শুভমন গিল। ছবি: পিটিআই।
অধিনায়কের ইনিংস খেললেন শুভমন গিল। বুঝিয়ে দিলেন, সাদা বলের ক্রিকেটে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মাদের জুতোয় পা গলাতে পুরোপুরি তৈরি তিনি। ঠিক যে ভাবে কোহলি, রোহিত হিসাব করে রান তাড়া করতেন, সেটাই দেখা গেল শুভমনের ব্যাট থেকে। ওপেন করতে নেমে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকলেন তিনি। ধর্মশালায় ভারতের সামনে ২৫ ওভারে ১৯৫ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল আফগানিস্তান। ১৩ বল বাকি থাকতে রান তাড়া করে ৭ উইকেটে জিতল ভারত। ৬৬ বলে ৮৪ রানে অপরাজিত থাকলেন শুভমন।
একটা সময় দেখে মনে হচ্ছিল শুভমনের শতরান হয়ে যাবে। কিন্তু শেষ দিকে ঝোড়ো ব্যাট করলেন লোকেশ রাহুল। ফলে শুভমনের শতরান হয়তো হল না, কিন্তু যে ভাবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেললেন তা স্বস্তি দেবে গৌতম গম্ভীরকে।
রোহিত শর্মার কাছেও বড় ইনিংস দেখতে চেয়েছিলেন ভক্তেরা। এই ম্যাচে খেলতে নামার আগেই একটি রেকর্ড করেন তিনি। ভারতের পুরুষ ক্রিকেটারদের মধ্যে বয়স্কতম হিসাবে এক দিনের ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন তিনি। ১৯৫ রান তাড়়া করতে নেমে একটি বল কব্জিতে লাগায় চোট পান রোহিত। সেই কারণেই হয়তো শুরু থেকে বড় শট খেলতে সমস্যা হচ্ছিল। তার পরেও শুভমনের সঙ্গে জুটি গড়েন তিনি। রোহিতই প্রথম ভারতীয় ওপেনার যিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ হাজার রান পূর্ণ করলেন। কিন্তু শুভমনের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির জেরে ১৬ রানের মাথায় আউট হন।
ভারতের ইনিংস টানেন শুভমন ও ঈশান কিশন। বিরাট কোহলি না থাকায় এই ম্যাচে তিন নম্বরে সুযোগ পেয়েছিলেন ঈশান। তা কাজে লাগালেন তিনি। বেশ কয়েকটি ভাল শট খেললেন। দ্রুত রান তুলছিলেন। ওভার প্রতি ৮ রানের কম দরকার ছিল। সেই রানরেট বজায় রেখে খেলছিলেন দু’জনে। ৪৩ বলে ৭০ রানের জুটি হয় তাঁদের। রশিদ খানের বলে উইকেট ছেড়ে খেলতে গিয়ে ২২ বলে ৩৪ রানের মাথায় আউট হন তিনি।
শুভমনকে থামানো যাচ্ছিল না। প্রায় প্রতি ওভারে একটি করে চার মারছিলেন। ফিল্ডার দেখে খেলছিলেন। হাওয়ায় শট মারার বদলে বাউন্ডারি মারার দিকে বেশি নজর দেন তিনি। করেন অর্ধশতরান। দ্রুততম ভারতীয় ক্রিকেটার হিসাবে এক দিনের ক্রিকেটে ৩০০০ রান করলেন তিনি। মাত্র ৫৭ ইনিংসে করলেন ৩০০০ রান।
রান পাননি শ্রেয়স আয়ার। ১২ রান করে আউট হন তিনি। তবে হতাশ করেননি রাহুল। শেষ দিকে নেমে মাত্র ১৯ বলে ৩৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। শুভমন ও রাহুল দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন।
ধর্মশালায় সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টির জেরে বেশ কিছু ক্ষণ পরে খেলা শুরু হয়। ফলে ৫০ ওভারের ম্যাচ কমে ২৫ ওভার করে হয়। গুরুত্বপূর্ণ টস জেতেন শুভমন। এই ম্যাচে ভারতের জার্সিতে অভিষেক হল গুর্নুর ব্রার ও হর্ষ দুবের। দু’জনেই নজর কাড়লেন। নিজের প্রথম ওভারেই ইব্রাহিম জ়াদরানকে আউট করলেন গুর্নুর। রান পাননি সেদিকুল্লা অটল ও রহমত শাহ। দু’জনকেই আউট করেন অর্শদীপ সিংহ। ২৬ রানে ৩ উইকেট পড়ে যায় আফগানিস্তানের।
গুর্নুরের গতি ও লেংথ সমস্যায় ফেলছিল আফগান ব্যাটারদের। ক্রমাগত ১৪০ কিলোমিটারের বেশি প্রতি ঘণ্টায় বল করলেন তিনি। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে পাল্টা মার শুরু করেন গুরবাজ়। দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি অন্য পিচে খেলছেন। তাঁকে আউট করার সুযোগও নষ্ট করে ভারত। এক বার রান আউট হতে হতে বাঁচেন গুরবাজ়। কিন্তু হাত খোলা থামাননি তিনি। গুরবাজ়ের ব্যাটে একটা সময় প্রায় ১০ রান প্রতি ওভারে রান উঠছিল।
হর্ষের বিরুদ্ধে শুরুতে হাত খোলেন গুরবাজ়। ধর্মশালার মাঠ বেশি বড় নয়। এখানে ছক্কা মারাও সুবিধা। সেটা কাজে লাগালেন গুরবাজ়। মাত্র ৪৮ বলে শতরান করলেন তিনি। এক দিনের ক্রিকেটে এটি ভারতের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দ্রুততম শতরান। তবে শতরানের পর বেশি ক্ষণ টেকেননি গুরবাজ়। নীতীশ কুমার রেড্ডির বলে ১০২ রানে আউট হন তিনি।
গুরবাজ় বাদে আফগানিস্তানের মাত্র দুই ব্যাটার রান পেয়েছেন। অধিনায়ক হাশমাতুল্লা শাহিদি ২৭ ও আজ়মাতুল্লা ওমরজাই ২৬ রান করেন। বাকিরা রান পাননি। দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় উইকেট পড়তে থাকে। হর্ষ শুরুতে রান দিলেও দ্বিতীয় স্পেলে ভাল বল করেন। শেষ ওভারে দুই উইকেট তুলে আফগানিস্তানের ইনিংস শেষ করে গুর্নুর। ২৪.৫ ওভারে ১৯৪ রানে অল আউট হয়ে যায় আফগানিস্তান। গুর্নুর ও হর্ষ দু’জনেই ৩ করে উইকেট নেন। ২ করে উইকেট নেন অর্শদীপ ও নীতীশ।