IPL 2026

ছেলেকে জুতো কিনে দিতে মাকে বিক্রি করতে হয়েছিল গয়না! কেকেআরে জায়গা না হওয়া সাকিব আইপিএলের নতুন নায়ক

প্রফুল যেখানে প্রথম ওভারেই বৈভব সূর্যবংশী-সহ রাজস্থান রয়্যালসের তিন জনকে আউট করেছেন, সাকিব নিজের প্রথম ওভারেই ফিরিয়েছেন ফর্মে থাকা যশস্বী জয়সওয়ালকে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:০৬
Share:

আইপিএলে অভিষেক ম্যাচেই ৪ উইকেট নেওয়া সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদের জোরে বোলার সাকিব হুসেন। ছবি: পিটিআই।

প্রফুল হিঙ্গের ছায়ায় তিনি খানিকটা ঢাকা পড়ে গিয়েছেন। কিন্তু আইপিএলে আর এক অভিষেককারী সাকিব হুসেনও ৪ উইকেট নিয়েছেন। ভারতীয়দের মধ্যে প্রথম ম্যাচে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন।

Advertisement

প্রফুল যেখানে প্রথম ওভারেই বৈভব সূর্যবংশী-সহ রাজস্থান রয়্যালসের তিন জনকে আউট করেছেন, সাকিব নিজের প্রথম ওভারেই ফিরিয়েছেন ফর্মে থাকা যশস্বী জয়সওয়ালকে। ইকোনমি রেট (ওভারপিছু রান) প্রফুলের (৮.৫০) থেকে অনেকটাই ভাল সাকিবের (৬.০০)। সোমবার আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদের ৫৭ রানে জয়ে সমান অবদান সাকিবের।

এই জোরে বোলারকে নিয়ে বাবা-কাকা ঝুঁকি না নিলে তাঁর হয়তো ক্রিকেট খেলাই হত না। বিহারের গোপালগঞ্জ গ্রামের ছেলে সাকিব। ২০২৪ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্স তাঁকে নিয়েছিল। কিন্তু একটিও ম্যাচ না খেলিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেয় শাহরুখ খানের দল। এই বছর সুযোগ বুঝে হায়দরাবাদ তাঁকে ৩০ লক্ষ টাকা দিয়ে বেস প্রাইসে কিনে নিয়েছে।

Advertisement

২০২৪ সালে তাঁকে নিয়ে একটি রিল তৈরি করেছিল কেকেআর। সেই রিল তখন বেশি মানুষ দেখেননি। সোমবারের পর দু’বছর আগের সেই রিল ভাইরাল। সেখানে সাকিবের বাবা আলি আহমেদ হুসেন বলেছেন, ‘‘একটা সময় ছিল যখন কী খাব, তাই নিয়ে দু’বেলা ভাবতে হত।’’ কৃষকের সন্তান সাকিব বলেছেন, ‘‘আমাদের একেবারেই মধ্যবিত্ত পরিবার। স্বপ্ন ছিল, একটু ভাল ভাবে থাকব। আর ইচ্ছে ছিল দেশের সেবা করার।’’

সেই ইচ্ছে থেকেই সাকিবের মনে হয়েছিল, সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন। বাড়ির কাছেই সেনার একটি স্টেডিয়াম ছিল। সেখানে সকালবেলা নিয়ম করে দৌড়োতেন। তখনই দুই জওয়ান আলিকে বলেছিলেন, ছেলের মধ্যে তেজ আছে। তাকে খেলাধুলোয় দিতে।

Advertisement

সাকিব বলেছেন, ‘‘আমি টেনিস বলে খেপ খেলতাম। টাকার দরকার ছিল। ৫০০, ৬০০, ৭০০ টাকা করে পেতাম। একটু দূরে খেলা থাকলে ম্যাচপিছু ২,০০০ টাকা করে জুটত।’’

আলি জানিয়েছেন, ‘‘যখন ওকে খেলার কথা বলা হয়েছিল, তখনই ও ঠিক করে নিয়েছিল, ক্রিকেটই খেলবে।’’ কিন্তু ক্রিকেট খেলায় প্রথম এবং প্রধান বাধা ছিল অর্থ। সাকিব বলেছেন, ‘‘জুতোর দাম ১০-১৫ হাজার টাকা। জুতো কিনলে খাব কী?’’

সাকিবের এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছিলেন মা সুবুকতারা খাতুন। বলেছেন, ‘‘এক দিন ছেলে কাঁদতে কাঁদতে এসে বলল, মা, আমার জুতো নেই। খেলব কী করে? আমার কাছে অত টাকা ছিল না। গয়না বিক্রি করে ওকে জুতো কিনে দিয়েছিলাম। সেই দাম ও দিয়েছে।’’ চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি সুবুকতারা।

সাকিবের কাকা আহমেদ হুসেন বলেছেন, ‘‘ওর উপর আমাদের ভরসা ছিল। তাই ঝুঁকি নেওয়ার সাহস দেখিয়েছিলাম। যা পরিশ্রম করত বা এখনও করে, তাতে মনে হয়েছিল, কিছু না কিছু করবে।’’

সৈয়দ মুস্তাক আলি টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় বিহারের হয়ে একটি ম্যাচে ভাল বল করেন সাকিব। সে কথা জানিয়ে নিজেই বলেছেন, ‘‘জানতাম, সামনেই আইপিএল। বিভিন্ন দলের স্পটারেরা সে দিন মাঠে ছিলেন। চেন্নাই সুপার কিংসের নজরে পড়ে গেলাম। ওরা আমাকে নেট বোলার হিসাবে ডাকল।’’

সেই বছরই নিলামে নাম লিখিয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু দল পাননি। কাকা জানিয়েছেন, ‘‘আমাদের টিভি ছিল না। মোবাইলে সকলে মিলে নিলাম দেখছিলাম। কেউ নিল না ওকে। হতাশ হয়ে গিয়েছিল। ওকে বলেছিলাম, ঘণ্টায় ১৪২-১৪৪ কিলোমিটার গতিতে বল করছ। এতে হবে না। এটা ১৫০-১৫৫ করতে হবে। করে দেখাল।’’

পরের বছরই কেকেআর কিনে নিয়েছিল সাকিবকে।সুবুকতারা বলেছেন, ‘‘সে দিন ঘরের বাইরে বেরিয়ে দেখি, গোটা গ্রাম আমাদের বাড়ির দরজায়। কেউ জড়িয়ে ধরছে, কেউ সেল্‌ফি তুলছে। ওকে বলেছিলাম, গরিব হোক বা বড়লোক, সব বাবা-মা’ই চায় তার ছেলে বা মেয়ে যেন ভাল মানুষ হয়। তোকেও সকলের আগে সেটা হতে হবে।’’

আলি বলেছেন, ‘‘ও মা-বাবার দুঃখটা বোঝে। জানে, কী কষ্ট করে ওকে বাবা-মা মানুষ করেছে।’’ সুবুকতারার মতো আলিরও চোখের জল আর বাধ মানেনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement