বৈভব সূর্যবংশী। —ফাইল চিত্র।
ত্রিদেশীয় সিরিজ়ে খেলা চলাকালীন মেজাজ হারিয়ে শাস্তি পেতে পারে বৈভব সূর্যবংশী। ভারত ‘এ’ বনাম শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের ম্যাচ শেষে মেজাজ ধরে রাখতে পারেনি বৈভব। শ্রীলঙ্কার এক ক্রিকেটারকে ধাক্কা মারে সে। ফলে শাস্তি পেতে পারে ভারতের ১৫ বছর বয়সি ক্রিকেটার। যদিও এই ঘটনায় বৈভবের পাশেই দাঁড়িয়েছেন অধিনায়ক তিলক বর্মা, কোচ সাইরাজ বাহুতুলে ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
প্রতিপক্ষ ক্রিকেটারকে ধাক্কা মারায় জরিমানা হতে পারে বৈভবের। ২০২৪ সালে ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ় চলাকালীন প্রতিপক্ষ ক্রিকেটারকে ধাক্কা মারায় ২০ শতাংশ ম্যাচ ফি কেটে নেওয়া হয়েছিল বিরাট কোহলির। সেই শাস্তিই পেতে পারে বৈভব। পাশাপাশি সতর্ক করা হতে পারে ভারতীয় ওপেনারকে।
যদিও এই ঘটনায় অধিনায়ক, কোচ ও বোর্ডের সমর্থন পেয়েছে বৈভব। খেলা শেষে তিলক বলেন, “গোটা ম্যাচ জু়ড়ে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারেরা আমাদের গালাগাল করছিল। আম্পায়ারেরাও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ওদের পক্ষে দিয়েছেন। আমরা সে সব নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে খেলেছি। কিন্তু খেলা শেষে বৈভব যখন সাজঘরে ফিরছিল, তখন শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারেরা অকারণে ওকে গালাগাল করেছে। ওরাই সীমা ভেঙেছে। বৈভব একদম ঠিক করেছে।”
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব দেবজিৎ শইকীয়া জানিয়েছেন, এই ঘটনায় কোনও পদক্ষেপ বোর্ড করবে না। তাঁরা চান না, এক তরুণ ক্রিকেটারের মনঃসংযোগ নষ্ট হোক। শইকীয়া বলেন, “আমরা চাই, ক্রিকেটারেরা প্রতিযোগিতায় মন দিক। খেলায় মন দিক। এই ধরনের ঘটনায় যেন তাদের মনঃসংযোগ নষ্ট না হয়। বোর্ড ক্রিকেটারদের পাশে রয়েছে।”
শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের ব্যবহার শেখার পরামর্শ দিয়েছেন কোচ বাহুতুলে। খেলা শেষে তিনি বলেন, “খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। আমি বৈভবকে চিনি। ও খেলার মধ্যে থাকে। আমি কথা দিচ্ছি, ভবিষ্যতে ও এ রকম কিছু করবে না।” তার পরেই বাহুতুলে বলেন, “আমি নিশ্চিত, ওকে বিরক্ত করা হচ্ছিল। গোটা ম্যাচ জুড়েই তা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের শেখা উচিত, প্রতিপক্ষের সঙ্গে কী রকম ব্যবহার করতে হয়। ওদের দলেও অভিজ্ঞ কোচ রয়েছেন। আশা করি ওঁরা ক্রিকেটারদের সেই শিক্ষা দেবেন।”
সুপার ওভারে শেষ বলে জিততে আট রান দরকার ছিল ভারতের। শেষ বলে কোনও রান নিতে পারেনি বৈভব। এর পর শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলানোর আগে বিপক্ষের এক ক্রিকেটারকে ধাক্কা মারে বৈভব। সঙ্গে সঙ্গে বৈভবের সতীর্থ সূর্যাংশ শেড়গে এসে তাকে সরিয়ে নিয়ে যান।
শেষ ওভার করতে এসেছিলেন কুগাতাস মথুলান। শেষ বলটি তিনি ইয়র্কার দেন। বৈভব রান করতে পারেননি। এর পর মথুলানের উল্লাসই হোক বা অন্য কোনও কারণ, বৈভব তা মানতে পারেনি। সে সটান গিয়ে ধাক্কা দেয় ক্রিকেটারকে।
সূর্যাংশ ছাড়াও এগিয়ে আসেন শ্রীলঙ্কার নিরোশন ডিকওয়েলা। দু’জনে মিলে বৈভবকে অন্য দিকে সরিয়ে নিয়ে যান। এর পর ক্রিকেটারেরা একে অপরের সঙ্গে হাত মেলান। বৈভবকে তবু সামলানো যাচ্ছিল না। সতীর্থেরা এসে তাকে শান্ত করেন। কেউ কেউ বলছেন, অনেক ক্ষণ ধরেই বৈভবকে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করছিলেন শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারেরা।
সোমবারের ম্যাচে একাধিক উত্তেজক মুহূর্ত তৈরি হয়েছে। একটি ঘটনা ঘটেছে অধিনায়ক তিলকের সঙ্গে। একটি সিদ্ধান্তে অখুশি হয়ে তিনি আম্পায়ারদের সঙ্গে তর্ক করেন। প্রথমে আম্পায়ারদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে সুপার ওভার হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আলো রয়েছে মাঠে। এর পর একটি নো বল দেওয়া নিয়েও ঝামেলা হয়। সেই সময় চতুর্থ আম্পায়ারের সঙ্গে তর্ক করতে দেখা যায় বৈভবকে। এই সব কারণেই হয়তো খেলা শেষে আর মেজাজ ধরে রাখতে পারেনি বৈভব।