Snow Storm

তুষারঝড়ের মাঝেই বিকট শব্দে ফাটছে একের পর এক গাছ! আমেরিকায় এই ‘বৃক্ষ বিস্ফোরণের’ নেপথ্যে কারণ কী?

আমেরিকার এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর সম্প্রতি এক্স অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়ে লেখেন, আমেরিকার মধ্য-পশ্চিম এবং উত্তরাংশে মাইনাস ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নেমে যেতে পারে তাপমাত্রা। তার জেরে ‘বিস্ফোরিত’ হতে পারে বহু গাছ। তার পরেই ওঠে প্রশ্ন, তবে কি সত্যিই বিস্ফোরণ ঘটে গাছে?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৯
Share:

প্রবল তুষারঝড়ে আমেরিকায় বরফে ঢেকে গিয়েছে গাছ। ছবি: আনস্প্ল্যাশ।

শীতঝড়ে কাঁপছে আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। তাতে ‘বিস্ফোরিত’ হচ্ছে একের পর এক গাছ! সমাজমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে এমনটাই দাবি করেছেন কয়েক জন। কী ভাবে হয় এই বিস্ফোরণ? সিনেমায় যেমন গাড়ি উড়ে যায়, তেমনই কি? বিজ্ঞানীরা বলছেন, তেমন নয়। তবে আমেরিকায় আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা যে পরিমাণ কমতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে, তাতে অনেক গাছই ‘বিস্ফোরিত’ হতে পারে বলে আশঙ্কা। তবে তার রূপ হবে ভিন্ন।

Advertisement

আমেরিকার এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর সম্প্রতি এক্স অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়ে লেখেন, আমেরিকার মধ্য-পশ্চিম এবং উত্তরাংশে মাইনাস ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নেমে যেতে পারে তাপমাত্রা। তার জেরে ‘বিস্ফোরিত’ হতে পারে বহু গাছ। তার পরেই ওঠে প্রশ্ন, তবে কি সত্যিই বিস্ফোরণ ঘটে গাছে?

আমেরিকার ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস)-এর পূর্বাভাস, আমেরিকার উত্তর সমতল ভূমির কিছু জায়গায় তাপমাত্রা নামতে পারে মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে। তারা একে ‘প্রাণঘাতী ঠান্ডা’ বর্ণনা করে বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে। এই প্রবল ঠান্ডায় কি গাছে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে?

Advertisement

আমেরিকার উইসকনসিন স্টেটের প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের গবেষক বিল ম্যাকনি জানিয়েছেন, গাছ ‘বিস্ফোরিত’ হচ্ছে বটে, কিন্তু তার সঙ্গে বোমা বিস্ফোরণকে মেলালে চলবে না। তাঁর মতে, গাছে ‘বিস্ফোরণ’ আদতে তাতে ফাটল ধরা। এই প্রক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছে গাছের মধ্যে থাকা রস। হিমাঙ্কের নীচে তাপমাত্রা নামলেও গাছের ভিতরে থাকা ওই রস তরল থাকে। কিন্তু তাপমাত্রা যদি মাইনাস ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নেমে যায়, তা হলে গাছের রস জমে বরফে পরিণত হতে পারে। কঠিনে পরিণত হলে তা প্রসারিত হয়। চাপ দেয় গাছের কাণ্ডে। আর তার জেরেই ফাটল ধরে গাছে। ভেঙে পড়ে ডাল। আর সে সময় বিকট শব্দ হয়, অনেকটা গুলি ছোড়ার মতো।

ম্যাকনি জানিয়েছেন, এই শব্দকেই অনেকে গাছের ‘বিস্ফোরণ’ বলছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, এই ফাটল গাছের কিছু অংশে হতে পারে। পুরো গাছ ফেটে চৌচির হয়ে ‘বিস্ফোরণ’ খুব কম ক্ষেত্রেই দেখা যায়। তবে ওই গবেষক এ-ও জানিয়েছেন, তিনি নিজে কখনও সে ভাবে কোনও গাছকে ফাটতে বা ‘বিস্ফোরণ’ হতে দেখেননি। আবহবিদ কোডি ম্যাটজ়ও একই কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এখন আমেরিকার উত্তরাংশে যা তাপমাত্রা রয়েছে, তাতে গাছে ফাটল ধরতেই পারে। ‘বিস্ফোরণের’ ঘটনা বিরল, তবে তা যে হচ্ছে না, তা-ও কিন্তু নয়।

আমেরিকায় চলতি বছর যে পরিমাণে ঠান্ডা পড়েছে, তাতে এই বিরল ঘটনাও প্রত্যক্ষ করতে পারবেন বাসিন্দারা, এমনটাই দাবি আবহবিদদের একাংশের। এনডব্লিউএস বলছে, উত্তর ডাকোটা, উইসকনসিন, মিনেসোটায় তাপমাত্রা নামতে পারে মাইনাস ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে। সেই সঙ্গে কাঁপুনি ধরাতে পারে তুষারঝড়, কনকনে ঠান্ডা হাওয়া। এর নেপথ্যে ‘পোলার ভর্টেক্স’ বা মেরু ঘূর্ণাবর্তকে দায়ী করেছেন আবহবিদেরা। মেরু ঘূর্ণাবর্ত হল দুই মেরুকে ঘিরে থাকা বিস্তীর্ণ অঞ্চলের নিম্নচাপ এবং ঠান্ডা হাওয়া। এটি গ্রীষ্মে দুর্বল এবং শীতে শক্তিশালী হয়। সুমেরুর হাড়কাঁপানো ঠান্ডা হাওয়া দক্ষিণমুখী হওয়ার ফলে এই বিপজ্জনক পোলার ভর্টেক্স বা মেরু ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়। সংবাদ সংস্থা এপিকে এক আবহবিদ জানিয়েছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তন এই মেরু ঘূর্ণাবর্তকে শক্তি জোগাচ্ছে। তাকে দক্ষিণের দিকে ঠান্ডা বাতাস পাঠাতে সাহায্য করছে। আর তার প্রভাবেই কাঁপছে উত্তর, মধ্য এবং পূর্ব আমেরিকা, কানাডা। বহু বছরে যা হয়নি, তেমনই কিছু ঘটনা প্রত্যক্ষ করছেন বাসিন্দারা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement