উসমান তারিক। —ফাইল চিত্র।
তাঁর বলে পাঁচ রকমের বৈচিত্র আছে। পাশাপাশি তাঁর বোলিং অ্যাকশনও অদ্ভুত। একেবারেই দৌড়ান না। বল করার আগে হঠাৎ থমকে যান। এক সেকেন্ডের বিরতি নিয়ে তার পর বল ছাড়েন। এখনও তাঁর স্পিনের রহস্য অজানা। তাঁর বোলিং অ্যাকশন নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। তিনি যে ভাবে বল করেন তার রহস্য ফাঁস করলেন পাকিস্তানের স্পিনার উসমান তারিক।
বিশ্বকাপের সুপার এইটে নিউ জ়িল্যান্ড ম্যাচের আগে বোলিং অ্যাকশন নিয়ে কথা বলেছেন তারিক। ধারাভাষ্যকারদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি টেনিস বলে খেলার সময়ও এ ভাবেই বল করতাম। যদি স্লো-মোশনে আমার বোলিং দেখেন, তা হলে বুঝবেন, একটা ছন্দ আছে। কিন্তু আমি ধীরে এগোই। পুরো বোলিং অ্যাকশনকে কয়েকটা ভাগে ভেঙে ফেলেছি। তাতে আমার সুবিধা হয়। এ ভাবে বল করেই সফল হয়েছি। তাই বোলিং অ্যাকশন বদলাইনি।”
তাঁর বোলিং অ্যাকশন বৈধ কি না, তা নিয়ে বার বার আলোচনা হয়েছে। আগেও দু’বার অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু প্রমাণিত হয়নি। তারিক জানিয়েছিলেন, তাঁর হাতে দু’টি কনুই রয়েছে। ফলে বল করার সময় মনে হয়, হাত ভাঙছেন তিনি। কিন্তু আদতে তা নয়। তাঁর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে দু’বার পরীক্ষা হয়েছে। কিন্তু অবৈধ কিছু ধরা পড়েনি।
তারিক কোনও দিন ভাবেননি যে, বিশ্বকাপে তাঁকে নিয়ে এত আলোচনা হবে। তবে এই আলোচনা উপভোগ করছেন পাক স্পিনার। তারিক বলেন, “আমি ভাবিনি এত জন কিংবদন্তি আমার বোলিং নিয়ে কথা বলবেন। আমার খুব ভাল লাগছে। পাশাপাশি বলটাও ভাল করছি। ছ’সাত বছর আগে যখন ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতাম, তখন ভাবিনি এত দূর এগোতে পারব।”
বোলিং অ্যাকশনের পাশাপাশি মাথার ফেটিতেও নজর কেড়েছেন তারিক। ফেটি বেঁধে বল করার অবশ্য একটি কারণও রয়েছে তাঁর। তারিক বলেন, “আগে চুল লম্বা ছিল। অনেক সময় মাথার চুল চোখের সামনে চলে আসত। ফলে বল করতে সমস্যা হত। সেই কারণেই ফেটি বাঁধা শুরু করি। কিন্তু এই ফেটি নিয়ে এত আলোচনা হয়েছে যে এখন এটা বেঁধেই খেলি। চুল ছোট থাকলেও ফেটি বেঁধে খেলি।”
বিশ্বকাপে নিজেদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কার মাটিতে খেলবে পাকিস্তান। সেখানে স্পিনারেরা সাহায্য পান। সেই সাহায্য কাজে লাগিয়ে দলকে জেতানোর লক্ষ্যেই তিনি মাঠে নামতে চান, জানিয়ে দিয়েছেন তারিক।