গোলের উচ্ছ্বাস ওউনাহির। ছবি: রয়টার্স।
মরক্কো ৩ (ওউনাহি ২, রাহিমি)
কানাডা ০
একটি ফুটবল ম্যাচ জিততে গেলে যা যা করার দরকার, সবই করল কানাডা। দলের সেরা ফুটবলারদের নামাল। আক্রমণের ঝড় তুলে দিল। বিপক্ষকে ব্যস্ত রাখল। শুধু গোলটাই করতে পারল না। সেটা যারা করল, সেই মরক্কো চলে গেল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। আয়োজক দেশ কানাডাকে ২-০ গোলে হারাল মরক্কো। জোড়া গোল আজ়েদিন ওউনাহির। টানা দ্বিতীয় বার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল তারা। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স বনাম প্যারাগুয়ে ম্যাচের বিজয়ী দল।
বিশ্বকাপে কখনওই মরক্কো সহজ দেশ নয়। ব্রাজ়িলের মতো দেশকে পর্যন্ত নাকানি-চোবানি খাইয়েছে গত বারের সেমিফাইনালিস্টরা। শেষ ৩২-এ নেদারল্যান্ডসের মতো দেশকে ছিটকে দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কানাডাকে যথেষ্ট ভাল খেলেছে। শুধু গোলটাই করতে পারেনি। মরক্কো তাড়াহুড়ো না করে অপেক্ষা করেছে। সঠিক সময়ে সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা ম্যাচ বার করে নিয়েছে। কানাডার মতো অনবরত আক্রমণ করার মতো পরিশ্রম তাদের করতে হয়নি।
ম্যাচের ৬ মিনিটেই ভাল সুযোগ পেয়েছিল কানাডা। জোনাথন ডেভিডের শট আটকে দেন মরক্কো গোলকিপার ইয়াসিন বোনো। এর পর আক্রমণে মাত্রা ক্রমশ বাড়াতে থাকে কানাডা। মরক্কোর ফুটবলারেরা নিজেদের অর্ধে বিপক্ষের আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত থাকেন। ১১ মিনিটে আবার মরক্কো বাঁচান বোনো। বক্সের ভিতর থেকে তানি ওলুয়াসেহির শট বাঁচান তিনি।
সেই সময়ে মরক্কো সত্যিই কিছুটা চাপে পড়ে গিয়েছিল। কানাডাকে আটকাতে শারীরিক ফুটবল খেলতেও পিছপা হয়নি তারা। সমস্যা আরও বাড়ে ইসমাইল সাইবারি চোট পেয়ে বেরিয়ে যাওয়ায়। এই ফুটবলার তিনটি গোল করেছেন মরক্কোর হয়ে। ফলে তিনি বেরিয়ে যাওয়ায় চাপ বাড়ে। জলপানের বিরতির পর কিছু ক্ষণ খেলা মরক্কোর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আবার চলে যায় কানাডার পায়ে। আশরফ হাকিমিরা ছন্দই খুঁজে পাচ্ছিলেন না। দু’দলের শারীরিক ফুটবলের কারণে ফাউলও হয়েছে প্রচুর। প্রথমার্ধে পাঁচটি হলুদ কার্ড দেখান রেফারি মাইকেল অলিভার।
দ্বিতীয়ার্ধের পাঁচ মিনিটের মধ্যে এগিয়ে যায় মরক্কো। নিজেদের বক্সের বাইরে ফাউল করেছিলেন কানাডার লুক ডে ফুগরোলেস। সেট-পিস থেকে বল পান ওউনাহি। ডান পায়ের শটে গোল করেন তিনি। গোল খেয়ে কেঁপে যায় কানাডা। নিজেদের প্রথম প্রয়াসেই গোল করে মরক্কো।
মাঝে কিছু ক্ষণ ধাতস্থ হতে সময় লাগে কানাডার। তার পর আবার আক্রমণ শুরু করে তারা। তবে লাভের লাভ হয়নি। কিছুতেই মরক্কোর গোলমুখ খুঁজে পায়নি তারা। উল্টে দ্বিতীয় গোল করে মরক্কো। এ বারও সেই ওউনাহি। মাঝমাঠ থেকে তালবির পাস পান ব্রাহিম দিয়াজ়। তিনি টোকায় পাস দেন ওউনাহিকে। চলতি বলে শট নিয়ে গোল করেন ওউনাহি।
তখনও বোঝা যায়নি নাটকের আরও বাকি আছে। শেষের দিকে আক্রমণের ঝড় বইয়ে দেয় কানাডা। সংযুক্তি সময়ে তৃতীয় গোল করে খেলা শেষ করে দেয় মরক্কো। এ বার ব্রাহিমের পাস থেকে গোল করেন রাহিমি।