অভিষেক শর্মা (বাঁ দিকে) এবং বৈভব সূর্যবংশী। — ফাইল চিত্র।
চলতি আইপিএলে একটি বিষয় স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। প্রতিযোগিতা যত এগোচ্ছে ততই দেখা যাচ্ছে বাঁহাতি ক্রিকেটারদের দাপট। অভিষেক শর্মা, বৈভব সূর্যবংশী, তিলক বর্মা, যশস্বী জয়সওয়ালেরা প্রায় প্রতি ম্যাচেই সাফল্য পাচ্ছেন। শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত দক্ষতাই নয়, এর নেপথ্যে রয়েছে বিপক্ষ অধিনায়কদের ভুল পরিকল্পনাও।
দেখা গিয়েছে, বাঁহাতি ব্যাটারদের সামনে দলের সেরা স্পিনারকে কিছুতেই আনছেন না অধিনায়কেরা। চেষ্টা করছেন আংশিক সময়ের বোলারদের দিয়ে কাজ চালাতে। রেখে দিচ্ছেন সেরা বোলারদের। দিল্লি বনাম হায়দরাবাদ ম্যাচে সেটা বোঝা গিয়েছে। বাঁহাতিদের সামনে দিল্লির অধিনায়ক অক্ষর পটেল নিজেকে বা কুলদীপ যাদবকে না এলে ঠেলে দিয়েছেন নীতীশ রানাকে। সেই পরিকল্পনা কাজে লাগেনি।
বাঁহাতিদের বিরুদ্ধে ডান হাতি বোলারেরা চেষ্টা করছেন অফস্টাম্পের বাইরে ইয়র্কার ফেলতে। শরীর বা মারার জায়গা লক্ষ্য করে বল করছেন না। বল ইনসুইংও করাতে পারছেন না। এতে বাঁহাতিরা ক্রিজ়ে জমে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এখনও পর্যন্ত সেরা ব্যাটারদের প্রথম ১০ জনের তালিকায় ছ’জন বাঁহাতি। ৩২৩ রান নিয়ে অভিষেক শীর্ষে। বৈভবের রয়েছে ২৪৬ রান। এ ছাড়া যশস্বী (২২৩), কুপার কনোলি (২২৩), প্রিয়াংশ আর্যরাও (২১১) রয়েছেন। চমকের ব্যাপার হল, ছ’জনের মধ্যে চার জনই ওপেনার। তাঁরা বেশি বল খেলার সুযোগ পান। বিশেষ করে পাওয়ার প্লে-তে। ফলে গোটা প্রতিযোগিতাতেই তাঁদের রান বেশি হয়। বাঁহাতিদের সামনে কোনও আগ্রাসী বোলারকে আনার সাহস এখনও পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।
বাঁহাতি ওপেনার থাকলে সুবিধাও হয়ে যাচ্ছে। পয়েন্ট তালিকায় নীচের দিকে থাকা দু’টি দলে দুই ওপেনার ডান হাতি। চেন্নাইয়ে রুতুরাজ গায়কোয়াড় এবং সঞ্জু স্যামসন এবং কলকাতায় অজিঙ্ক রাহানে ও ফিন অ্যালেট/টিম সেইফার্ট। তবে উল্টো চিত্রও রয়েছে। মুম্বইয়ে রায়ান রিকেলটন, কুইন্টন ডি ককেরা থাকলেও দলকে বেশি জেতাতে পারেননি। কুইন্টনের শতরান সত্ত্বেও হারতে হয়েছে মুম্বইকে। সেই মুম্বইয়েরই তিলক শতরান করে দলকে জিতিয়েছেন।
এই বিষয়ে রবিচন্দ্রন অশ্বিন বলেছেন, “প্রধান বোলারদের দিয়ে বল না করিয়ে এটাই প্রমাণ করা হচ্ছে যে, দলের বোলারদের উপর অধিনায়কের আস্থা নেই। বোলারদের পাশে থাকতেই হবে। রান হজম করতেই পারে। সেটা খেলারই অংশ। কিন্তু বল না দেওয়া মানে তো অবিশ্বাস করা।”