পুরুলিয়ায় শিশু মৃত্যু চলছেই

ফের গত ২৪ ঘণ্টায় সাত শিশুর মৃত্যু হল পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো সদর হাসপাতালে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বেলা ১২টা থেকে রবিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সাতটি শিশু মারা যায়। এই নিয়ে গত ৯৬ ঘণ্টায় এই হাসপাতালে ১৮টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০১৫ ০৪:২৭
Share:

ফের গত ২৪ ঘণ্টায় সাত শিশুর মৃত্যু হল পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো সদর হাসপাতালে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বেলা ১২টা থেকে রবিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সাতটি শিশু মারা যায়। এই নিয়ে গত ৯৬ ঘণ্টায় এই হাসপাতালে ১৮টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

Advertisement

হাসপাতাল সূত্রের খবর, যে সাতটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে দু’জনের বয়স কমবেশি ছয় মাস। বাকি পাঁচ শিশু সদ্যোজাত। নবজাত শিশুর পরিচর্যা কেন্দ্রে শয্যা খালি না থাকায় ওই শিশুদের এই বিভাগে ভর্তি করনো যায়নি। উল্লেখ্য নবজাত শিশুর পরিচর্যা বিভাগে আগে ১৪টি শয্যা থাকলেও কিছুদিন আগে শয্যার সংখ্যা বাড়িয়ে ৩২ করা হয়। তারপরেও এখনও বহু অসুস্থা শিশুকে সেখানে জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতালের এক চিকিৎসকের কথায়, ‘‘শিশুবিভাগে এতটাই চাপ রয়েছে যে সে তুলনায় শয্যার সংখ্যা খুবই কম।’’ হাসপাতালের সুপার নীলাঞ্জনা সেন সাত শিশুর মৃত্যুর কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘গত ২৪ ঘণ্টায় যে সাতটি শিশু মারা গিয়েছে তাদের মধ্যে দু’জনের বয়স ছিল কমবেশি ছয়মাস। তারা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিল। আর বাকি পাঁচটি শিশুর ওজন কম ছিল। ফলে তারা জন্মগত শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছিল।’’ এই হাসপাতালে ৯৬ ঘণ্টায় ১৮টি শিশুর মৃত্যু সম্পর্কে সুপারের প্রতিক্রিয়া, ‘‘এই মৃত্যুকে ক্লাস্টার এফেক্ট বলা হয়। একসঙ্গে এতজন সদ্যোজাত এবং কম ওজনের শিশু নিউমোনিয়া বা জন্মগত শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিল। ফলে একসঙ্গে অনেকগুলি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।’’ তিনি কোনও ভাবেই এই মৃত্যুর সঙ্গে হাসপাতালের গাফিলতির অভিযোগ মানতে নারাজ।

উল্লেখ্য, পরপর শিশুমৃত্যুর ঘটনার জেরে শনিবার এসইউসি পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখায়। রবিবার কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, সোমবার তারা সুপারের সঙ্গে দেখা করবেন। হাসপাতালের শিশু বিভাগের এক চিকিৎসকের কথায়, ‘‘সমস্যার সমাধান হতে পারে তখনই, যদি কোনও মহিলা গর্ভবতী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই মহিলাকে যত্ন করা যায়। তাহলেই কম ওজনের শিশুর জন্ম নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।’’

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement