বিদ্যুতের বিল নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
উর্ধ্বমুখী তাপমাত্রা। বাড়ছে অস্বস্তি। গরম থেকে বাঁচতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্রের উপর নির্ভরশীল অনেকেই। বাড়িতে, গাড়িতে, অফিসে এসি চালিয়ে অস্বস্তি কমানোর চেষ্টা চলছে চারদিকে। এ দিকে বিদ্যুতের বিলও বেড়ে চলেছে। মাসের শেষে কপালে হাত পড়বে মধ্যবিত্তের। তাই আগে থেকেই সতর্ক থাকা দরকার। গরম পড়েছে মানেই বিদ্যুতের বিল বাড়বে, এ সত্যের সঙ্গে আপস না করে বরং কয়েকটি ছোট অভ্যাস বদলে ফেলুন। তাতে বিদ্যুতের বিল খানিক পরিমাণে কমতে পারে। কিছু সহজ অভ্যাস বদলালেই ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ কমানো যায়। এসি চালানোর সময়ে কিছু বিষয় তাই মাথায় রাখতে হবে।
এসি চালানোর কৌশল শিখে নিন। ছবি: সংগৃহীত
বিদ্যুতের বিল কমানোর জন্য কোন কোন বিষয়ের দিকে নজর দেবেন?
১. এসি-র তাপমাত্রা স্থির করা: অনেকেই ভুল করে এসি-র তাপমাত্রা ১৮-২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে দেন। এতে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয় বটে, কিন্তু যন্ত্রের উপর চাপ বাড়ে। আদর্শ তাপমাত্রা হল, ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা এর আশেপাশে রাখলে ধীরে ধীরে ঘর ঠান্ডা হতে থাকে, কম বিদ্যুৎ খরচ হয় এবং স্বস্তিও মেলে।
২. পাখার ব্যবহার: এর পাশাপাশি সিলিং ফ্যানও চালানো দরকার। এসি থেকে বেরোনো ঠান্ডা বাতাসকে সারা ঘরে ছড়িয়ে দিতে ফ্যানের গুরুত্ব অপরিসীম। ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসি চালিয়েও ২০ ডিগ্রির ঠান্ডা অনুভূত হবে।
৩. পর্দার ব্যবহার: বাইরের গরম বাতাসের আঁচ ঘরের ভিতরে প্রবেশ করা থেকে আটকাতে হবে। জানালা দিয়ে রোদ ঢুকলে ঘরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং এসি-তে বেশি চাপ পড়ে। তাই দিনের বেলা পর্দা টেনে রাখা বা সূর্যালোক আটকানো খুবই জরুরি।
৪. জানলা-দরজার বন্দোবস্ত: পর্দা দিয়ে আলো ঢেকে রাখার পাশাপাশি দরজা-জানলাগুলিকে বায়ুনিরোধী হতে হবে। এসি-ও চলছে, ও দিকে জানলা ও দরজা দিয়ে সমানে গরম হাওয়া প্রবেশ করছে— এমন পরিস্থিতিতে এসি ভাল কাজ করতে পারে না। যন্ত্রের উপর বেশি চাপ পড়ে এবং বিদ্যুতের বিলও বেশি আসে।
৫. এসি-র যত্ন নেওয়া: মাসে এক বার করে অন্তত এসি-র ফিল্টার বা বাইরের জালটি পরিষ্কার করতে হবে। যদি গরমের সময়ে সারা দিন এসি চালানোর অভ্যাস থাকে, তা হলে অবশ্যই ১৫ দিন অন্তর যন্ত্রটি পরিষ্কার করানো দরকার। আর এই ঋতু চলাকালীন অন্তত এক বার পেশাদারের সাহায্য নিয়ে সার্ভিসিং করানো উচিত। এসি-র গ্যাস কমে গিয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া দরকার। সময়মতো সার্ভিসিং বা পরিষ্কার না করালে মেয়াদ কমতে থাকে যন্ত্রের। এতে বাতাস চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং বিদ্যুতের খরচ বেড়ে যায়।