US Canada Relations

একা ট্রাম্পে রক্ষা নেই চিন দোসর! ১০০% শুল্কের পর সীমান্ত চুক্তিতে মার্কিন হাতুড়ির ঘা খেল কানাডা

শুল্ক যুদ্ধের মধ্যেই এ বার কানাডার সঙ্গে হওয়া শতাব্দীপ্রাচীন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্য দিকে কানাডার কৃষিপণ্যের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে চিন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৫ ০৭:৫৮
Share:
০১ ১৮

প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র। তার পর চিন। দু’দিক থেকে কানাডার গলা টিপে ধরেছে দুই মহাশক্তি! বাড়তি চাপ দিয়ে অটোয়া কব্জা করার মার্কিন-ছক? ‘ম্যাপল পাতার দেশ’-এ আর্থিক বিপর্যয়ের ষড়যন্ত্র কষছে ড্রাগন? এই নিয়ে ইতিমধ্যেই চুলচেরা বিশ্লেষণে মেতেছেন দুনিয়ার তাবড় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞেরা।

০২ ১৮

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে দ্বিতীয় বার শপথ নিয়েই কানাডার উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন বর্ষীয়ান রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই ধাক্কা এখনও সামলে উঠতে পারেনি অটোয়া। তার মধ্যেই এ বার উত্তরের প্রতিবেশী দেশটির লাগোয়া সীমান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আটলান্টিকের পারের ‘সুপার পাওয়ার’।

Advertisement
০৩ ১৮

১৯০৮ সালে আমেরিকার সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি করে কানাডা। এত দিন সেই চুক্তি মেনে চলেছে ওয়াশিংটন ও অটোয়া। ফলে দুই দেশের মধ্যে কখনওই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেনি সীমান্ত বিবাদ। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মধ্যে একটি পৃথক জল-চুক্তিও রয়েছে। এই দু’টি সমঝোতার বৈধতাকেই আচমকা চ্যালেঞ্জ করে বসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ফলে উদ্বেগ বেড়েছে অটোয়ার।

০৪ ১৮

ট্রাম্পের যুক্তি, কানাডার সঙ্গে হওয়া সীমান্ত এবং জল-চুক্তিতে লোকসান হচ্ছে ওয়াশিংটনের। তাই সেগুলির পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে। যদিও প্রকাশ্যে এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। উল্লেখ্য, দশকের পর দশক ধরে চুক্তি মেনে হ্রদ এবং নদীর জল ভাগাভাগি করে ব্যবহার করছে অটোয়া এবং ওয়াশিংটন।

০৫ ১৮

চুক্তি অনুযায়ী, বর্তমানে কানাডাবাসী সুপিরিয়ন, হুরন, এরি এবং অন্টারিও গ্রেট লেকের জল ব্যবহার করতে পারেন। বিশ্লেষকদের দাবি, এই সুবিধা চিরতরে বন্ধ করতে চাইছেন ট্রাম্প। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের লাগোয়া অটোয়ার জমিও হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সেই উদ্দেশ্যেই চুক্তি বদলের জিগির তুলছেন তিনি।

০৬ ১৮

আয়তনের নিরিখে কানাডা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। কিন্তু এর উত্তর দিকে অধিকাংশ এলাকা সুমেরু সংলগ্ন হওয়ায় বছরের অধিকাংশ সময়ে তা ঢাকা থাকে পুরু বরফের চাদরে। সেখানে জনবসতিও খুবই কম। মার্কিন সীমান্তবর্তী এলাকাতেই ‘ম্যাপল পাতার দেশ’টির বড় বড় শহরগুলি অবস্থিত। এর মধ্যে রাজধানী অটোয়া ছাড়াও রয়েছে ভ্যাঙ্কুভার, টরন্টো এবং মন্ট্রিল।

০৭ ১৮

সীমানা পুনর্মূল্যায়নের নামে ট্রাম্প এই এলাকাগুলি দখল করলে কানাডার পক্ষে অস্তিত্ব রক্ষা করা কঠিন হবে। অটোয়া সংযুক্তিকরণের পরিকল্পনা কিন্তু আমেরিকার আজকের নয়। ১৯১৯ সালে সেনা অভিযান চালিয়ে উত্তরের প্রতিবেশী দেশটিকে সম্পূর্ণ ভাবে কব্জা করার ছক কষে ফেলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ফৌজি জেনারেলরা। তাঁরা এর নাম রেখেছিলেন ‘ওয়ার প্ল্যান রেড’।

০৮ ১৮

কানাডায় হামলা চালানোর যাবতীয় প্রস্তুতি নিতে ওয়াশিংটনের আরও কয়েক বছর সময় লেগেছিল। ১৯৩৯ সালে প্রস্তুতি যখন প্রায় শেষ, তখনই হঠাৎ করে বেধে যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। দু’বছরের মাথায় ১৯৪১ সালে জাপান হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পার্ল হারবারে যুক্তরাষ্ট্রের নৌসেনা ঘাঁটিতে হামলা চালালে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে আমেরিকা। ফলে ‘ওয়ার প্ল্যান রেড’ চলে যায় ঠান্ডা ঘরে।

০৯ ১৮

বিশ্লেষকদের দাবি, কানাডা দখলের নেশায় শতবর্ষ পুরনো ফৌজি জেনারেলদের পরিকল্পনাকে মহাফেজখানার ধুলো ঘেঁটে বার করে আনতে চাইছেন ট্রাম্প। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ওয়াশিংটনকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে অটোয়ার সরকার। সীমান্ত চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনও রকম আগ্রাসন দেখালে গেরিলা যুদ্ধে নামবে কানাডাবাসী, এমনই হুমকির সুর শোনা গিয়েছে তাদের গলায়।

১০ ১৮

এর পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের কাছে পরমাণু হাতিয়ার চেয়েছে কানাডা। অতি দ্রুত সেগুলিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে অটোয়া প্রশাসনের। যদিও ইউরোপের ওই দুই দেশের থেকে এখনও আসেনি কোনও সন্তোষজনক উত্তর। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো কানাডার আমজনতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সংযুক্ত হওয়ার ব্যাপারে বাড়ছে ইতিবাচক মনোভাব।

১১ ১৮

গত বছরের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার কিছু দিনের মধ্যে কানাডাকে আমেরিকার সঙ্গে সংযুক্তিকরণের পক্ষে সওয়াল করেন ট্রাম্প। এ ব্যাপারে তাঁর মন গলাতে ছুটে আসেন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। কিন্তু, তাতেও অটোয়ার কোনও লাভ হয়নি। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ সমাজমাধ্যমে করা পোস্টে ফের এক বার কানাডাকে ৫১তম রাজ্য এবং ট্রুডোকে ‘গভর্নর’ বলে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

১২ ১৮

ওই ঘটনার পর কানাডার উপর চাপ বাড়ছিল। বাধ্য হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন ট্রুডো। অন্য দিকে, জানুয়ারির ২০ তারিখ শপথ নেওয়ার পর কানাডার উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এ বছরের ২ এপ্রিল থেকে ‘পারস্পরিক শুল্ক’ নীতি চালু করবে তাঁর প্রশাসন। এতে অটোয়ার অর্থনীতি খাদের মধ্যে গিয়ে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

১৩ ১৮

বর্তমানে আমেরিকা, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউ জ়িল্যান্ডের সঙ্গে হওয়া গোয়েন্দা চুক্তি ‘ফাইভ আইস’-এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কানাডা। অটোয়াকে সেখান থেকে বহিষ্কারের পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাম্পের। সেই লক্ষ্যে কাজও শুরু করে দিয়েছে তাঁর প্রশাসন। বিশ্লেষকদের দাবি, এ ভাবে চাপ বাড়িয়ে অটোয়াকে বশ্যতা স্বীকার করাতে চাইছেন বর্ষীয়ান রিপাবলিকান নেতা।

১৪ ১৮

যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিলে কানাডাকে দ্বিতীয় বড় ধাক্কা দিয়েছে ড্রাগন। গত বছরের ১ অক্টোবর বেজিংকে বিপদে ফেলতে চিনা বৈদ্যুতিন গাড়ির উপর শুল্ক বৃদ্ধি করে অটোয়া। গত ৮ মার্চ ‘ম্যাপল পাতার দেশ’টির উপর প্রত্যাঘাত হানে ড্রাগন। কানাডার কৃষিজাত পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছে শি জিনপিং সরকার।

১৫ ১৮

বেজিং জানিয়েছে, এ বার থেকে কানাডার রেপসিড তেল, তেলের কেক এবং মটরশুঁটির উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক নেওয়া হবে। অটোয়ার জলজ পণ্য এবং শুয়োরের মাংসে শুল্ক দিতে হবে ২৫ শতাংশ। আগামী ২০ মার্চ থেকে নতুন শুল্ক অনুযায়ী পণ্য আমদানির কথা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে চিনা রাষ্ট্রীয় পরিষদের শুল্ক কমিশন (কাস্টম্‌স ট্যারিফ কমিশন অফ দ্য স্টেট কাউন্সিল)।

১৬ ১৮

বিশেষজ্ঞদের দাবি, চিনা বাজারে বৈদ্যুতিন গাড়ি বিক্রি করা কানাডার পক্ষে বেশ কঠিন। কারণ, ড্রাগনের ঘরোয়া সংস্থাগুলির তৈরি ব্যাটারিচালিত গাড়িগুলির দুনিয়াজোড়া খ্যাতি রয়েছে। কিন্তু কৃষিপণ্যের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক অটোয়ার অর্থনীতির বড় ক্ষতি করবে। লাভ কমে গেলে বেজিঙের বাজার ছাড়তে হতে পারে অটোয়াকে।

১৭ ১৮

কানাডার এই অবস্থার জন্য অনেকেই প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে দায়ী করেছেন। তাঁর ভুল বিদেশ নীতির কারণেই আমেরিকা, চিন, রাশিয়া এবং ভারত-সহ বিশ্বের বহু দেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়েছে অটোয়ার। ভবিষ্যতে এর মাসুল দিতে হতে পারে সেখানকার আমজনতাকে।

১৮ ১৮

সম্প্রতি সম্পর্ক মেরামতির চেষ্টা করছে ভারত এবং কানাডা। গত কয়েক মাসে একাধিক বার নয়াদিল্লি সফর করেছেন সেখানকার পদস্থ আধিকারিকেরা। চেষ্টা চলছে ভারতের তরফেও। যদিও বরফ কতটা গলবে, তার উত্তর দেবে সময়।

সব ছবি: সংগৃহীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement