জয়ের আনন্দে মাতোয়ারা চিলির জর্জ ভালডিভিয়া, চার্লস এবং আলেক্সি সাঞ্চেজ। ছবি: এএফপি।
ইতিহাস পাল্টাতে রূপকথার সফর বজায় রাখল চিলি। ঘরের মাঠে ঘরের সমর্থকদের সামনে কোপা আমেরিকা জেতার লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগোলো চিলি। গত বারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকে ১-০ হারিয়ে শেষ চারে পৌঁছল তারা। দুর্দান্ত পারফরম্যান্স হয়তো ছিল না। তবে নক আউটে যে খেলাটা খেলতে হয় সেটাই করল চিলি। শুরুর থেকে শেষ ম্যাচটা নিজেদের গতিতে খেলে সঠিক সময় গোলটা করল।
প্রথমার্ধেৱ শুরু থেকেই আক্রমণ করতে থাকে উরুগুয়ে। কাভানি-রোনালরা সু্যোগের পর সু্যোগ তৈরি করে। তবে ম্যাচ যত এগোয় আস্তে আস্তে প্রভাব বিস্তার করতে থাকে চিলি। বল দখলে রেখে, উইংয়ে খেলা ছড়িয়ে উরুগুয়ে ডিফেন্স নাস্তানাবুদ করতে থাকে চিলি। ভিদালের ২৫ গজের শট থেকে সাঞ্চেজের ড্রিবলে ম্যাচের রাশ নিজেদের দিকে নিয়ে নেয় চিলি। শুধু মাত্র কয়েকটা কর্নার জেতা ছাড়া উরুগুয়ে আর উল্লেখযোগ্য কিছু করেনি। বিরতির পরেও চিলি আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে শুরু করে। আর উরুগুয়ের আক্রমণ বলতে কাভানির একটা লং রেঞ্জ শট। চিলি যাতে কোনও জায়গা না পায়, সে জন্য ডিপ ডিফেন্সে লোক বাড়াতে থাকে উরুগুয়ে। কিছুক্ষণ পরেই কলম্বিয়া-ব্রাজিলের ছায়া পড়ে যায় এই ম্যাচে। জারাকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন উরুগুয়ের এডিনসন কাভানি। রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁর দিকে তেড়ে যান কাভানি। পরিস্থিতি সামলাতে মধ্যস্থতা করতে হয় বাকি সতীর্থদের।
দশ জনের উরুগুয়েকে পেয়ে আরও বেশি চেপে ধরে চিলি। তবে আক্রমণ তৈরি করেও ফাইনাল থার্ডে এসে ব্যর্থ হচ্ছিল তারা। ৮১ মিনিটে অবশ্য ছবি পাল্টায়। ভালদিভিয়ার পাসে দুর্দান্ত গোল করেন মরিসিয়ো ইসলা। ন্যাসিওনালের মাঠের গ্যালারি তখন পুরোপুরি ঘরের সমর্থকদের দখলে। প্রতি মিনিটেই লা রোখা-লা রোখা বলে দলকে তাতাতে থাকেন তাঁরা।
ম্যাচের শেষ লগ্নে আবার কোয়ার্টার ফাইনাল পরিণত হয় নাটকে। একের পর এক ঘটনা হাড্ডাহাড্ডি একটা ম্যাচকে বিতর্কের রেশে ঢেকে দেয়। প্রথমে সাঞ্চেজকে ট্যাকল করে লাইন্সম্যানের সিদ্ধান্তে উরুগুয়ের আর এক ফুটবলার জর্জ ফুসিলেকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। প্রতিবাদে লাইন্সম্যানকে গিয়ে ধাক্কা মারেন উরুগুয়ে ফুটবলাররা। প্রশ্ন করতে থাকেন, কেন এ রকম সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে। রেফারি এসে ফুটবলারদের বাধা দেওয়ায় তাঁকেও অকথ্য গালিগালাজ করতে থাকে উরুগুয়ের ফুটবলাররা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেয় রিজার্ভ বেঞ্চের ফুটবলাররা। যোগ দেন স্বয়ং কোচ অস্কার তাবারেজ। নিয়ম ভেঙে মাঠে নেমে রেফারিকে জিজ্ঞেস করেন তাঁর এমন সিদ্ধান্তের কারণ। ফুসিলে আবার লাল কার্ড দেখেও মাঠ না ছেড়ে রিজার্ভ বেঞ্চে গিয়ে বসে থাকেন। খারাপ আচরণের জন্য তাবারেজকেও ডাগআউট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। খেলা আবার শুরু হওয়ার পরে ব্যবধান বাড়ানোর দুর্দান্ত সু্যোগ পেয়েও তা নষ্ট করেন ভিদাল। ম্যাচ ১-০ শেষ হয়।
শেষ চারে পৌঁছল চিলি। আর মাত্র দু’টি ম্যাচ। ৯৯ বছরের ইতিহাস বদলাতে ৪ জুলাই এখন পাখির চোখ চিলির।