নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ব্যাটিংয়ের সময় সূর্যকুমার যাদব (বাঁ দিকে) ও অভিষেক শর্মা। ছবি: পিটিআই।
বাকি সকলে দেখতে পেলেও দলের কোনও দুর্বলতা খুঁজে পাচ্ছেন না ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। নাগপুরে ৪৮ রানে নিউ জ়িল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টি জিতেছে ভারত। এই জয়ের মধ্যেও বিষেশজ্ঞদের ভাবাচ্ছে ভারতের ফিল্ডিং। দু’টি সহজ ক্যাচ পড়েছে। কিন্তু ম্যাচ জিতে ফিল্ডারদের সেই দুর্বলতা ঢাকতে ব্যস্ত সূর্য।
খেলা শেষে ধারাভাষ্যকর হর্ষ ভোগলের প্রশ্নের জবাবে সূর্য বললেন, “প্রচুর শিশির পড়ছিল। বাতিস্তভের আলো নিয়েও একটু সমস্যা ছিল। আমি আমার ফিল্ডারদের দোষ দেখতে পাচ্ছি না।” যদিও তার পরেই হেসে তিনি বললেন, “আমার ফিল্ডারদের দোষ তো আমি ঢাকবই।”
ফিল্ডারদের পাশাপাশি চিন্তা রয়ে গিয়েছে সূর্যের ফর্ম নিয়েও। ২২ বলে ৩২ রান করলেও সেই পুরনো সূর্যকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বেশ কয়েকটি বল ব্যাটের মাঝে লাগেনি। যদিও সূর্য সে সব নিয়ে ভাবছেন না। তিনি বললেন, “আমি আগেও বলেছি, নেটে ভাল ব্যাট করছি। আত্মবিশ্বাস একই রকম আছে। কয়েকটা ভাল শটও খেলেছি। আশা করছি ধীরে ধীরে ফর্ম আরও ভাল হবে।”
এই ম্যাচে শুরুতে ব্যাট করেও যে শেষ পর্যন্ত তাঁরা জিতেছেন তাতে খুশি সূর্য। তাঁর মতে, পরিস্থিতি যেমনই হোক, আক্রমণের রাস্তা থেকে সরবেন না তাঁরা। সূর্য বললেন, “২৫ রানে ২ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরেও আমরা একই ভাবে ব্যাট করেছি। রান তোলার গতি কমতে দিইনি। প্রথমে ব্যাট করে বড় রান করেছি। তার পর বোলারদের দাপটে জিতেছি। দলের খেলায় আমি খুশি।”
ওপেনার অভিষেক শর্মার ব্যাটিংয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সূর্য। তাঁর আশা বিশ্বকাপেও এই ফর্ম ধরে রাখবেন অভিষেক।
যে অভিষেকের প্রশংসা সূর্য করেছেন তিনি ম্যাচের সেরা হয়ে জানালেন তাঁর প্রস্তুতির কথা। বললেন, “প্রতিটা ম্যাচের আগে দু-তিন দিন সময় পাই। নেটে অনুশীলনের সময়ই ঠিক করে নিই, কী ভাবে সেই ম্যাচে ব্যাট করব। কারণ, আমি জানি প্রতিটা বিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পনা করছে। তাই আমাকেও তৈরি থাকতে হয়।”
এই ম্যাচে ৮৪ রানের ইনিংসে ৮টি ছক্কা মেরেছেন অভিষেক। ছাপিয়ে গিয়েছে গুরু যুবরাজ সিংহকে। কী ভাবে অবলিলায় ছক্কা মারতে পারেন, সেই রহস্য ফাঁস করলেন ভারতীয় ওপেনার। অভিষেক বললেন, “আমি খুব একটা পেশিবহুল নই। তাই টাইমিংয়ের উপর জোর দিই। আমার হাতে প্রচুর শটও নেই। তিন-চারটে শটই মারতে পারি। সেগুলোই বার বার অনুশীলন করি। প্রতি বলে ছক্কা মারতে গেলে বা ২০০-র বেশ স্ট্রাইক রেটে রান করতে গেলে প্রস্তুতিটা খুব গুরত্বপূর্ণ। আমি তাই প্রস্তুত হয়েই নামি।”
সাফল্যের নেপথ্যে কোচ গৌতম গম্ভীরকেও কৃতিত্ব দিয়েছেন অভিষেক। তাঁর মতে ভারতীয় দলে এক নতুন সংস্কৃতি এনেছেন গম্ভীর। সেটি হল, আগ্রাসন। পরিবেশ বা প্রতিপক্ষ না দেখে কোচের সেই মন্ত্রে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ছোট ফরম্যাটে বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটার।