শারাপোভা।
সবুজ ঘাসের কোর্টে দুধসাদা কিমোনো পরে এসে দাঁড়ালেন। র্যাকেট নিয়ে একটু হালকা কসরত। ব্যস, সে দিনের মতো সেরা ফ্রেমটা পেয়ে গিয়েছেন চিত্রগ্রাহকেরা। জাপানের সনাতন পোশাকে উইম্বলডন কোর্টে এসেছিলেন নেওমি ওসাকা। টেনিস র্যাঙ্কিয়ের প্রাক্তন এক নম্বর বরাবরই ফ্যাশনিস্তা। তবে মাতৃত্বকালীন অবসর কাটিয়ে কোর্টে ফিরে নিজেকে নতুন রূপে মেলে ধরেছেন নেওমি। উইম্বলডন চলছে, জেতা-হারার চেয়েও ম্যাচের দিনগুলোয় নেওমি কোন পোশাক পরবেন, তা নিয়ে চর্চা বেশি। গত জুনে জার্মানির এক টুর্নামেন্টে বাদামি সিকুইনড লম্বা ট্রেলের পোশাক পরে চমকে দিয়েছিলেন। একবার পরেছিলেন নিয়নরঙা স্কার্ট, তার পিছন দিকে বিরাট বো, তা নিয়েই একের পর এক দুরন্ত শট মেরেছেন। নেওমির সাজপোশাক নিয়ে ফ্যাশন দুনিয়া যতই উচ্ছ্বসিত হোক না কেন, অন্যান্য খেলোয়াড়েরা আপত্তি তুলেছেন। জার্মান খেলোয়াড় লরা সিগমুন্ড বলেছেন, “টেনিস কোর্ট ফ্যাশনের মঞ্চ নয়।” নেওমির সাজপোশাক দেখানো এবং সেটা বদলে ফেলার জন্য সময় নষ্ট হচ্ছে বলে আপত্তি জানিয়েছেন আরও অনেকে।
নেওমি।
টেনিসের সঙ্গে ফ্যাশন-যোগ নতুন নয়। সময়ের সঙ্গে সেই পোশাকে বিবর্তন এসেছে। টেনিস-ফ্যাশন নিয়ে চর্চা হলে বাদ দেওয়া যাবে না ফরাসি প্লেয়ার সুজ়ান ল্যাঙ্গলেনকে। ১৯২১-’২৬ পর্যন্ত টানা এক নম্বর স্থান ধরে রেখেছিলেন তিনি। সেই সময়ের নিরিখে সুজ়ানকে ফ্যাশনিস্তা বলা চলে। তবে ওই সময়ে স্কার্টের ঝুল থাকত হাঁটুর নীচে। স্কার্টের নানা রকম কাট, উপরের অংশে বড় হাতার টপ, সোয়েটার, জ্যাকেট দিয়ে স্টাইল করতেন সুজ়ান। তারও আগে মহিলা টেনিস প্লেয়াররা গোড়ালি পর্যন্ত ঝুলের লং ড্রেস পরেই পেশাদার ম্যাচ খেলতেন। মোটামুটি চল্লিশের দশক থেকেই স্কার্টের ঝুল ছোট হতে থাকে। ডিভাইডেড স্কার্ট কিংবা লং শর্টসও পরতে দেখা গিয়েছে খেলোয়াড়দের। পরবর্তী কালে পোলো টি-শার্ট-মিনি স্কার্ট, ব্যান্ডানা— দীর্ঘ সময় ধরে টেনিস-ফ্যাশনের সিগনেচার স্টাইল হয়ে থেকে গিয়েছে।
সুজ়ান।
সময়ের সঙ্গে প্রচারের আলো বেড়েছে। টেনিস তারকা, তাঁদের পোশাক নিয়ে আলোচনা বেড়েছে। স্টেফি গ্রাফ ফ্যাশন আইকন ছিলেন না, কিন্তু তাঁর সহজাত সৌন্দর্য চর্চিত হত। ফ্লোরাল প্রিন্টের স্কার্ট-টপ, হাতে ঘড়ি, চোখের উপরে পড়া অবাধ্য চুল আটকাতে সাদা ব্যান্ডানা... এতেই লক্ষ হৃদয় আলোড়িত! দর্শকাসন থেকে ভক্তের চিৎকার, ‘স্টেফি, আমাকে বিয়ে করবে?’ তাঁর ফোরহ্যান্ডের মতোই সপাট জবাব, ‘কত টাকা আছে তোমার?’
স্টেফি।
তবে টেনিস আর ফ্যাশনকে মিলিয়ে দেওয়ার কৃতিত্ব পাবেন উইলিয়ামস বোনেরা। উজ্জ্বল রঙিন জামা, চুলে রঙিন বিডস, রঙিন চুল... সেরিনা আর ভিনাস উইলিয়ামস পাওয়ার টেনিস আর পাওয়ার ড্রেসিং— দুটোই নিয়ে এলেন কোর্ট-রুমে। ব্যালে, ডেনিম নানা ধরনের স্কার্ট পরতেন সেরিনা। টেনিস তারকাদের মধ্যে সেরিনা আর ভিনাস দু’জনেই মেট গালার রেড কার্পেটে নিয়মিত। উইলিয়ামস বোনেদের পর এলেন মারিয়া শারাপোভা। তত দিনে টেনিসে বিপণন একেবারে জাঁকিয়ে বসেছে। টেনিসকোর ফ্যাশন বাজারে ট্রেন্ডিং। প্লিটেড মিনি স্কার্ট কিংবা এ-লাইন টেনিস ড্রেস কমবয়সিদের রোজকার পোশাক হয়ে গিয়েছে। ট্যাঙ্ক টপ, স্টাইলিশ স্কার্ট, গলার সরু চেনে ক্রস লকেট... রাশিয়ান তারকা শারাপোভা তাঁর খেলার চেয়ে ফ্যাশন আর সৌন্দর্যের জন্য বেশি খ্যাত। ভারতীয় টেনিস তারকা সানিয়া মির্জ়া যেমন চর্চিত ছিলেন তাঁর নোজ় রিংয়ের স্টাইলে।
ফেডেরার।
মেয়েদের স্টাইল নিয়ে যতটা আলোচনা, ছেলেদের নিয়ে তার সিকিভাগও ছিল না। তা সত্ত্বেও বিয়ন বর্গ তাঁর খোলা চুলের কায়দায় মাত করেছিলেন সত্তর-আশির দশক। পুরুষদের মধ্যে সেরা স্টাইলিশের আখ্যা পাবেন আন্দ্রে আগাসি। লম্বা সোনালি চুল উড়িয়ে টেনিস কোর্ট শাসন করেছেন আগাসি। তার পর মাথা কামিয়ে, কানে লম্বা দুল পরে কোর্টে নামলেন— সেটাই হয়ে গেল স্টেটমেন্ট। ছিমছাম পোশাকে নজর কাড়তেন রজার ফেডেরার। উলেন কার্ডিগান, সাদা প্যান্টস-সুট পরে কোর্টে এসেছেন টেনিস-গোট। ফেডেরার যতটা পরিপাটি, রাফায়েল নাদাল ততটাই ক্যাজ়ুয়াল। হাতকাটা গেঞ্জি আর কেপ্রি শর্টস ছিল নাদালের সিগনেচার।
বো-ড্রেসে নেওমি।
এখন খেলোয়াড়দের পোশাক থেকে জলের বোতল— সবেতেই ব্র্যান্ডিং। স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ডগুলো নামী ফ্যাশন ডিজ়াইনারদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। নেওমি ওসাকা কোর্টে নামার আগে আলাদা ফোটোশুট করান। উইম্বলডনে দর্শকাসনে উপস্থিত তারকাদের ফ্যাশন নিয়ে চর্চা হয়। আর সেখানেই উঠেছে প্রশ্ন, খেলার থেকে কি নজর ঘুরে যাচ্ছে?
কিমোনোতে নেওমি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে