করোনা। নামটি শুনলেই আঁতকে ওঠেন বিশ্বের যে কোনও প্রান্তের মানুষ। ২০২০ সালের আগে পর্যন্ত করোনা আমাদের কাছে কেবলমাত্র একটি সুরার ব্র্যান্ডের নাম ছিল। কিন্তু সে বছরের এপ্রিলের পর থেকে ঘটনাটি বদলে যায়। এক নতুন ভাইরাসের সঙ্গে পরিচিতি ঘটে আমাদের। তারও নাম করোনা।
২০২০-র এপ্রিলের পর থেকে পৃথিবী কার্যত ঘরবন্দি হয়ে গিয়েছিল। বরং বলা ভাল, প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে হতে হয়েছিল। করোনাভাইরাসের ফলে হওয়া কোভিড রোগে প্রাণ হারিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। অতিমারির প্রকোপে বিশ্বের এক অন্য রূপ ধরা দিয়েছিল আমাদের সামনে।
কিন্তু তার পর ধীরে ধীরে পৃথিবী আবার আগের ছন্দে ফিরে আসতে শুরু করে। অনেকের মতে, কোভিড অতিমারির আগের এবং পরের পৃথিবীতে বৈসাদৃশ্য অনেক। মানুষের জীবনেও দেখা গিয়েছে নানা পরিবর্তন। স্যানিটাইজ়ার এবং মাক্স এখন বহু মানুষেরই নিত্যসঙ্গী। এখনও বাসে-ট্রামে কেউ হাঁচলে বা কাশলে আশপাশের যাত্রীরা বাঁকা চোখে তাকান।
কিন্তু সেই রোগ কি আবার ফিরে আসতে পারে? একের পর এক ‘অব্যর্থ’ ভবিষ্যদ্বাণী করে চলা বুলগেরিয়ার বাবা ভাঙ্গার বাণী নাকি তেমনটাই নির্দেশ করছে। মারা যাওয়ার আগে পর্যন্ত এই পৃথিবী এবং তার অধিবাসীদের জন্য তিনি রেখে গিয়েছেন অনেক ভবিষ্যদ্বাণী।
ছোটবেলায় এক দুর্ঘটনায় বাবা ভাঙ্গা হারিয়েছিলেন দু’চোখের দৃষ্টি। তা সত্ত্বেও একের পর এক ভবিষ্যদ্বাণী উচ্চারিত হয়েছে তাঁর মুখে। বিশ্বাসীদের মতে, তাঁর বহু ভবিষ্যদ্বাণী মিলেও গিয়েছে। তাঁরা মনে করেন, বাবা ভাঙ্গার মুখ দিয়ে যে কথা এক বার বেরিয়েছে, তা সত্যি হবেই।
১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীরের পতনের ভবিষ্যদ্বাণী থেকে ২০২৫-এর ভূমিকম্প, বাবা ভাঙ্গা নাকি সবের কথাই বলে গিয়েছেন। তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীতে ছিল কোভিড অতিমারির আভাসও। সেই কারণে বাবা ভাঙ্গাকে অনেকেই ‘বুলগেরিয়ার নস্ট্রাদামুস’ বলে সম্বোধন করে থাকেন।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, বাবা ভাঙ্গা জানিয়েছিলেন, ২০২০-র প্রথম দিকে বিশ্ব কঠিন অতিমারির কবলে পড়বে। এক অজানা ভাইরাসের জন্য প্রচুর মানুষ প্রাণ হারাবেন।
বাস্তবেও হয়েছে তেমনটাই। ২০২০-র এপ্রিল থেকে কোভিডের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি কোনায়। প্রাণ হারান প্রচুর মানুষ। এর আগে করোনাভাইরাসের নামটির সঙ্গেও কারও পরিচিতি ছিল না।
তবে আগত দিনগুলি নিয়ে বাবা ভাঙ্গার করা ভবিষ্যদ্বাণীগুলি আরও শঙ্কাপূর্ণ। বিশেষ করে বাবা ভাঙ্গার কোভিড নিয়ে করা ভবিষ্যদ্বাণী। এখন কোভিড আমাদের কাছে অতীতের খারাপ অধ্যায়ের মতো। কিন্তু ভবিষ্যতেও কি লকডাউনের সেই দিনগুলি আবার ফিরে আসতে পারে? তা নিয়ে কখনও ভেবে দেখেছেন কি?
বাবা ভাঙ্গার করা ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, কোভিড নাকি পুনরায় হানা বসাতে পারে মানুষের শরীরে। কোনও খুচরো অসুখ হিসাবে নয়, সে আবারও ফিরে আসবে অতিমারি রূপেই। ২০৩০-এ নাকি কোভিডের কারণে মানুষ আবারও ঘরবন্দি হতে বাধ্য হবে। তেমনটাই নাকি বলে গিয়েছেন ‘বুলগেরিয়ার নস্ট্রাদামুস’।
তবে বাবা ভাঙ্গার অনুসারীদের মতে, তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী একটা ‘১৫ বছরের চক্র’ মেনে চলে। অর্থাৎ, বাবা ভাঙ্গার করা সমস্ত ভবিষ্যদ্বাণীই যে সব সময় পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে মিলে যায় তা নয়। কিন্তু তাঁর অনুসারীদের মতে সেটি কখনও না কখনও গিয়ে মেলেই। আর সেখানেই তাঁরা ‘১৫ বছরের চক্রের’ কথা বলেন।
এই ‘১৫ বছরের চক্রের’ অর্থ হল, কোনও ঘটনা বাবা ভাঙ্গার বলে যাওয়া সময়কাল মেনে না হলেও, তার ১৫ বছর পর ঠিকই ফলবে। তেমনই বিশ্বাস করেন বাবা ভাঙ্গার অনুসারীদল। এর মানে, ২০৩০-এ হয়তো কোভিড অতিমারির পুনরুত্থান হল না। সে ক্ষেত্রে বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীকে ভ্রান্ত বলে উড়িয়ে দেওয়ার কিছু নেই। কারণ, ১৫ বছর পর, ২০৪৫-এ কোভিড আবারও ফিরে আসতে পারে। তেমনটাই জানাচ্ছেন বাবা ভাঙ্গার মতবাদে বিশ্বাস রেখে চলা মানুষেরা।
২০৩০-এ কোভিড যদি ফিরেও আসে, তার ভয়াবহতা কতটা হবে, কত মানুষ মারা যাবেন এ সম্বন্ধে কোনও ধারণা বাবা ভাঙ্গার করা ভবিষ্যদ্বাণী থেকে পাওয়া যায়নি। এমনটা যে হবেই তা হলফ করে বলাও যায় না। বাকি সময়ই বলতে পারবে। বাবা ভাঙ্গার করা ভবিষ্যদ্বাণী আদতেই অব্যর্থ কি না তা জানার জন্য এখন ২০৩০ পর্যন্ত অপেক্ষা করে থাকা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।
বাবা ভাঙ্গার জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও, তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীগুলির কোনওটিই যাচাই করা হয়নি। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, কোনও ভবিষ্যদ্বাণীকে নির্ভরযোগ্য হিসাবে বিবেচনা করার জন্য ঘটনার আগে স্পষ্ট বিবরণ রেকর্ড থাকা উচিত এবং একাধিক স্বাধীন উৎস দ্বারা নিশ্চিত হওয়া উচিত। কোভিড-সহ বাবা ভাঙ্গার কোনও ভবিষ্যদ্বাণীই সেই মানদণ্ড পূরণ করে না।