শিশু-মৃত্যুর কারণ লিচু নয়, জানাল ট্রপিক্যাল
নিজস্ব সংবাদদাতা • মালদহ
শিশু মৃত্যুর কারণ লিচু নয় বলে বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের পর জানালেন রাজ্যের স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনের অধিকর্তা নন্দিতা বসুও। শুক্রবার শিশু মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে এসে তিনি মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগ পরিদর্শন করেন। নন্দিতাদেবী বলেন, “লিচুতে ভয়ের কারণ নেই। লিচু খেয়ে শিশুমৃত্যু হয়নি। তবে সঠিক কারণ জানতে পারিনি। পরীক্ষা চলছে।”জ্বর, বমি ও খিঁচুনি উপসর্গ নিয়ে ১৫ দিনে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। আক্রান্ত সংখ্যা ৫২। তবে বৃহস্পতিবার থেকে নতুন করে কেউ ভর্তি হয়নি। এ দিন ট্রপিক্যাল মেডিসিনের অধিকর্তার নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ দল মালদহে আসে। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শিশু বিভাগ ঘোরা ছাড়া কালিয়াচকের যে সমস্ত এলাকার শিশুরা মারা গিয়েছে বা আক্রান্ত হয়েছে, সেই সব গ্রামে গিয়েও পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে দলটি। কয়েক দিন আগে বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা মালদহে লিচুর শাঁস, খোসা ও পাতা নিয়ে পরীক্ষা করে জানান, লিচু দেহের পক্ষে ক্ষতিকারক নয়। এই পরিস্থিতিতে লিচু ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি করেন মালদহ মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক উজ্জ্বল সাহা। তিনি বলেন, “যাঁদের জন্য লিচু ব্যবসা মার খেল, সরকারের উচিত তাঁদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া। লিচু চাষিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। স্বাস্থ্য দফতরের একাংশ এই আতঙ্কের পিছনে রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলা হবে।” তিনি জানান, ৬০-৭০ টাকার লিচু ব্যবসায়ীরা ২০ টাকা কিলোতেও বিক্রি করতে পারছিলেন না।
নিয়োগ চান প্রশিক্ষিত নার্সরা
নিজস্ব সংবাদদাতা • বর্ধমান
প্রশিক্ষণ থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগ দিতে না পারায় বর্ধমান জেলা পরিষদের কাছে আবেদন জানালেন নার্সের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রার্থীরা। এ দিন স্বাস্থ্য কর্মাধক্ষ্য গোলাম জার্জিসের কাছে আবেদন জানান তাঁরা। গোলাম জার্জিস বলেন, “কেন স্বাস্থ্য দফতর এই প্রার্থীদের নিয়োগ পত্র দিচ্ছে না, বা কাজে যোগ দেওয়াতে পারছেন না, তা জানতে চাওয়া হবে।” শুক্রবার গলসি-২ ব্লকের ভুড়ি গ্রামের মুন্সি রুনা লায়লা, উড়ো গ্রামের রমা প্রামানিক গোহগ্রামের রিনা রানি ঘোষরা বলেন, “কাজের জন্য আমরা প্রশিক্ষন নিয়েছি বেলেঘাটা আইডি হাসপাতাল থেকে। গত বছর ২০ মে সেখান থেকে রিলিজ অর্ডারও পেয়েছি। অক্সিলারি নার্সিং-মিডওয়াইফারি-এর রুরাল পরীক্ষায় পাশ করা সংক্রান্ত মার্কশিটও রয়েছে। তবু এতদিনেও কেন নিয়োগপত্র পেলাম না তা জানতে আমরা এ দিন জেলা পরিষদে এসেছিলাম।” জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক প্রণব রায় বলেন, “ওই এএনএম ট্রেনিং প্রাপ্তদের কাজে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর থেকে কোনও নির্দেশ আসেনি। তাই ওঁদের কাজে নেওয়া হচ্ছে না। আমরা বারবার এই ব্যাপারে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরে চিঠি লিখেছি।”
চিকিৎসায় সাফল্য
নিজস্ব সংবাদদাতা • কলকাতা
খিচুড়ির হাঁড়ি উল্টে গিয়ে শরীরের নীচের অংশের অনেকটা পুড়ে গিয়েছিল ৬০ বছরের অঞ্জলি সাহার। বাংলাদেশের খুলনার বাসিন্দা অঞ্জলিদেবীকে নিয়ে পরিজনেরা ছুটেছিলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ-সহ সে দেশের নানা হাসপাতালে। কিন্তু যন্ত্রণার কোনও উপশম হয়নি। মাসখানেক আগে কলকাতায় এম আর বাঙুরের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয় অঞ্জলিদেবীকে। একটানা চিকিৎসার পরে নতুন জীবন পেয়েছেন তিনি। তাঁর পরিজনদের কথায়, “এই শহর মুমূর্ষুকে নতুন জীবন দিল। কলকাতার ডাক্তারবাবুদের ভুলব না।” বাঙুর-কর্তৃপক্ষ জানান, তাঁরা কখনও ভিন্ দেশের রোগীর চিকিৎসা করেননি। এ ক্ষেত্রে সংক্রমণ-সহ নানা ঝুঁকি ছিল। সব কেটে গিয়েছে। আপাতত কিছু দিন ফলো আপ চিকিৎসা করতে হবে।
অর্থ বরাদ্দ না বাড়ায় কোপ রোগীর খাবারে
নিজস্ব সংবাদদাতা • শামুকতলা
অর্থ বরাদ্দ না বাড়ানোয় রোগীদের খাবার সরবরাহ বন্ধ করে দিল স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। তাই গত দুই সপ্তাহ ধরে ডুয়ার্সের শামুকতলা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে খাবার পাচ্ছেননা চিকিৎসাধীন রোগীরা। হাসপাতাল থেকে খাবার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড়ি থেকে এনে বা বাজার থেকে কিনে রোগীদের খাবার পৌঁছে দিতে হচ্ছে তাদের পরিজনদের। ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শামুকতলা নাগরিক মঞ্চের অমর শঙ্কর সান্যাল বলেন, “সরকারি বরাদ্দ করা খাবার রোগীদের দেওয়া হচ্ছে না। অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উদাসীন।”দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সম্পাদক সর্বানী ঠাকুর বলেন, “তিনবেলা খাবার সরবরাহের জন্য রোগী প্রতি মাত্র ৪৩ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সকালে ডিম দুধ পাউরুটি। দুপুরে ও রাতে ভাত, মাছ, ডাল, সব্জি। সপ্তাহে একদিন মাংস দিতে হয়। ওই টাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না।” তাঁদের বক্তব্য, দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারবার লিখিত আবেদন জানিয়েও ফল মেলেনি কোনও। তাই বাধ্য হয়েই কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন তারা। এই প্রসঙ্গে আলিপুরদুয়ার ২ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সুভাষ কর্মকার জানিয়েছেন ,খুব শীঘ্রই অন্য একটি গোষ্ঠীকে খাবার সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হবে।
হাসপাতালে ক্যামেরা
পুরসভার মতো এ বার বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে কর্মীদের উপর নজরদারি রাখতে এবং সুষ্ঠু ভাবে পরিষেবা দিতে বৃহস্পতিবার সিসিটিভি বসাল কর্তৃপক্ষ। বোলপুর হাসপাতালের সুপার প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য বলেন, “হাসপাতালের জায়গায় ক্যামেরা বসানো হয়েছে। কর্মীদের কাজের ওপর যেমন নজরদারি থাকবে তেমনই হাসপাতালের সুষ্ঠু পরিচালন ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি রোগী পরিষেবা সংক্রান্ত কারণে এবং অকারণে তাঁদের পরিজন ও বহিরাগতদের আক্রমণ রোখা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।” পুরুষ ও মহিলাদের ওয়ার্ডে চারটি, হাসপাতালে ঢোকার মুখে এবং বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ এবং বারান্দা দিয়ে হাসপাতালের মধ্যে যাওয়ার পথে ক্যামেরা বসেছে।