Neesha Singh

‘সহ্য করতে পারতেন না’ নানা পটেকর, ভাগ্য বদলায় কলেজ ক্যান্টিনে, সাফল্যের চূড়া থেকে হঠাৎ ‘উধাও’ অনিলের নায়িকা

হিন্দি বাণিজ্যিক ছবিতে মুখ্যচরিত্রে যে তিনি অভিনয় করতে পারবেন না, তা বুঝে গিয়েছিলেন নিশা সিংহ। অন্য দিকে সমান্তরাল ছবিতেও অভিনয়ের সুযোগ পাচ্ছিলেন না তিনি। তাই ‘অঙ্কুশ’ ছবিতে অভিনয়ের পর আর বড়পর্দায় অভিনয় করতে চাননি নিশা। তিনি ঝুঁকে পড়েছিলেন টেলিভিশনের দিকে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ ০৯:৪৫
Share:
০১ ১৮

আশি থেকে নব্বইয়ের দশকের সময় টেলিভিশনজগতের অতিপরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। মডেলিং থেকে বড়পর্দায় কেরিয়ার তৈরি করতেও বেশি সময় লাগেনি। নানা পটেকর এবং অনিল কপূরের মতো বলি তারকার সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সহ-অভিনেতার ‘চোখের বিষ’ হয়ে উঠেছিলেন নিশা সিংহ। কেরিয়ারে যখন তিনি সাফল্যের চূড়ায়, তখন হঠাৎ করেই ইন্ডাস্ট্রি থেকে ‘হারিয়ে যান’ তিনি।

০২ ১৮

মুম্বইয়ের মালাবার হিলের প্রতিপত্তিসম্পন্ন এলাকায় থাকতেন নিশা। অভিনয়ের প্রতি কোনও আগ্রহই ছিল না তাঁর। বরং পড়াশোনা নিয়ে কেরিয়ার গড়তে চাইতেন তিনি। এমনকি, নিশার বাবাও ছিলেন খুব কড়া প্রকৃতির। স্কুলের গণ্ডি পার করে কলেজে ভর্তি হওয়ার পর নিশার ভাগ্য রাতারাতি বদলে যায়।

Advertisement
০৩ ১৮

মুম্বইয়ের এক কলেজে পড়াশোনা করতেন নিশা। প্রসাধন সামগ্রীর বিজ্ঞাপনের জন্য নতুন মুখ খোঁজা হচ্ছিল। মুম্বইয়ের কলেজে কলেজে সেই নতুন মুখের সন্ধানেই ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন প্রসাধন দ্রব্যের নির্মাতারা। নিশা যে কলেজে পড়তেন, সেখানকার ক্যান্টিনে বসেছিলেন সকলে। হঠাৎ কলেজ ক্যান্টিনে নিশাকে দেখে পছন্দ হয়ে যায় তাঁদের। নিশাকে পরীক্ষামূলক ভাবে একটি ভিডিয়োর জন্য শুট করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। কিন্তু নিশা সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।

০৪ ১৮

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিশা জানান, তাঁর বাড়ি থেকে মডেলিংয়ের জন্য অনুমতি পাওয়া যেত না। তিনি যে বন্ধুদের সঙ্গে শুট দেখতে আসবেন সে কথা বিজ্ঞাপননির্মাতাদের জানিয়েছিলেন। শুটের পর নিশার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছিলেন প্রসাধনী সংস্থার মালিক।

০৫ ১৮

বিজ্ঞাপনের জন্য এমন তরুণীর মুখ খোঁজা হচ্ছে যিনি আগে কোথাও কাজ করেননি এবং কোনও রকম মেকআপ ছাড়াই যে তরুণীর রূপে মুগ্ধ হওয়া যায়। নিশার মধ্যে সে সব গুণ থাকায় তাঁকেই বিজ্ঞাপনের মুখ করা হবে বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিশার বাবা রাজি হয়ে যান।

০৬ ১৮

মেয়ের পড়াশোনার যেন কোনও রকম ক্ষতি না হয়, সে কারণে একটি শর্ত রেখেছিলেন নিশার বাবা। নিশা যত দিন স্নাতকোত্তর না হচ্ছেন, তত দিন তিনি মাসে মাত্র একটি বিজ্ঞাপনে অভিনয় করবেন। সেই শর্তে ‘শাপে বর’ হয় নিশার।

০৭ ১৮

নিশা সাক্ষাৎকারে জানান, কাজ করার সুযোগ কম থাকার কারণে তিনি খুব বাছাই করে বিজ্ঞাপনে অভিনয় করতেন। বস্ত্রনির্মাণকারী সংস্থা থেকে শুরু করে জনপ্রিয় কফির বিজ্ঞাপনেও মুখ দেখিয়েছেন তিনি। বিজ্ঞাপনে মডেলিং করার সুবাদে বড়পর্দায় অভিনয়েরও প্রস্তাব পেয়ে যান নিশা।

০৮ ১৮

মুম্বইয়ের পৃথ্বী থিয়েটারে নিশা এবং তাঁর বাবার সঙ্গে দেখা হয়েছিল বলি পরিচালক এমএস সাথ্যুর। নিশাকে তাঁর ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাতে রাজি হননি নিশার বাবা। পরে পরিচালকের ‘গরম হাওয়া’ ছবিটি নিশা তাঁর বাবাকে দেখান। সিনেমাটি দেখার পর সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন তিনি।

০৯ ১৮

এমএস সাথ্যুর পরিচালনায় ‘কহাঁ কহাঁ সে গুজ়র গয়া’ ছবিতে অনিল কপূরের বিপরীতে অভিনয়ের সুযোগ পান নিশা। সেই ছবি ভারতে বিশেষ সাড়া না ফেললেও আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসা পায়। তার পর ১৯৮২ সালে সাগর সরহাদির ‘বাজ়ার’ ছবিতে অভিনয় করেন নিশা।

১০ ১৮

১৮ বছর বয়সে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এসে নবাগতা ভেবেছিলেন যে, তিনি পর পর মুখ্যচরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাবেন। কিন্তু তাঁর জন্য পার্শ্বচরিত্রগুলিই বাছাই করে রাখা হচ্ছিল। ‘বাজ়ার’ ছবির শুট চলাকালীন তা নিয়ে বলি অভিনেত্রী স্মিতা পাটিলের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন নিশা। নিশার কথা শুনে স্মিতা বলেছিলেন, ‘‘তুমি কোন মুখে এই কথাগুলো বলতে পারো? গ্রামের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় যে করবে, সেই চালচলনই তো তোমার নেই। তুমি ভুল পথে চলে এসেছ।’’

১১ ১৮

নিশার প্রসঙ্গে বলিউডের জনপ্রিয় ছবিনির্মাতা শ্যাম বেনেগলেরও একই মত ছিল। শ্যামের মতে, নিশাকে কোনও রাজকন্যার চরিত্রে অভিনয় করতে দিলে ভাল মানাবে। নিশার মধ্যে নাকি দক্ষিণ মুম্বইয়ের আধুনিক যুগের তরুণীদের মতো হাবভাব রয়েছে।

১২ ১৮

১৯৮৬ সালে এন চন্দ্রের পরিচালনায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘অঙ্কুশ’। এই ছবিতে নানা পটেকরের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন নিশা। কিন্তু নানা নাকি নিশাকে ‘দু’চক্ষে সহ্য করতে পারতেন না’। নানার ধারণা ছিল, নিশার জন্য ছবিটি মুখ থুবড়ে পড়বে। নিশাকে অভিনেত্রী হিসাবে নির্বাচন করা ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে পরিচালকের।

১৩ ১৮

নিশা সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘নানা পটেকর আমায় সহ্য করতে পারতেন না। আমি যে অভিনয় পারি না এবং পরিচালক যে আমায় ছবিতে নিয়ে ভুল করেছেন— তা সকলের সামনে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিলেন নানা। কিন্তু শুটিংয়ের তৃতীয় দিনে ক্যামেরার সামনে আমার পারফরম্যান্স দেখার পর মন বদলে গিয়েছিল নানার। আমার মাথায় হাত বুলিয়ে তিনি আশীর্বাদ করেছিলেন।’’

১৪ ১৮

হিন্দি বাণিজ্যিক ছবিতে মুখ্যচরিত্রে যে তিনি অভিনয় করতে পারবেন না, তা বুঝে গিয়েছিলেন নিশা। অন্য দিকে সমান্তরাল ছবিতেও অভিনয়ের সুযোগ পাচ্ছিলেন না তিনি। তাই ‘অঙ্কুশ’ ছবিতে অভিনয়ের পর আর বড়পর্দায় অভিনয় করতে চাননি নিশা। তিনি ঝুঁকে পড়েছিলেন টেলিভিশনের দিকে।

১৫ ১৮

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় নি‌শা ‘বুনিয়াদ’ এবং ‘আ মাউথফুল অফ স্কাই’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেন। রাহুল বসু এবং মিলিন্দ সোমনের মতো অভিনেতার সঙ্গে ধারাবাহিকে কাজ করেছেন নিশা। মাসে ২০ দিন কাজ করে বাকি ১০ দিন ছুটি কাটাতেন তিনি।

১৬ ১৮

১৯৯৭ সালে কেরিয়ারে সাফল্যের চূড়ায় ছিলেন নিশা। সেই সময় রাতারাতি ইন্ডাস্ট্রি থেকে ‘উধাও’ হয়ে যান তিনি। বিয়ে করে সিঙ্গাপুরে চলে গিয়েছিলেন তিনি। ধারাবাহিকনির্মাতারা চেয়েছিলেন যে, সিঙ্গাপুরে গিয়ে নিশা তাঁর অংশটুকু শুট করে আসবেন। কিন্তু সেই প্রস্তাবে রাজি হননি অভিনেত্রী।

১৭ ১৮

সাক্ষাৎকারে নিশা বলেন, ‘‘আমি কেরিয়ার গড়ার জন্য অভিনয় করতাম না। শখ থেকে করতাম। বিয়ের পর মন দিয়ে সংসার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। বিয়ের সময় আমি কয়েকটি ধারাবাহিকে অভিনয় করছিলাম। রাতারাতি সিঙ্গাপুরে চলে আসার কারণে ধারাবাহিকগুলির চিত্রনাট্যে আমার চরিত্রটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’’

১৮ ১৮

১৯৯৮ সালে শেষ বারের মতো পর্দায় নিশাকে দেখা যায়। একই বছর কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। স্বামী-কন্যাকে নিয়ে বর্তমানে ব্যস্ত রয়েছেন নিশা। মুম্বইয়ে এসে আবার অভিনয় শুরু করার কথা ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সময় নিশার ভাই স্ট্রোকে মারা যান। পরিবার ছেড়ে এখন অন্যত্র যাওয়ার চিন্তাভাবনা নেই তাঁর। নিজেকে আলোর রোশনাই থেকে দূরেই রাখতে চান নিশা।

সব ছবি: সংগৃহীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি
Advertisement