শ্রেয়স আয়ার। —ফাইল চিত্র।
একটা সময় ছিল যখন শর্ট বল খেলতে সমস্যা হত শ্রেয়স আয়ারের। পেসারেরা তাঁকে শর্ট বলে আউট করতেন। কিন্তু এখন আর সেই সমস্যা নেই। সাবলীল ভাবে মারেন পুল বা হুক। তার নেপথ্যে কেকেআরের কোচকে কৃতিত্ব দিয়েছেন শ্রেয়স।
২০২৩ সালের বিশ্বকাপের আগেই শর্ট বলের বিরুদ্ধে সমস্যা মেটান শ্রেয়স। এ বারের আইপিএলে শর্ট বলে বেশ কয়েকটি ছক্কা মেরেছেন তিনি। তার মধ্যে ওয়ানখেডে স্টেডিয়ামে জসপ্রীত বুমরাহের বাউন্সারে একটি বিশাল ছক্কাও রয়েছে। কী ভাবে সমস্যা মিটিয়েছেন, তা জানিয়েছেন শ্রেয়স।
আইপিএলের মাঝে সম্প্রচারকারী চ্যানেলে ইরফান পাঠানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শ্রেয়স জানিয়েছেন, তাঁকে নিয়ে সমালোচনা শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। সমালোচকদের জবাব দিতেই শুরু করেছিলেন পরিশ্রম। শ্রেয়স বলেন, “সকলে বলত, আমি কোনও দিন এই সমস্যা মেটাতে পারব না। সেটাই আমাকে মনোবল জোগাত। আমি ওদের ভুল প্রমাণ করতে চেয়েছিলাম। তাই শর্ট বল খেলার পরিমাণ বাড়িয়ে দিই। অনেক পরিশ্রম করেছি।”
শুরু থেকেই বড় শট খেলা শুরু করেননি তিনি। শুরুতে পরিকল্পনা ছিল আলাদা। পরে মনোভাব বদলেছেন। শ্রেয়স বলেন, “শুরুতে শুধু সিঙ্গল নেওয়া বা বল মাটিতে রাখার চেষ্টা করতাম। কিন্তু এখন মানসিকতা বদলে গিয়েছে। এখন যদি ব্যাটের নাগালের মধ্যে শর্ট বল পাই, তো ছক্কা মারার চেষ্টা করি। অন্য কিছু ভাবি না।”
এই সমস্যা মেটাতে শ্রেয়সকে সাহায্য করেছিলেন দু’জন। প্রবীণ আমরে ও অভিষেক নায়ার। শ্রেয়স বলেন, “আমি প্রবীণ আমরের সঙ্গে কাজ করেছি। ছোট থেকেই উনি আমাকে খুব সাহায্য করেছেন। অভিষেক নায়ারের মতো কোচের সঙ্গেও আমি কাজ করেছি। আলোচনা করেছি। এখন অনুশীলনে প্রায় ৫০ ওভার ব্যাট করি। তাতে আমার দীর্ঘ সময় ব্যাট করার প্রবণতা বেড়েছে।”
আইপিএলে শ্রেয়স যখন কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক ছিলেন, তখন দলের সহকারী কোচ ছিলেন অভিষেক। তখন থেকেই দু’জনের ভাল সম্পর্ক। শুধু শ্রেয়স নন, এর আগে রোহিত শর্মার মতো ক্রিকেটারও কঠিন সময়ে অভিষেকের সঙ্গে কাজ করেছেন। সেই পথই নিয়েছেন শ্রেয়স।
রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলির মতো ক্রিকেটারকে দেখে শিখেছেন শ্রেয়স। পঞ্জাব কিংসের অধিনায়ক বলেন, “অনুশীলনে বোলারদের বিরুদ্ধে খেলি। থ্রো-ডাউন বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে নয়। জানি, যত বোলারের বিরুদ্ধে খেলব, তত ছন্দ পাব। আমি দেখেছি বিরাট ভাই, রোহিত ভাইরা এ ভাবেই অনুশীলন করে। এবি ডিভিলিয়ার্সকেও দেখেছি। ওরা যা করে, তেমনটাই করার চেষ্টা করি।”
এ বারের আইপিএলে ব্যাট হাতে সাত ম্যাচে ২৭৯ রান করেছেন শ্রেয়স। ৬৯.৭৫ গড় ও ১৫০ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন তিনি। চারটি অর্ধশতরান এসেছে শ্রেয়সের ব্যাট থেকে। ফিনিশারের ভূমিকা পালন করছেন তিনি। পাশাপাশি দুর্দান্ত নেতৃত্ব দিচ্ছেন শ্রেয়স। তিনিই এখনও পর্যন্ত একমাত্র অপরাজিত অধিনায়ক। তাঁর দল পঞ্জাব সাত ম্যাচের মধ্যে ছ’টি জিতেছে। একটি ম্যাচ ভেস্তে গিয়েছে। ১৩ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় সকলের উপরে রয়েছেন শ্রেয়সেরা।