ছবি: সংগৃহীত।
গরমের দুপুরে এমন খাবার চাই, যা পেট ঠান্ডা রাখে। শরীর ঠান্ডা রাখে। যা খেলে শরীর আনচান করবে না বরং আরাম পাবে। তেমন মরসুম উপযোগী বহু খাবারের সন্ধান রয়েছে বাংলার রান্নাঘরেই। বাজারে সহজলভ্য সব্জি আর শরীরের জন্য গরমের উপযোগী মশলাপাতি দিয়ে তৈরি তেমনই এক খাবার হল মুগপোস্ত। এতে ডাল আছে, ডালের বড়া আছে, পোস্তবাটা আছে, আছে সর্ষের তেলের ঝাঁজও। খাঁটি এ পার বাংলার রান্না যাকে বলে! গ্রীষ্মের দুপুরে ভাতের সঙ্গে এই একটি পদই যথেষ্ট। শরীরের আরাম তো হবেই, রসনাতৃপ্তিও জোগাবে এই রান্না।
কী ভাবে বানাবেন?
উপকরণ: ৫০০ গ্রাম ঝিঙে
১ কাপ মুগডাল (৬-৭ ঘণ্টা জলে ভিজিয়ে নেওয়া)
আধ কাপ পোস্ত
৪-৫টি কাঁচালঙ্কা
১ চা চামচ কালো জিরে
২টি শুকনো লঙ্কা
আধ চা চামচ হলুদগুঁড়ো
আধ চা চামচ কাশ্মীরী লঙ্কার গুঁড়ো
স্বাদমতো নুন
স্বাদমতো চিনি
প্রয়োজন মতো সর্ষের তেল
প্রণালী: ভেজানো মুগডাল ১টি কাঁচালঙ্কা দিয়ে বেটে নিন। তার পরে স্বাদমতো নুন আর কালো জিরে দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।
২টি লঙ্কা দিয়ে বেটে নিন পোস্তও। আর ঝিঙে ভাল ভাবে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে মাঝারি টুকরোয় কেটে নিন।
কড়াইয়ে তেল নিয়ে তাতে বেটে নেওয়া মুগডাল থেকে মাঝারি মাপের বড়া লালচে আর মুচমুচে করে ভেজে নিন। শুধু ১ টেবিল চামচ ডালবাটা বাঁচিয়ে রাখবেন।
এ বার বড়া ভাজার তেলেই ১ চা চামচ কালো জিরে আর দু’টো শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিয়ে তাতে কেটে রাখা ঝিঙেগুলো দিয়ে দিন। মিনিট দু’য়েক নাড়াচাড়া করে তার উপর নুন, হলুদ, লঙ্কাগুঁড়ো দিয়ে ভাল ভাবে কষিয়ে নিতে হবে ঝিঙে জল ছেড়ে নরম হয়ে যাওয়া অবধি। তার পরে ১ টেবিল চামচ ডালবাটা আর পোস্তবাটা দিয়ে পরিমাণ মতো চিনি আর কয়েকটা কাঁচালঙ্কা ছিঁড়ে দিয়ে দিন ওর মধ্যে। ভাল ভাবে কষিয়ে নিন। এর পরে ঢেলে দিন ডালের বাটি আর পোস্তর বাটি ধোয়া এক কাপ মতো জল।
এর পরে তিন-চারটি বাদে বাকি ভেজে রাখা ডালের বড়া ওর মধ্যে দিয়ে চাপা দিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে কিছু ক্ষণ। ঝোল ঘন হয়ে এলে আর বড়া নরম হয়ে এলে আঁচ বন্ধ করুন। পরিবেশনের আগে উপরে শুকনো বড়া ভেঙে ছড়িয়ে দিন। আর কিছুটা কাঁচা সর্ষের তেল উপরে ছড়িয়ে নিলে স্বাদ আরও বেড়ে যাবে।