কোডি গাকপো। ছবি: রয়টার্স।
বিশ্বকাপের মাঝে ব্যক্তিগত বিপর্যয়। স্ত্রীর গর্ভস্থ্য সন্তানের মৃত্যুর ধাক্কা সামলে দলের সঙ্গেই থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন নেদারল্যান্ডসের কোডি গাকপো। ব্যক্তিগত ক্ষতির চেয়ে দলের স্বার্থকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন লিভারপুলের উইঙ্গার। সতীর্থদের সঙ্গে থেকেই শোক সামলাচ্ছেন।
সন্তানসম্ভবা ছিলেন গাকপোর বান্ধবী নোয়া ভ্যান ডার বিজ। পুত্র সন্তান বেড়ে উঠছিল তাঁর গর্ভে। বিশ্বকাপের মধ্যেই তাঁর গর্ভপাত হয়েছে। খবর পৌঁছেছে আমেরিকায় নেদারল্যান্ডস শিবিরেও। সন্তানের মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েন গাকপো। সতীর্থেরা তাঁকে কয়েক দিনের জন্য বান্ধবীর কাছ থেকে ঘুরে আসার পরামর্শ দেন। কঠিন সময় পাশে ছিলেন নেদারল্যান্ডসের ফুটবল কর্তারাও। কিন্তু নকআউট পর্বের আগে শিবির ছাড়তে রাজি হননি ২৭ বছরের ফুটবলার। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি কোনও ছেদ ফেলতে চাননি।
গর্ভস্থ্য সন্তানের মৃত্যুর খবর সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন বিজ। তিনি লিখেছেন, ‘‘ভারাক্রান্ত হৃদয়ে একটি মর্মান্তিক খবর জানাচ্ছি। গর্ভাবস্থাতেই আমাদের পুত্রসন্তানটির মৃত্যু হয়েছে। ভালবাসা এবং সমর্থনের জন্য সকলকে ধন্যবাদ। এলাইজা রাফায়েল গাকপো চিরকাল আমাদের ভালবাসায় থাকবে। চিরকাল ও আমাদের সন্তান থাকবে।’’ গাকপো বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ‘‘আমাদের পরিবারের জন্য এটা অত্যন্ত কঠিন সময়। আমরা বিনীত ভাবে আমাদের ব্যক্তিগত পরিসর এবং গোপনীয়তা বজায় রাখার আবেদন করছি। আশা করি সকলে বুঝবেন। ধন্যবাদ।’’
নেদারল্যান্ডসের ফুটবল সংস্থা জানিয়েছে, ‘‘ব্যক্তিগত অপূরণীয় ক্ষতির পরেও গাকপো পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে দলের সঙ্গেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বান্ধবীর সঙ্গেও কথা বলেছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে। মর্মান্তিক ঘটনা। ব্যক্তিগত কঠিন সময়ে সকলে গাকপো এবং ওর পরিবারের পাশে রয়েছি। এই সময় আমাদের পক্ষে যা যা সাহায্য করা সম্ভব, সব করা হবে। আমরা ওদের ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক গোপনীয়তাকে সম্মান করি। এই সময়ে আর কোনও কথা নয়।’’
বিশ্বকাপে ভাল ছন্দে রয়েছে নেদারল্যান্ডস। ফর্মে রয়েছেন গাকপোও। সুইডেনের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করেন। দলের অন্যতম ভরসা তিনি। এমন মর্মান্তিক ঘটনার পরও গাকপো দলের সঙ্গ না ছাড়াও সতীর্থেরা বিস্মিত এবং অভিভূতও।