হোলির পরে এই ধরনের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালগুলিতে বিভিন্ন
বয়সিদের ভিড় দেখা যায় বলে জানাচ্ছেন চক্ষু চিকিৎসকেরা। এ বছরও একই আশঙ্কা থাকছে। তাই রঙের উৎসবে শামিল হওয়ার আগে চোখ নিয়ে সতর্ক থাকার কথা বলছেন চিকিৎসকেরা। উৎসবের রং চোখে নয়, মনেই লাগানোর পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।
আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ ইন্দ্রিয় চোখ। দোলের সময়ে সতর্ক না হলে চোখে রং গিয়ে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। হারাতে হতে পারে দৃষ্টিও। দোল বা হোলিতে সাধারণত বিভিন্ন রঙের আবির এবং জলরং ব্যবহৃত হয়। এই দু’ধরনের রঙেই বিপদ লুকিয়ে আছে বলে জানাচ্ছেন চক্ষু চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাজারচলতি বিভিন্ন রঙের আবিরে সাধারণত বিভিন্ন ধাতব পদার্থ মেশানো থাকে। ক্ষতিকর সিসা, কপার সালফেট-সহ বিভিন্ন রাসায়নিকযুক্ত আবির চোখে গেলে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। শুধু আবির নয়, জলরঙে থাকা বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিকও চোখের জন্য সমান ক্ষতিকর।
চক্ষু চিকিৎসক জ্যোতির্ময় দত্ত জানাচ্ছেন, আবির বা এই জাতীয় রঙে যে রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, সেগুলি মূলত ক্ষারধর্মী। এই রাসায়নিকগুলির কোনওটিই চোখের জন্য ভাল নয়। তাঁর কথায়, ‘‘এই রাসায়নিকগুলো চোখে ঢুকলে প্রথমে চোখ থেকে জল পড়া, চোখ ব্যথা বা কড়কড় করার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। অনেকের ক্ষেত্রে আবার চোখে জ্বালা ভাব, চুলকানি হয়। এই রাসায়নিকের প্রভাবে চোখে কেমিক্যাল কনজাংটিভাইটিস, কর্নিয়া ছড়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এমনকি, দৃষ্টিশক্তিও চলে যেতে পারে। তাই সতর্ক থাকতেই হবে।’’
চিকিৎসকেরা তাই দোল বা হোলিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত রং থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে, বাড়ির ছোটদের জন্য বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। দোলের দিন যদি বাইরে বেরোতেই হয়, সে ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি বলে তাঁরা জানাচ্ছেন। রোদচশমার পাশাপাশি টুপি পরে বেরোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। চক্ষু চিকিৎসক সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘দোলের দিন যে কোনও সময়ে যে কেউ আবির বা বেলুন ভর্তি রং ছুড়তে পারে। তাই চোখ কোনও সময়ে খালি রাখা চলবে না। বাইরে বেরোলেই রোদচশমা পরতে হবে। যাঁরা নিয়মিত লেন্স পরেন, তাঁদের অবশ্যই লেন্স খুলে রেখে বেরোতে হবে। কোনও ভাবে যদি চোখে রং বা আবির ঢুকে যায়, সে ক্ষেত্রে
তাড়াহুড়ো না করে প্রথমে ঠান্ডা জলে চোখ ধুয়ে নিতে হবে। কোনও রকম ঝাপটা দেওয়া যাবে না। বাড়াবাড়ি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে