ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের উচ্ছ্বাস। ছবি: সমাজমাধ্যম।
ইস্টবেঙ্গল ৪ (এজ়েজারি ২, এডমুন্ড, মিগুয়েল)
দিল্লি ১ (অগাস্টিন)
আইএসএলে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ জিতল ইস্টবেঙ্গল। শনিবার যুবভারতীতে তারা ৪-১ গোলে হারিয়ে দিল স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লিকে। জোড়া গোল করলেন ইউসেফ এজ়েজারি। আগের ম্যাচেও দু’টি গোল করেছিলেন তিনি। ফলে দীর্ঘ দিন বাদে গোল খরা কাটানোর লোক পাওয়া গিয়েছে মনে করা হচ্ছে।
তবে চিন্তা থাকছে অন্য জায়গায়। প্রথমার্ধে ভাল খেলার পর দ্বিতীয়ার্ধে তাদের খেলার মধ্যে ভাল মতো গা ছাড়া মনোভাব দেখা গিয়েছে। সে ভাবে সুযোগ তৈরি করতেই পারেনি লাল-হলুদ। সে দিক থেকে, দিল্লির ফুটবলারেরা অনবরত আক্রমণ করেছেন। ভাগ্য ভাল থাকলে গোল পেয়ে যেতে পারত।
ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করে ফেলতে পারতেন মিগুয়েল। কাছ থেকে তাঁর নেওয়া শট বাঁচিয়ে দেন বিপক্ষ গোলকিপার। দু’মিনিট পরেই আচমকা ধাক্কা খায় ইস্টবেঙ্গল। গোল করে দিল্লি। বক্সের মধ্যে বল পেয়ে মার্কারকে এড়িয়ে গোল করেন অগাস্টিন। চেষ্টা করেও সেই বল আটকাতে পারেননি প্রভসুখন গিল।
তিন মিনিটের মধ্যে সমতা ফেরায় ইস্টবেঙ্গল। বিপিন সিংহের ফ্রিকিক প্রতিহত হওয়ার পর পৌঁছয় এডমুন্ড লালরিনডিকার কাছে। প্রথম প্রয়াসের ভলি মারেন তিনি। বল সরাসরি বিপক্ষ গোলকিপার বিশাল যাদবের হাতে গেলেও হাত ফস্কে জালে জড়িয়ে যায়।
১২ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে ইস্টবেঙ্গল। দিল্লির ডিফেন্ডার বক্সের মধ্যে ফেলে দেন এডমুন্ডকে। পেনাল্টি থেকে গোল করেন এজ়েজারি। এর পর খেলার গতি কিছুটা কমে যায়। এগিয়ে যাওয়ার পর ইস্টবেঙ্গল আক্রমণ বজায় রাখলেও গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না। এ দিক-ও দিক বল পাস দিয়ে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছিল।
প্রথমার্ধের শেষের দিকে আবার আক্রমণাত্মক খেলতে শুরু করে ইস্টবেঙ্গল। এই সময় তৃতীয় গোলও পেয়ে যায় তারা। বক্সের দিকে ছুটছিলেন এজ়েজারি। তাঁকে উদ্দেশ্য করে মিগুয়েল নিখুঁত বল বাড়ান। মাথা ঠান্ডা রেখে বল জালে জড়িয়ে দেন এজ়েজারি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে ইস্টবেঙ্গলের খেলায় একটু শ্লথতা লক্ষ করা যাচ্ছিল। দু’গোলে এগিয়ে থাকা দলের খেলার মধ্যে সেই ঝাঁজ ছিল না যা তাদের গোলের সংখ্যা বাড়াতে পারে। উল্টে দিল্লির বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল বেশি। বেশ কয়েক বার গোলের কাছাকাছিও পৌঁছে যায় তারা। বিশেষ করে ৮০ মিনিটে মনোজের কর্নার থেকে রিবেরোর হেড অল্পের জন্য বারের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়।
৮৬ মিনিটের মাথায় একটি ভাল সুযোগ তৈরি করেছিল ইস্টবেঙ্গল। ব্যক্তিগত দক্ষতা দেখিয়ে বিপক্ষের দু’জন ডিফেন্ডারকে ড্রিবল করে দিল্লির বক্সে প্রায় ঢুকে পড়েছিলেন। সেখান থেকে বল নিয়ে বাঁ প্রান্ত থেকে শট মারেন মিগুয়েল। দিল্লির কিপারের হাতে লেগে সেই বল পোস্টে লাগে। ফিরতি বলে কেউ গোল করতে পারেননি।
যখন মনে করা হচ্ছিল আর গোল হবে না, তখনই ব্যবধান বাড়িয়ে দেন মিগুয়েল। বক্সের বাইরে বল পেয়েছিলেন। কিছুটা এগিয়ে এসে বক্সের বাইরে থেকেই জোরালো শট মারেন। দিল্লির গোলকিপারের সামনে কিছুই করার ছিল না।