IPL 2026

২৩৩ বলে ৫২৯! বোলারদের বধ্যভূমিতে রেকর্ড রান তাড়া করে দিল্লিকে হারাল পঞ্জাব, ভেঙে গেল কেকেআরের লজ্জার নজির

আইপিএলে দিল্লির মাঠে দেখা গেল রানের বন্যা। দিল্লি বনাম পঞ্জাব ম্যাচে পাটা পিচে দুই দলই আগ্রাসী ক্রিকেট খেলল। শেষ পর্যন্ত জিতল পঞ্জাব। ভেঙে গেল কলকাতার লজ্জার নজির।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৫১
Share:

পঞ্জাবকে জেতালেন শ্রেয়স আয়ার। ছবি: পিটিআই।

আইপিএলে দিল্লির মাঠে দেখা গেল রানের বন্যা। দিল্লি বনাম পঞ্জাব ম্যাচে পাটা পিচে দুই দলই আগ্রাসী ক্রিকেট খেলল। শেষ পর্যন্ত জিতল পঞ্জাব। একাধিক নজির-সহ শতরান করলেন কেএল রাহুল। দিনের শেষে তাঁর শতরান দাম পেল না। নজর কেড়ে নিল প্রিয়াংশ আর্য, প্রভসিমরন সিংহের ব্যাটিং। তবে পঞ্জাবকে জিতিয়েছে শ্রেয়স আয়ারের ব্যাটিং। দু’বার তাঁর ক্যাচ পড়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলকে জিতিয়েছেন তিনি। প্রথমে ব্যাট ২৬৪/২ তুলেছিল দিল্লি। জবাবে পঞ্জাব তোলে ২৬৫/৪।

Advertisement

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২৬৫ রান তাড়া করে তোলা একেবারেই সহজ নয়। অবশ্য পঞ্জাব অতীতেও এই কাজ করে দেখিয়েছে। ২০২৪-এ ইডেন গার্ডেন্সে কলকাতার তোলা ২৬১ রান তাড়া করে জিতেছিল তারা। সেটাই এখনও পর্যন্ত আইপিএলে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়। সেই ম্যাচে কলকাতার অধিনায়ক শ্রেয়স হতাশ চোখে দলের হার দেখেছিলেন। এ দিন দলের জয়ের সাক্ষী থাকলেন তিনি। নিজেই দলকে জেতালেন। তবে সাহায্য পেলেন করুণ নায়ারের। দিল্লির ক্রিকেটার দু’টি লোপ্পা ক্যাচ না ফেলে দিলেন এই ম্যাচ পঞ্জাবের জেতার কথাই নয়।

পঞ্জাবের দুই ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য এবং প্রভসিমরন সিংহ আগ্রাসী খেলার জন্যই বিখ্যাত। এ দিন তাঁরা সম্ভবত সেরা খেলাটা খেলে গেলেন। আকিব নবিকে ছয় মেরে শুরু করেন প্রিয়াংশ। এর পর শেষ বলেও আসে ছয়। দ্বিতীয় ওভারে মুকেশ কুমার দেন ২১ রান। দু’টি ছয় এবং একটি চার হজম করেন তিনি। ষষ্ঠ ওভারে মুকেশকে ছ’বলে ছ’টি চার মারেন প্রভসিমরন। পাওয়ার প্লে-তে ১১৬ রান তুলে ফেলে পঞ্জাব। আইপিএলের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান পাওয়ার প্লে-তে।

Advertisement

তখনই বোঝা গিয়েছিল, এই পিচে আর বোলারদের জন্য কিছু নেই। এর পর ম্যাচ যত এগিয়েছে তত পঞ্জাবের দাপট বেড়েছে। প্রভসিমরন (২৬ বলে ৭৬) আউট হওয়ার পর আচমকাই রানের গতি কিছুটা কমে যায়। তিন ওভারে ওঠে মাত্র ২০ রান। সমস্যা আরও বাড়ে কুপার কনোলি (১৭) আউট হওয়ার পরে। শ্রেয়স এবং নেহাল ওয়াধেরা ক্রিজ়ে আসার পর থিতু হতে সামান্য সময় নেন। তার পরেই চালিয়ে খেলতে শুরু করেন তাঁরা।

১৫তম ওভারের শেষ বলে করুণ প্রথম বার ক্যাচ ছাড়েন শ্রেয়সের। দু’বল পর আবার ক্যাচ ছাড়েন তিনি। এ বার কুলদীপের বলে। বুদ্ধিমান শ্রেয়স এই দুই সুযোগ ছাড়েননি। শেষ পর্যন্ত ক্রিজ়ে থেকে দলকে জিতিয়ে যান তিনি। ৩৬ বলে ৭১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ওয়াধেরা অপরাজিত থাকেন ১৫ বলে ২৫ করে।

Advertisement

তার আগে, শনিবার দুপুরে কোটলা মাতিয়ে যান রাহুল। দল জিতুক বা হারুক, আইপিএলে কখনও থামে না রাহুলের ব্যাট। তবে এ বার কয়েকটি ম্যাচে বড় রান পাননি। সেই রাহুলকে সেরা ফর্মে দেখা গেল শনিবার কোটলায়। পঞ্জাবের বোলিংকে ছিন্নভিন্ন করে শতরান করেন দিল্লির ওপেনার। বুঝিয়ে দেন, তিনি ফুরিয়ে যাননি। মরসুমে প্রথম বার এতটা খারাপ দেখিয়েছে পঞ্জাবের বোলিং। পাল্লা দিয়ে খেলেন নীতীশ রানাও।

গুজরাতের বিরুদ্ধে অল্পের জন্য শতরান (৯২) পাননি রাহুল। তার পর বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে অর্ধশতরান করেছিলেন। নিজের পুরনো দল পঞ্জাবের বিরুদ্ধে আরও আগ্রাসী দেখিয়েছে তাঁকে। রাহুলের সামনে দাঁড়াতে পারেননি পঞ্জাবের কোনও বোলার। রাহুলের দু’টি ক্যাচ ফেলার খেসারত দিতে হয়েছে পঞ্জাবকে। রাহুল শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৬৭ বলে ১৫২ রানে। মেরেছেন ১৬টি চার এবং ৯টি ছয়। আইপিএলের ইতিহাসে এটি ব্যক্তিগত রানের নিরিখে তৃতীয় সর্বোচ্চ।

দিল্লিতে ৪১ ডিগ্রি গরমের মধ্যে দুপুরবেলায় ম্যাচ দেওয়া হয়েছে। ক্যামেরায় দেখা গেল, বেশির ভাগ দর্শকই কান, মাথা ঢেকে রোদ থেকে বাঁচার চেষ্টা করছিলেন। দর্শকদের আরাম দিতে ব্যবস্থা করা হয়েছিল ‘স্প্রিঙ্কলার’-এর। তাতে যদি শারীরিক আরাম পাওয়া যায়, তা হলে চোখের আরাম উপহার দেয় রাহুলের ব্যাটিং। পঞ্জাবের বোলারদের আগে এতটা অসহায় লাগেনি। অর্শদীপ সিংহের মতো বোলারও দিশা খুঁজে পাননি।

দিল্লির হয়ে ওপেন করতে নেমে আবার ব্যর্থ পাথুম নিসঙ্ক (১১)। কিন্তু রাহুলের সঙ্গে নীতীশ যোগ দিতে খেলার গতি বদলে যায়। দু’জনে মিলে দ্বিতীয় উইকেটে ২২০ রানের জুটি গড়েছেন। প্রথম ওভারে আট রান ওঠে। এর পর প্রতি ওভারে নিয়ম করে ১০-এর বেশি রান উঠতে থাকে। এই জুটি সবচেয়ে বেশি নির্দয় ছিল বিজয়কুমার বিশাখের উপরে। তাঁর প্রথম ওভারে দু’টি চার এবং একটি ছয় মেরে ১৬ রান নেন এই জুটি।

বেশি আগ্রাসী ছিলেন রাহুলই। তিনি প্রায় ২০০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করছিলেন। একটি ওভারে রাহুলের সমান রান হয়ে যায় নীতীশের। জ়েভিয়ার বার্টলেটের সেই ওভারে দু’টি ছয় এবং চারটি চার মারেন নীতীশ। ওঠে ২৮ রান। চাপের মুখে রান দিয়ে ফেলেন অর্শদীপও। তাঁর তৃতীয় ওভারে আসে ২০ রান। ১৫তম ওভারে মার্কো জানসেনকে চার মেরে শতরান পূরণ করেন রাহুল। আইপিএলে এটি তাঁর ষষ্ঠ শতরান। ১৬তম ওভারে বিশাখ দেন ২৪ রান।

আইপিএলে দ্রুততম শতরান করেছেন রাহুল। এ দিন ৪৭ বলে শতরান করেন। এর আগে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ৫৬ বলে শতরানটিই দ্রুততম ছিল। পাশাপাশি, দিল্লির ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রানও হল তাঁর। আগের নজির ছিল ঋষভ পন্থের ১২৮।

নীতীশের সামনেও সুযোগ ছিল শতরান করার। তবে ১৯তম ওভারে বার্টলেটের বলে তুলে মারতে গিয়ে আউট হন তিনি। ১১টি চার এবং ৪টি ছয়ের সাহায্যে ৪৪ বলে ৯১ রান করেন তিনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement