গোলের পর এমবাপের উচ্ছ্বাস। ছবি: রয়টার্স।
মাত্র দু’টি গোল শূন্য ড্র। ৪০ ম্যাচে ১২১টি গোল। এ বারের বিশ্বকাপে গোলের বন্যা দেখা যাচ্ছে প্রতিটি ম্যাচেই। সমর্থকেরা মাঠে হাজির হয়ে একাধিক বার উচ্ছ্বাস প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন। গত বিশ্বকাপে এই পর্যায়ে যে সংখ্যক গোল হয়েছিল, তা ২৫ শতাংশ বেড়েছে এ বার। ফুটবল বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি গোল হয়তে এ বারই হতে চলেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিটি ম্যাচে গড়ে তিনটি করে গোল হয়েছে। কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে জার্মানির ৭-১ জয় বৃহত্তম। এত গোলের পিছনে বেশ কিছু কারণও রয়েছে। বিশেষজ্ঞেরা তিনটি কারণ তুলে ধরেছেন। ১) বিশ্বকাপের ‘ট্রিয়োন্ডা’ বল বিশেষ ভাবে তৈরি করা হয়েছে। গভীর সেলাইয়ের কারণে বল বিদ্যুতের গতিতে যাচ্ছে। ২) জলপানের বিরতি থাকায় ম্যাচ চলছেও অনেক ক্ষণ। অন্তত ৯৬ মিনিট খেলা হচ্ছে। কেউ চোট পেলে বা অন্য কারণে ১০০ মিনিটের কমে কোনও ম্যাচই হচ্ছে না। ৩) ৪৮টি দল হওয়ায় ম্যাচের সংখ্যাও বেশি। তা ছাড়া দলগুলির মধ্যে কিছু করে দেখানোর মনোভাব থাকায় গোলও হচ্ছে বেশি।
বিশ্বকাপে যতগুলি গোল হয়েছে তার অর্ধেকই করেছেন ইউরোপের সেরা পাঁচটি লিগে খেলা ফুটবলারেরা। তার মধ্যে বাকিদের টেক্কা দিচ্ছে ইপিএল। সেই লিগে খেলা ফুটবলারদের পা থেকে এসেছে ২৮টি গোল। সুইডেনের বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডসের ৫-১ জয়ে ছ’টি গোলই এসেছে ইপিএলে খেলা ফুটবলারদের পা থেকে। ব্রাজ়িল তথা আর্সেনালের ফুটবলার গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি বলেছেন, “আমার মনে হয় বিশ্বকাপের থেকেও প্রিমিয়ার লিগে আরও কঠিন খেলা হয়। তবে এখানেও প্রচুর উচ্চমানের ম্যাচ খেলতে পারছি আমরা।”
ক্লাবেদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এই ক্লাবের ফুটবলারেরা সাতটি গোল করেছেন। কিলিয়ান এমবাপে চারটি, ভিনিসিয়াস দু’টি এবং জুড বেলিংহ্যাম একটি গোল করেছেন। লিভারপুলের ফুটবলারেরা ছ’টি গোল করেছেন। নেদারল্যান্ডসের কোডি গাকপো, ভার্জিল ফান ডাইক, মহম্মদ সালাহ এবং সুইডেনের আলেকসান্ডার ইসাক রয়েছেন তালিকায়। ইন্টার মায়ামির ফুটবলার লিয়োনেল মেসি একাই পাঁচটি গোল করেছেন।