FIFA World Cup 2026

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের উজ্জীবিত ফুটবল, দু’বার পিছিয়েও ড্র নিউ জ়িল্যান্ডের সঙ্গে, মিশরের কাছে আটকে গেল বেলজিয়াম, সৌদি রুখল উরুগুয়েকে

স্পেনকে আটকে দিয়ে অঘটন ঘটিয়েছে বিশ্বকাপে নবাগত কাবো ভার্দে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানও দু’বার পিছিয়ে পড়ে আটকে দিল নিউ জ়িল্যান্ডকে। মিশরের কাছে আটকে গেল বেলজিয়াম। সৌদি আরবকে হারাতে পারল না উরুগুয়েই।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ০৮:৪৬
Share:

ইরানের ফুটবলারদের উচ্ছ্বাস। ছবি: রয়টার্স।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানকে নিয়ে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ঠিক মতো বিশ্বকাপের প্রস্ততি নিতে পারেনি ইরান। তা-ও নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে বেশ উজ্জীবিত ফুটবল খেলল এশিয়ার অন্যতম সেরা দল। দু’বার পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েননি মহম্মদ মোহেবিরা। খেলা শেষ হল ২-২ গোলে।

Advertisement

ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় নিউ জ়িল্যান্ড। ৭ মিনিটে গোল করেন ইলিজা জাস্ট। ৩২ মিনিটে সমতা ফেরান রামিন রেজ়াইন। পিছিয়ে পড়ার পরও হতাশ দেখায়নি ইরানের ফুটবলারদের। সমানে নিউ জ়িল্যান্ডের অর্ধে চাপ বজায় রেখেছিলেন তাঁরা। ছোট ছোট পাসে আক্রমণ তৈরি করেছেন, সময় মতো জায়গা নিয়েছেন ইরানের ফুটবলারেরা। মাঠ জুড়ে ফুটবল খেলেছেন। বেশ কয়েক বার কিউয়ি বক্সে চাপ তৈরি হয়েছিল। দূর পাল্লার শটেও ইরানের ফুটলারেরা প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

প্রথমার্ধের খেলা ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় নিউ জ়িল্যান্ড। ইরানের ডিফেন্স কিছুটা চাপে পড়ে যায়। সুযগ কাজে লাগিয়ে ৫৫ মিনিটে দলকে দ্বিতীয় বার এগিয়ে দেন জাস্ট। পরিকল্পিত আক্রমণের ফলস এই গোল। দ্বিতীয় বার পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি ইরান। ১০ মিনিটের মধ্যে সমতায় ফেরে তারা। মাঝ মাঠ এবং আক্রমণের সুন্দর বোঝাপড়ায় ৬৪ মিনিটে দলের হয়ে দ্বিতীয় গোল করেন মহম্মদ মোহেবি।

Advertisement

মঙ্গলবার বিশ্বকাপে অভিষেক হল আরও এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলারের। নিউ জ়িল্যান্ডের হয়ে খেললেন সরপ্রীত সিংহ। ৯০ মিনিট পর্যন্ত মাঠে ছিলেন ২৭ বছরের মিডফিল্ডার। সরপ্রীতের পারফরম্যান্স যথেষ্ট ভাল। পঞ্জাবি পরিবারের সন্তান সরপ্রীত। নিউ জ়িল্যান্ডেই জন্ম তাঁর। কাজের সন্ধানে তাঁর বাবা-মা অকল্যান্ডে চলে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি মুদিখানার দোকান রয়েছে সরপ্রীতের বাবার। গ্রামের আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে রায়ার্ন মিউনিখের হয়ে খেলা ফুটবলারের। ২০১৯ সালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ খেলতে ভারতে এসেছিলেন। উল্লেখ্য, দু’দিন আগেই অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মাঠে নেমেছিলেন আর এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার নিশান ভেলুপিল্লাই।

বেলজিয়াম-মিশর ড্র

হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হল দু’দলের। সিয়াটলের তীব্র গরমে খেলা দেখতে এসেছিলেন প্রায় ৬৬ হাজার ফুটবলপ্রেমী। অধিকাংশেরই প্রত্যাশা ছিল বেলজিয়ামের জয়। মহম্মদ সালাহরাও প্রস্তুত হয়েই মাঠে নেমেছিলেন। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। শুরুতে বেলজিয়ামের আধিপত্য থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দাপট বাড়াতে থাকে মিশর। ২০ মিনিটে সালাহ ডান দিকে বল পেয়ে দুর্দান্ত পাস বাড়ান এমাম আশুরকে। ‘ডি’ বক্স থেকে নেওয়া আশুরের শক্তিশালী শট জালে জড়িয়ে যায়। থিবো কুর্তোয়া চেষ্টা করেও বেলজিয়ামের পতন রুখতে পারেননি। ফলাফল ১-১।

পিছিয়ে পড়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় বেলজিয়াম। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় বেলজিয়াম। মিশরের রক্ষণ ভাগের ফুটবলারেরা মাথা ঠান্ডা রেখে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান। গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবেইর কয়েক বার হতাশ করেন বেলজিয়ামের ফুটবলারদের। ডি ব্রুইনদের কোনও চেষ্টাই কাজে আসেনি। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা বাধ্য হয়েই অভিজ্ঞ রোমেলু লুকাকুকে মাঠে নামান বেলজিয়ামের কোচ। লুকাকু মিশরের বক্সে চাপ বাড়াতে শুরু করেন। তাতে লাভ হয়। ৬৬ মিনিটে মহম্মদ হানির আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। শেষ ২০ মিনিট জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দু’দলই। কিন্তু স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতায় আর গোল হয়নি। তবে এই সময় ম্যাচের উত্তেজনা পৌঁছোয় চরমে।

সৌদি আরবের কাছে আটকে গেল উরুগুয়ে

বিশ্বকাপের শুরুটা ভাল করতে পারল না উরুগুয়েও। প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে আটকে গেল প্রথম দু’বারের বিশ্বজয়ীরা। বেলজিয়ামের মতোই পিছিয়ে পড়ে ড্র করেছেন ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাহুরা। ৪১ মিনিটে আব্দুল্লা আল আমরির গোলে এগিয়ে যায় সৌদি। ৮০ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেই জিততে পারল না এশিয়ার অন্যতম সেরা ফুটবল শক্তি। চাপের মুখে উরুগুয়েকে ৮০ মিনিটে সমতায় ফেরেন আরাহু। ১-১ ফলে শেষ হয়েছে ম্যাচ।

গত বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল সৌদি। এ বার লিয়োনেল মেসিদের প্রতিবেশী দেশকেও আটকে দিল। উরুগুয়ের একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করেছেন সৌদির রক্ষণ ভাগে ফুটবলারেরা। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন গোলরক্ষক মহম্মদ আল ওয়াইসও। দলের ১ পয়েন্ট পাওয়ার অন্যতম নায়ক তিনি। যদিও প্রথম ম্যাচে কিছুটা অগোছালো দেখিয়েছে উরুগুয়েকে। বিশ্বকাপে ভাল কিছু করতে হলে মার্সেলো বিয়েলসার দলকে অনেক উন্নতি করতে হবে।

স্পেনকে আটকে চমক কাবো ভার্দের

বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে এ বার স্পেনকে সবচেয়ে আগে রাখছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা। অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যের ভারসাম্যে দল বল বেছেছেন কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে। ফুটবলারেরা ভাল ফর্মেও আছেন। তা-ও প্রথম বার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কাবো ভার্দের বিরুদ্ধেই নাজেহাল অবস্থা হল ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নদের। ৭০ মিনিটে লামিনে ইয়ামাল এবং মিকেল মেরিনোকে নামাতে বাধ্য হলেন তিনি। তা-ও ম্যাচ শেষ হল গোলশূন্য অবস্থায়।

ম্যাচের প্রথম থেকেই দাপট ছিল ইউরোপ সেরা স্পেনের। বল ছিল মূলত কাবো ভার্দের অর্ধেই। তবু ছ’গজের বাইরেই বার বার আটকে গেলেন স্পেনের ফুটবলারেরা। মনে করা হয়েছিল কাবো ভার্দেকে সহজে হারিয়ে দেবে প্রাক্তন বিশ্বজয়ীরা। কিন্তু অন্য রকম ভাবনা ছিল আফ্রিকার দেশটির ফুটবলারদের। অভিজ্ঞতা, দক্ষতায় পিছিয়ে থেকেও সমানে সমানে লড়াই করলেন তাঁরা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে গুটিয়ে থাকেননি। প্রতিটি বলের জন্য লড়াই করেছেন। আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দিয়েছেন। গোলের মুখ ছোট করে স্প্যানিশদের কাজ কঠিন করে দিয়েছেন বার বার। ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোল বাদে সব করলেন স্পেনের ফুটবলারেরা।

কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে ইয়ামালকে বিশ্রাম দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল স্পেনের। গোল না পাওয়ায় ৭০ মিনিটে তাঁকেও ঝুঁকি নিয়ে নামিয়ে দিলেন ফুয়েন্তে। শুধু ইয়ামালকে নয়, তাঁর সঙ্গে নামানো হয় মেরিনোকেও। শেষে নামাতে হয় নিকো উইলিয়ামসকেও। তবু কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে ৩ পয়েন্ট ঘরে তুলতে ব্যর্থ স্পেন কোচ। অন্তত পাঁচ বার দলের নিশ্চিত পতন রুখে নায়কের সম্মান পাচ্ছে কাবো ভার্দের ৪০ বছর বয়সের গোলরক্ষক ভোজ়িনহা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement