Astronaut

মহাকাশে দীর্ঘ দিন থাকলে শরীরে কী কী পরিবর্তন আসে মহাকাশচারীদের? খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা

মহাকাশে থাকার ফলে মহাকাশচারীদের মস্তিষ্কে যে পরিবর্তন হয়, তার জেরে তাঁর ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিমত্তা বা বোধশক্তিতে কি কোনও পরিবর্তন আসতে পারে? তার উত্তরও দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:০১
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

মহাকাশে দীর্ঘ দিন কাটালে শরীর, মনে কি সেই পরিবেশের কোনও প্রভাব পড়ে? দীর্ঘ দিন ধরে মাধ্যাকর্ষণশূন্য অবস্থায় থাকার জন্য কি মহাকাশচারীদের শরীরে কোনও পরিবর্তন হয়? এই প্রশ্ন দীর্ঘ দিনের। এ বার বিজ্ঞানীরা তারই জবাব পেলেন নিজেদের গবেষণায়। তাঁরা বলছেন, মহকাশ থেকে ফিরে এলে মহাকাশচারীদের শরীরে কিছু পরিবর্তন হয় বটেই। তাঁরা মনে করেন, সে কারণেই মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফিরে এসে কিছু দিন পৃথিবীতে মানিয়ে নিতে সমস্যা হয় মহাকাশচারীদের।

Advertisement

ফ্লরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী এই গবেষণা করেছেন। নেতৃত্বে ছিলেন ফিজ়িওলজিস্ট রাচেল সিডলার। বিজ্ঞানীরা বলছেন, খুব কম সময়, কয়েক সপ্তাহ মহাকাশে থাকলেও মহাকাশচারীর মস্তিষ্কের আকারে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। আরও দীর্ঘ দিন মহাকাশে থাকলে এই পরিবর্তন পৃথিবীতে ফেরার পরেও স্থায়ী হতে পারে ছ’মাস। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই পরিবর্তন খুবই সূক্ষ্ম। খুব বেশি হলে মস্তিষ্কের গঠনের কয়েক মিলিমিটার পরিবর্তন হতে পারে। পরিবর্তন হয় মস্তিষ্কের সেই অংশে, যার সঙ্গে যোগ রয়েছে ভারসাম্য, সেনসরিমোটর কন্ট্রোলের। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সে কারণে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণে ফেরার পরে মহাকাশচারীদের ভারসাম্য বজায় রেখে হাঁটতে-চলতে সমস্যা হয়।

বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন, দীর্ঘ দিন মহাকাশে থাকলে মহাকাশচারীর করোটির ভিতরে ক্রেনিয়াল কম্পার্টমেন্টে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। আঘাত পেলে মস্তিষ্ক কী ভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তার জন্য এই অংশ গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মহাকাশ-আলোর প্রভাব মানুষের মস্তিষ্কে কতটা পড়ে, কী ভাবে পড়ে, তা বুঝতে সাহায্য করেছে এই গবেষণা। তাঁরা দেখেছেন, মহাকাশচারীরা যখন মহাকাশে থাকেন, তখন তাঁদের শরীরের কলাগুলি একটু যেন সরে যায়। দেহে যে তরল থাকে, তা সমান ভাবে ছড়িয়ে পড়ে সারা শরীরে। এর ফলে এমনিতে মানুষের খুব একটা সমস্যা হয় না। তবে করোটির ভিতরে মস্তিষ্ক কী ভাবে বসবে, তার একটু পরিবর্তন হয়। এর আগে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার আগে মহাকাশচারীদের মস্তিষ্কের ভরের কেন্দ্রভাগ করোটির ভিতরে যেখানে থাকে, মহাকাশে পৌঁছোনোর পরে তা করোটির ভিতরে একটু উপর দিকে উঠে যায়।

Advertisement

মোট ২৬ জন মহাকাশচারীর উপরে পরীক্ষা করেছেন সিডলারের নেতৃত্বাধীন গবেষকদল। তাঁদের মধ্যে ১৫ জনের মস্তিষ্কের মাপ খতিয়ে দেখা হয়েছিল মহাকাশে যাওয়ার আগে এবং পরে। ১১ জনের মস্তিষ্ক পরীক্ষার তথ্য আগের গবেষণাপত্রে প্রকাশ করেন সিডলারেরা। এ বার বাকিদের মস্তিষ্কের উপর গবেষণা করে তা প্রকাশ করা হল। তাতে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মহাকাশে গেলে বিজ্ঞানীদের মস্তিষ্ক করোটির ভিতরে কিছুটা উপরে, কিছুটা পিছনে সরে যায়। তবে খুবই সামান্য পরিমাণে। এর ফলে মস্তিষ্কের আকারেও কিছু পরিবর্তন হয়। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, যে মহাকাশচারীরা মহাকাশে এক বছর কাটিয়েছেন, তাঁদের মস্তিষ্কের আকারের দুই থেকে তিন মিলিমিটার হেরফের হতে পারে।

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা কয়েক বছর আগে ২৪ জনকে প্রায় ৬০ দিন ধরে হেলানো বিছানায় শুইয়ে রেখেছিল। দেখতে চেয়েছিল, সে ভাবে থাকলে তাদের মস্তিষ্কের কী পরিবর্তন হয়। আর তা থেকেই মহাকাশে মানুষের মস্তিষ্কে কী পরিবর্তন হতে পারে, তা বোঝার চেষ্টা করেছিলেন গবেষকেরা। সেই রিপোর্টকেও কাজে লাগিয়েছেন সিডলারেরা।

তবে বিজ্ঞানীরা একটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন যে, মহাকাশে থাকার ফলে মহাকাশচারীদের মস্তিষ্কে যে পরিবর্তন হয়, তার জেরে তাঁর ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিমত্তা বা বোধশক্তিতে কোনও পরিবর্তন হয় না। মস্তিষ্কের যে অংশ শরীরের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করে, শুধু সেই অংশেই প্রভাব ফেলে মহাকাশ-যাপন। দীর্ঘ দিন মহাকাশে থাকলে সেই মানুষের মস্তিষ্কের পস্‌চেরিয়ার ইনসুলায় প্রভাব পড়ে। এই অংশ চলাফেরায় ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সে কারণেই পৃথিবীতে ফিরে আসার পরে কয়েক দিন থেকে সপ্তাহ পর্যন্ত স্থিতি নিয়ে সমস্যায় পড়েন মহাকাশচারীরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement