‘না খেললে তো ক্ষতি ভারতেরই’

‘দু’পা বাড়িয়ে দেখো, ভারত কত বন্ধুত্বপূর্ণ পা বাড়িয়ে দেয়!’

পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার ঘটনার জেরে ভারতীয় খেলাধুলোর জগতেও  উত্তপ্ত প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেক খেলার মঞ্চ থেকে ডাক উঠেছে পাকিস্তানকে বয়কট করার।

Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদন

কলকাতা শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০৪:২২
Share:

ইমরানকে বার্তা দিলেন গাওস্কর।

বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলা নিয়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, হরভজন সিংহ বা মহম্মদ আজহারউদ্দিনের সঙ্গে একমত নন সুনীল গাওস্কর। অন্যরা বিশ্বকাপে পাক-বয়কটের ডাক দিলেও গাওস্কর মনে করিয়ে দিতে চান যে, ম্যাচ না খেললে ক্ষতি ভারতেরই।

Advertisement

প্রাক্তন ওপেনার পাল্টা প্রশ্ন তুলছেন, ‘‘বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সঙ্গে না খেললে ক্ষতি কাদের হবে? ভারতের। পুরো পয়েন্ট পেয়ে যাবে পাকিস্তান। জিতবে তাই পাকিস্তানই।’’ এখানেই না থেমে সানির সওয়াল, ‘‘বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত সব মুখোমুখি ম্যাচে ভারত হারিয়েছে পাকিস্তানকে। ম্যাচ না খেললে দুই পয়েন্ট আমরা দিয়ে দিচ্ছি তাদেরই। আমার মনে হয়, যদি ম্যাচটা খেলে ওদের হারাতে পারি তা হলে হয়তো প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের বেশি দূর যাওয়া আটকে দিতে পারি।’’

পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার ঘটনার জেরে ভারতীয় খেলাধুলোর জগতেও উত্তপ্ত প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেক খেলার মঞ্চ থেকে ডাক উঠেছে পাকিস্তানকে বয়কট করার। রাজধানীতে শুটিং বিশ্বকাপে পাকিস্তানের প্রতিযোগীদের ভিসা না দেওয়া নিয়ে তীব্র নাটক তৈরি হয়েছে। ক্রিকেটে স্লোগান উঠেছে, বিশ্বকাপে পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট করো। সেই স্লোগানের সঙ্গে গলা মেলাচ্ছেন সৌরভ, হরভজন, আজহারের মতো প্রাক্তন তারকারা। বর্তমান দলের মহম্মদ শামি এবং যুজবেন্দ্র চহাল জওয়ানদের পাশে দাঁড়িয়ে উত্তেজক মন্তব্য করেছেন।

Advertisement

গাওস্কর বলছেন, তিনি দেশের মনোভাবের সঙ্গে একমত। ‘‘যদি সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়, আমি তার সঙ্গে আছি। যদি দেশ চায় পাকিস্তানকে সর্বতোভাবে বয়কট করতে, আমি তার সঙ্গে আছি।’’ এমন বলার পরেও তিনি যোগ করছেন, ‘‘শুধু একটাই প্রশ্ন করতে চাই। আমরা না খেললে লাভ কাদের হবে?’’ আরও বলছেন, ‘‘আমরা যদি দ্বিপাক্ষিক সিরিজে না খেলি, সেটাই পাকিস্তানের জন্য সব চেয়ে বড় ধাক্কা হবে। যেটা আমরা ইতিমধ্যেই করছি। আমরা দ্বিপাক্ষিক সিরিজে খেলছি না। কিন্তু বহু দেশীয় প্রতিযোগিতায় আমরা না খেললে আমাদেরই ক্ষতি বেশি। আমি জানি আবেগ এবং উত্তেজনা খুব উঁচু স্তরে পৌঁছে গিয়েছে। তবু আমার মনে হয় আর একটু গভীরতা নিয়ে পুরো বিষয়টি ভাবা দরকার।’’

পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে বন্ধুত্ব রয়েছে গাওস্করের। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে গাওস্করকে আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন ইমরান। সেই সময়ে ইমরান বলেছিলেন, ভারত যদি শান্তির দিকে এক পা এগিয়ে দেয়, তাঁরা দু’পা এগোবেন। সেই কথা মনে করিয়ে দিয়ে ইমরানের প্রতি গাওস্করের আর্জি, ‘‘ইমরান খানকে আমি ক্রিকেটার হিসেবে শ্রদ্ধা করে এসেছি। আমি সরাসরি ইমরানকে বলতে চাই, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তুমি বলেছিলে, নয়া পাকিস্তান তৈরি করবে। তুমি বলেছিলে, ভারত শান্তির দিকে এক পা বাড়িয়ে দেখাক, আমরা দু’পা এগোব। খেলার মাঠের লোক হিসেবে তোমাকে বলতে চাই, পাকিস্তানেরই উচিত প্রথম পদক্ষেপ করে দেখানো।’’

কী ভাবে সেই পদক্ষেপ করা যেতে পারে, তা নিয়েও ইমরানকে বার্তা দিয়েছেন গাওস্কর। ক্রিকেট জীবনে ওপেনার হিসেবে বহু বার ইমরানের বিষাক্ত ইনসুইং সামলানো গাওস্কর প্রাক্তন প্রতিপক্ষের উদ্দেশে বলেছেন, ‘‘সীমান্তে হানাহানি বন্ধ করা নিশ্চিত করো। পাকিস্তানে বসে যারা ভারতের সমস্যা তৈরি করছে, তাদের ভারতের হাতে তুলে দাও। না হলে রাষ্ট্রপুঞ্জের হাতে তুলে দাও। এখন তুমি দু’পা বাড়িয়ে দেখো, ভারত তোমাদের দিকে কত বন্ধুত্বপূর্ণ পা বাড়িয়ে দেয়!’’

তবে দেশের পরিস্থিতি এবং আবেগের কথা মাথায় রেখেও গাওস্কর দু’দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে বন্ধুত্ব উপভোগ করার কথা বলছেন। ‘‘আমি জানি বহু ভারতীয় এবং পাকিস্তানি ক্রিকেটার খুব ভাল বন্ধু। ইমরান, তুমি আমার বন্ধু, ওয়াসিম আক্রম আমার বন্ধু, রামিজ রাজা আমার বন্ধু, শোয়েব আখতার আমার বন্ধু। যখনই ভারতে বা অন্য কোনও জায়গায় আমাদের দেখা হয়েছে, দারুণ সময় কাটিয়েছি। দু’দেশের মানুষকে এই ভাল সময়টা উপভোগ করতে দেওয়া উচিত।’’ এর পরেই ফের ইমরানের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘‘তাই প্রথম পদক্ষেপটা তুমিই করে দেখাও। নয়া পাকিস্তান প্রথম শান্তির দিকে পা বাড়িয়ে দিক।’’ ইমরান নিয়ে গাওস্করের আরও উপলব্ধি, ‘‘ভারতে অনেক সময় কাটিয়েছে ইমরান। আমাদের দেশ থেকে প্রচুর ভালবাসা ও সমর্থন পেয়েছে। পাকিস্তানের যে কোনও মানুষের চেয়ে ভারতকে অনেক ভাল করে চেনে ইমরান। আমি বিশ্বাস করি, শান্তির পদক্ষেপ করার দক্ষতা ওর আছে।’’ তবে গাওস্কর খুব একটা নিশ্চিত নন, পাক বয়কটের ডাক দিয়ে আইসিসি-তে খুব একটা সুবিধা ভারতীয় বোর্ড করতে পারবে কি না। ‘‘যে ট্র্যাজেডি ঘটে গিয়েছে, তাতে আমরা সকলে মর্মাহত। কিন্তু আইসিসি পাক-বয়কটের দাবি শুনবে কি না, নিশ্চিত নই। অন্য দেশগুলো হয়তো বলবে, এটা তোমাদের দু’জনের ব্যাপার। তোমরাই সামলাও। আমরা কেন এর মধ্যে জড়াতে যাব?’’

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন