—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
আগামী কুড়ি বছরে কী ভাবে আইএসএল পরিচালিত হবে, সেই দীর্ঘমেয়াদি নকশা ক্লাবেদের কাছে পাঠিয়ে দিল সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। মূলত দু’টি কমিটির হাতে লিগের সমস্ত ক্ষমতা সঁপে দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রথম এগারো বছরে রিলায়্যান্স সংস্থার এফএসডিএল যে রকম একচেটিয়া অধিকার উপভোগ করেছিল, তা এই নতুন নকশায় হচ্ছে না। ক্ষমতার সমীকরণপাল্টে যাচ্ছে অনেকটাই।
বলা হয়, আগের চুক্তিতে এফএসডিএলের হাতে নব্বই শতাংশ ক্ষমতা ছিল। ফেডারেশনের অধিকার মেরেকেটে ছিল দশ শতাংশ। ফেডারেশন নতুন যে নকশা পাঠিয়েছে, তাতে ক্লাব জোট এবং বাণিজ্যিক সঙ্গীদের যথেষ্ট ক্ষমতা দিয়েও নিজেদের অস্তিত্ব ফিরিয়ে আনার প্রবল চেষ্টা করা হয়েছে। মূলত দু’টি কমিটি গঠন করা হবে, তারাই আইএসএল পরিচালনার প্রধান দায়িত্বে থাকবে। এই দু’টি কমিটি হচ্ছে গভর্নিং কাউন্সিল ওম্যানেজমেন্ট কমিটি।
লিগ পরিচালনার জন্য প্রথমে এআইএফএফ ঠিক করেছিল, ক্লাব জোট, ফেডারেশন ও কমার্শিয়াল পার্টনার অর্থাৎ বাণিজ্যিক সঙ্গীর প্রতিনিধি মিলিয়ে ছয় সদস্যের গভর্নিং কাউন্সিল তৈরি করবে। সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। এখন ঠিক হয়েছে, ২২ সদস্যের বৃহৎ গভর্নিং কাউন্সিল গঠন করা হবে। সেখানে ১৪টি দলের ১৪ জন মালিককে রাখা হবে। ফেডারেশন বা এআইএফএফ থেকে থাকবেন তিন জন। সংস্থার প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং কোষাধ্যক্ষ। কমার্শিয়াল রাইট্স হোল্ডার বা বাণিজ্যিক সঙ্গীদের তরফে থাকবেন তিন জন। এ ছাড়া বাইরে থেকে দু’জন স্বাধীন প্রতিনিধি থাকবেন। এই দুই বিশেষ ব্যক্তির সঙ্গে এআইএফএফ, ক্লাব জোট বা বাণিজ্যিক সঙ্গীদের কোনও সম্পর্ক থাকবে না। যাঁদের বিরুদ্ধে ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ বা স্বার্থ সংঘাতেরঅভিযোগ উঠবে না।
ম্যানেজমেন্ট কমিটি হবে ১১ সদস্যের। যেখানে এআইএফএফ থেকে থাকবেন সচিব বা সহ-সচিব ও দু’জন ডিরেক্টর। ক্লাবের তরফে পাঁচ জন সিইও। বাণিজ্যিক সঙ্গীদের থেকে তিন জন প্রতিনিধি থাকবেন। ক্লাবেদের তরফে যে পাঁচ জন সিইও আসবেন, তারও নিয়মকানুন বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। তিন জনকে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে গভর্নিং কাউন্সিল থেকে। অর্থাৎ, মালিকদের উপস্থিতিতে ছাপ্পা পড়তে হবে তাঁদের মনোনয়নে। বাকি দু’জন সিইও আসবেন আইএসএলের চ্যাম্পিয়ন ওরানার্স ক্লাব থেকে।
কুড়ি বছরের নকশায় ফেডারেশন আরও জানিয়েছে, গভর্নিং কাউন্সিল বছরে এক বার করে বৈঠক করবে। সেখানে মালিকেরা তাঁদের প্রস্তাব দিতে পারেন, লিগের নানা বিষয় নিয়ে উচ্চ স্তরে আলোচনা হবে। এই বৈঠক লিগ শুরুর তিন মাস আগে করার কথা বলা হয়েছে, যাতে নতুন প্রস্তাব বা পরিকল্পনা থাকলে সেগুলিকে বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়। ম্যানেজমেন্ট কমিটি মাসে একবার করে বসবে, লিগ চলাকালীনও তারা যে কোনও সময়ে বসতে পারে যদি প্রয়োজন হয়। যার অর্থ হচ্ছে, গভর্নিং কাউন্সিল হতে যাচ্ছে সর্বোচ্চ স্তরের শীর্ষ কমিটি। তবে লিগ পরিচালনার দৈনন্দিন প্রক্রিয়া মূলত থাকবে ম্যানেজমেন্ট কমিটির হাতে। তাদের অধীনে ছ’টি বিভিন্ন কমিটি থাকবে, যারা লিগের নানা দিক সামালবে। টিভি স্বত্ব থেকে শুরু করে স্পনসরশিপ, সমস্ত কিছু নিয়ে তারাসিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
এমন নকশা পাওয়ার পরে ক্লাব জোটের প্রতিক্রিয়া কী? জানা গিয়েছে, তারা কয়েক দিন সময় চেয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বুঝে নিতে। তার পরে ফেডারেশনকে তাদের মতামত জানাবে। ফেডারেশন চায়, এই ফর্মুলা এ বারের সংক্ষিপ্ত লিগ থেকেই শুরু হোক। অর্থাৎ, গভর্নিং কাউন্সিল ও ম্যানেজমেন্ট কমিটি এখনই গঠন করে ফেলতে। তারাই এ বারের লিগ সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত নিক। সূচি তৈরির লাইভ প্রক্রিয়াও তারা পরিচালনা করুক। সে ক্ষেত্রে দ্রুত ক্লাবদের তরফে জবাব আসতে হবে কারণ ১৪ ফেব্রুয়ারি লিগ শুরু। হাতে আর ঠিক এক মাস সময়।
যদিও কেউ কেউ দেখতে আগ্রহী, যে ভাবে নতুন নকশায় ক্ষমতার সমীকরণ পাল্টে যাচ্ছে, তাতে ক্লাব জোট কী প্রতিক্রিয়া দেখায়। গভর্নিং কাউন্সিল শীর্ষ কমিটি, তাদের হাতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা থাকছে। সেখানে ২২ সদস্যের মধ্যে ১৪ জন ক্লাব মালিক, কমার্শিয়াল পার্টনার থেকে থাকছেন তিন জন। নিরঙ্কুষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ক্লাবদের হাতে। আবার নকশায় বলা থাকছে, লিগ পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনও রকম সমস্যা বা বিতর্ক তৈরি হলে শেষ কথা বলবে ফেডারেশনের এগ্জ়িকিউটিভ কমিটি। ক্লাব জোট এই শর্ত মেনে নেবে তো? আগামী কয়েক দিনেইপরিষ্কার হয়ে যাবে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে