মারমুখী মেজাজে হরলীন দেওল। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে। ছবি: এক্স।
আগের ম্যাচে সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেটে রান করার পরেও তাঁকে তুলে নিয়েছিলেন কোচ অভিষেক নায়ার। ‘রিটায়ার্ড আউট’ হয়ে ফেরার সময় হরলীন দেওলকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, কোচের সিদ্ধান্তে খুশি নন তিনি। সেই সিদ্ধান্তে ডুবেছিল ইউপি ওয়ারিয়র্জ। ২৪ ঘণ্টা পর মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে সেই হরলীনই জেতালেন ইউপি-কে। কোচকে জবাব দিলেন তিনি। বুঝিয়ে দিলেন, আগের দিন তাঁকে তুলে নিয়ে কতটা ভুল করেছিলেন অভিষেক। প্রথমে ব্যাট করে ১৬১ রান করেছিল মুম্বই। ১১ বল বাকি থাকতে ৭ উইকেটে ম্যাচ জিতে যায় ইউপি। চলতি মেয়েদের আইপিএলে হারের হ্যাটট্রিকের পর প্রথম ম্যাচ জিতল ইউপি। খাতা খুলল তারা।
টস জেতার সঙ্গে সঙ্গেই খেলার রাশ অনেকটা নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছিলেন ইউপি-র অধিনায়ক মেগ ল্যানিং। এই ম্যাচেও ওপেনিং জুটিতে বদল করে মুম্বই। আমনজ্যোৎ কৌর ও জি কমলিনি ওপেন করতে নামেন। কমলিনি এই ম্যাচে রান পাননি। ৫ রান করে সোফি ইকলেস্টোনের বলে আউট হন তিনি। আমনজ্যোৎ করেন ৩৮ রান। তবে পাওয়ার প্লে-তে মুম্বইয়ের রান তোলার গতি কম ছিল। তার খেসারত দিতে হয় দলকে।
চলতি আইপিএলে ভাল ফর্মে রয়েছেন মুম্বইয়ের অধিনায়ক হরমনপ্রীত। এই ম্যাচে প্রথম একাদশে ফিরেছিলেন ন্যাট শিভার-ব্রান্ট। দু’জনের কাঁধে দায়িত্ব ছিল দলের রান এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। কিন্তু ১৬ রানের মাথায় ক্লোয়ি ট্রিয়নের দুর্দান্ত ক্যাচে আউট হন হরমনপ্রীত।
মুম্বইয়ের ইনিংসে গতি আনেন শিভার-ব্রান্ট। চলতি প্রতিযোগিতায় এই প্রথম রান পেলেন তিনি। তাঁকে সঙ্গ দেন নিকোলা ক্যারে। দুই ব্যাটারের মধ্যে ৪৩ বলে ৮৫ রানের জুটি হয়। শিভার-ব্রান্ট ৪৩ বলে ৬৫ রান করে আউট হন। ক্যারে ২০ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেন। ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান করে মুম্বই। ইউপি-র হয়ে শিখা পাণ্ডে, দীপ্তি শর্মা, ইকলেস্টোন ও আশা শোভানা একটি করে উইকেট নেন।
রান তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লে-তে দ্রুত রান করতে পারেনি ইউপি-ও। কিরণ নবগিরে এই ম্যাচেও রান পেলেন না। ১০ রান করে আউট হন তিনি। অধিনায়ক ল্যানিং ২৫ রান করলেও ২৬ বল খেলেন তিনি। ইউপি-র ইনিংসকে গতি দেন হরলীন। চার নম্বরে নেমে একের পর এক বড় শট খেলেন তিনি। দেখে মনে হচ্ছিল, আগের ম্যাচে কোচ যে তাঁর উপর ভরসা রাখতে পারেননি, তার জবাব দিচ্ছেন তিনি। শবনম ইসমাইল, শিভার-ব্রান্টের মতো অভিজ্ঞ বোলারদের বিরুদ্ধে সাবলীল শট খেলছিলেন হরলীন। তাঁকে সঙ্গ দেন ফিবি লিচফিল্ড।
শেষ ছ’ওভারে দরকার ছিল ৫১ রান। হরমনপ্রীত সব রকম চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে রাতের দিকে শিশির পড়ায় বোলারদের কাজ কঠিন হয়ে যায়। এই ম্যাচেও সেটাই দেখা গেল। তার মাঝেই লিটফিল্ডকে ২৫ রানের মাথায় আউট করেন অ্যামেলিয়া কের।
হরলীন অবশ্য থামছিলেন না। ৩২ বলে অর্ধশতরান করেন তিনি। ধারাভাষ্যকারেরাও বলছিলেন, হরলীনকে এত বিধ্বংসী ইনিংস খেলতে এর আগে তাঁরা দেখেননি। প্রতিটি শটের সঙ্গে হরলীনের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়ছিল। তাঁকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, জবাবের মঞ্চ হিসাবে এই ম্যাচকে বেছে নিয়েছেন তিনি। মুম্বইয়ের বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলা করলেন পঞ্জাবের এই ব্যাটার। ১২টি চার মারেন তিনি। তাঁকে সঙ্গ দিলেন ট্রিয়ন। দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন তাঁরা। ৩৯ বলে ৬৪ রান করে অপরাজিত থাকলেন হরলীন।