মাহেলা জয়বর্ধনে। ছবি: পিটিআই।
চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে হেরে আইপিএলের প্লেঅফের দৌড় থেকে প্রায় ছিটকে গিয়েছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। জয়প্রীত বুমরাহ, সূর্যকুমার যাদব, তিলক বর্মারা প্রত্যাশা মতো পারফর্ম করতে পারছে না। খাতায়-কলমে শক্তিশালী দল তৈরি গড়েও কেন এমন বেহাল দশা মুম্বইয়ের? শনিবার চেন্নাইয়ের কাছে হারের পর ব্যাখ্যা দিয়েছেন কোচ মাহেলা জয়বর্ধনে।
পাঁচ বারের আইপিএল চ্যাম্পিয়নদের এ বার চেনা যাচ্ছে না। শনিবারও খেলেননি রোহিত শর্মা। ন’টি ম্যাচ খেলে হার্দিক পাণ্ড্যের দল জিতেছে দু’টি। এমন পারফরম্যান্সের পর জয়বর্ধনে দলের ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সূর্যকুমার সম্পর্কে মুম্বই কোচের বক্তব্য, ‘‘আমার মনে হয় না সূর্যকুমারের পারফরম্যান্সে খামতি রয়েছে। পর পর ম্যাচে বড় রান করার ক্ষমতা রয়েছে ওর। যে কোনও দিন বড় রান পাবে। আমার তো মনে হচ্ছে খুব তাড়াতাড়ি ছন্দে ফিরবে। চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে শুরুটা কিন্তু খারাপ করেনি। বোলারদের শাসন করার চেষ্টা করেছে। আর দু’এক ওভার থাকলে ভাল রান করে ফেলত।’’ জয়বর্ধনে আরও বলেছেন, ‘‘কখনও কখনও পরিস্থিতি অনুকূল থাকে না। সে সময় কিছুই ঠিকঠাক হয় না। আমার মতে চেন্নাই ম্যাচে সূর্যের একটা বেশ ভাল শট সরাসরি ফিল্ডারের হাতে চলে গিয়েছে। নিশ্চিত ভাবে ও বড় ইনিংস খেলার জন্য প্রস্তুত। ফর্মেও রয়েছে। এ বার বড় শট খেলতে গিয়ে কয়েক বার বাউন্ডারির কাছে ক্যাচ আউট হয়েছে। বড় রান পাওয়া সময়ের ব্যাপার। আমার মনে হয়, সূর্যকুমার নিজেও হতাশ। ওকে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যেতে হবে।’’
তিলককেও কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে রাজি নন জয়বর্ধনে। তাঁর মতে, তিলক এখনও শিখছেন। মুম্বই কোচ বলেছেন, ‘‘তিলক এখনও শিখছে। ওকে বিভিন্ন ভূমিকা পালন করতে দেওয়া হচ্ছে। সেই দায়িত্বগুলো পালনও করছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মোটেও সহজ নয়। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে খেললে অভিজ্ঞতা বাড়ে। যত বেশি খেলবে, তত বুঝতে পারবে কোন পরিস্থিতিতে কী করতে হবে। পরিস্থিতি সামলাতে শিখবে। আরও ভাবতে শিখবে। কোন সময় কতটা আগ্রাসী হতে হয়, বুঝবে। আমার মনে হয় এই বিষয়গুলো তিলক দ্রুত আয়ত্ত করে ফেলবে।’’
বুমরাহও এ বার চেনা ফর্মে নেই। উইকেট পাচ্ছেন না। তাঁকে নিয়ে কিছু দিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। তবে জয়বর্ধনে বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলারকে নিয়ে চিন্তিত নন। বুমরাহকে নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘‘এটা শুধু বুমরাহের ব্যাপার নয়। পুরো বোলিং বিভাগের দায়িত্ব উইকেট নেওয়া। সকলে একসঙ্গে চেষ্টা করলে, দু’একটা উইকেট পড়লে বুমরাহ সাহায্য পাবে। আরও আগ্রাসী বোলিং করতে পারবে। সকলকেই কোনও না কোনও মরসুমে একটু কম কার্যকরী মনে হয়। তবে দক্ষতা কিন্তু স্থায়ী।’’