লিয়োনেল মেসির এই মূর্তি ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। ছবি: এক্স।
কলকাতার লেকটাউনের পর আর্জেন্টিনার পাটাগোনিয়া। আবার বিতর্ক সেই লিয়োনেল মেসিকে ঘিরে। না, সশরীরের মেসি নন, তাঁর মূর্তি ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিশ্বকাপের মাঝে ১৬ জুন আর্জেন্টিনায় মেসির একটি ৮৫ ফুটের মূর্তি উন্মোচন হয়েছে। সেই মূর্তি নিয়েই সমালোচনা চলছে।
গত বছর ডিসেম্বরে কলকাতায় মেসির সফরের সময় লেকটাউনে মেসির একটি মূর্তি উন্মোচন করা হয়। প্রথম দিন থেকেই সেই মূর্তির অবয়ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। মেসির বদলে অন্য খ্যাতনামীদের সঙ্গেই সেই মূর্তির মিল ছিল বেশি।
গত মাসে মূর্তিটি হাওয়ায় দুলতে শুরু করে। প্রথমে তা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। পরে দুর্ঘটনা এড়াতে মূর্তিটি ভেঙে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর্জেন্টিনায় সে সব কিছু না হলেও বিতর্ক চলছে।
পাটাগোনিয়ায় ৭০ টনের স্টিল ও লোহা দিয়ে তৈরি হয়েছে মেসির মূর্তি। সেটি হাঁটু মুড়ে বসে রয়েছে। সামনের দিকে হাত বাড়ানো। পায়ের সামনে রাখা বিশ্বকাপ ট্রফি। বড়রাস্তার ঠিক উপরেই বসানো হয়েছে মূর্তি। সেই রাস্তা ধরে যাঁরা আসেন, তাঁদের স্বাগত জানাতে তৈরি সেই মূর্তি।
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
কিন্তু সেই মূর্তির অবয়ব পছন্দ হয়নি অনেকের। তাঁদের দাবি, মূর্তির সঙ্গে মেসির মুখ মিলছে না। পাশাপাশি তাঁর কোমর থেকে নীচের দিক বেশি মোটা করা হয়েছে। মেসির শারীরিক গঠনও মিলছে না। দেখে মনে হচ্ছে, আর্জেন্টিনার জার্সি পরিয়ে কাউকে বসিয়ে রাখা হয়েছে।
অবশ্য সমর্থনও পেয়েছে মেসির মূর্তি। তাঁদের দাবি, ৮৫ ফুট উচ্চতার একটি মূর্তি তৈরি করতে গেলে হুবহু একই রকম করা মুশকিল। চেহারার সঙ্গে একটু তফাত থাকবেই। কিন্তু আর্জেন্টিনার মাটিতে এখন কোনও মূর্তি বসলে যে তা মেসিরই হবে, তা ছোট শিশুও জানে। এক বারও মূর্তি দেখে মনে হচ্ছে না, তা মেসির নয়।
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
মূর্তি নিয়ে বিতর্ক হলেও তার প্রভাব মেসির খেলায় পড়েনি। ছন্দে রয়েছেন। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিকের পর দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল করেছেন। দলকে নকআউটে তুলেছেন। আর্জেন্টিনার পাঁচ গোলের পাঁচটিই এসেছে মেসির পা থেকে। বিশ্বকাপে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি গোলদাতা হয়েছেন। সোনার বুটের দৌড়ে সকলের আগে রয়েছেন। আরও এক বার তাঁর পায়েই বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা।