শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল। —ফাইল চিত্র।
সরকারের হস্তক্ষেপে নতুন সঙ্কট তৈরি হল শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে। সরকারের নির্দেশে মেয়াদ শেষের আগেই ইস্তফা দিতে বাধ্য হলেন সভাপতি শাম্মি সিলভা-সহ সব পদাধিকারী। দীর্ঘ দিন ধরে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট কর্তাদের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল। সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) শাস্তির মুখে পড়তে পারে শ্রীলঙ্কা।
দু’বছরের মেয়াদের ১১ মাস বাকি ছিল শাম্মির। কিন্তু মঙ্গলবার একটি জরুরি সভার পর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন তিনি। পরিচালন বোর্ড ভেঙে দিয়েছেন তিনি। ফলে অন্য পদাধিকারীরাও ইস্তফা দিয়েছেন। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের বিরুদ্ধে বেশ কিছু দিন ধরে দুর্নীতি এবং নানা অব্যবস্থার অভিযোগ উঠছিল। দেশের সবচেয়ে ধনী ক্রীড়া সংস্থার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে অসন্তুষ্ট ছিল শ্রীলঙ্কার সরকার।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের এক কর্তা সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘‘ক্ষমতাসীন বোর্ড ইস্তফা দিয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সময় কোনও ম্যানেজমেন্ট দল বোর্ড পরিচালনার দায়িত্বে আসতে পারে। তাঁদের মধ্যে থাকতে পারেন বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের একজন নেতা। সম্ভবত তিনিই অন্তর্বর্তী সভাপতি হবেন।’’ শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমারা দেশনায়েক গত সপ্তাহের শেষে শাম্মির সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। দেশের ক্রিকেট পরিচালনা এবং বোর্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে ওই আলোচনার পরই শাম্মি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের পরিচালন বোর্ড ভেঙে দিলেন। মনে করা হচ্ছে, ওই বৈঠকেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের নির্দেশ দেন কর্তাদের।
২০২৩ সালে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে শ্রীলঙ্কা সাময়িক ভাবে নিষিদ্ধ করেছিল আইসিসি। এ বারও সেই সম্ভাবনা থাকছে। ২০২৪ সালের শুরুতে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর শাম্মি সভাপতি হয়ে ফিরে আসেন। তার পর গত বছর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চতুর্থ বারের জন্য শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সভাপতি হয়েছিলেন শাম্মি।