মনদীপকে আজও উদ্বুদ্ধ করে সচিনের মন্ত্র

সুলতান আজলান শাহ কাপে ভারতের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন মনদীপ। ভারত ফাইনালে না উঠতে পারলেও মনদীপের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স মন জয় করেছিল সবার।

Advertisement

সোহম দে

শেষ আপডেট: ০৪ জুন ২০১৭ ০৪:০২
Share:

হকি বিশ্বকাপে ভাল খেলতে চান মনদীপ সিংহ।

তাঁর ইচ্ছা মতো হলে আজ হয়তো ক্রিকেট মাঠে থাকতেন। ছোটবেলায় তাঁকে হকি স্টিক দিয়ে অনুশীলনে পাঠানো হলেও ক্রিকেট খেলতে শুরু করতেন। বাবা বকা দেওয়ার পরেই হকি খেলার দিকে মন দিয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর বহু বছর কেটে গিয়েছে। আজ সেই ক্রিকেট ভক্তই হয়ে উঠেছেন ভারতীয় হকির মহাকাশে নতুন তারা। তিনি‌—মনদীপ সিংহ।

Advertisement

সুলতান আজলান শাহ কাপে ভারতের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন মনদীপ। ভারত ফাইনালে না উঠতে পারলেও মনদীপের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স মন জয় করেছিল সবার। জার্মানিতে আমন্ত্রণী টুর্নামেন্ট খেলতে যাওয়ার আগে ফোনে মনদীপ বললেন, ‘‘দল আমায় সাহায্য করেছে বলেই গোল করতে পেরেছি। আমায় আরও উন্নতি করতে হবে। এই সবে শুরু।’’ নিজে সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেও ভারত ফাইনালে না উঠতে পারায় হতাশ মনদীপ। ‘‘খারাপ লাগছে ফাইনালে উঠতে না পেরে। মালয়েশিয়া ম্যাচটা জেতা উচিত ছিল। অনেক সুযোগ নষ্ট করেছি আমরা। তার ওপর আমাদের অধিনায়ক সৃজেশের চোট ছি‌‌ল। ও থাকলে আরও সুবিধা হতো।’’ আজলান শাহের ব্যর্থতা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে বেঙ্গালুরুর জাতীয় শিবিরে কোচ রোনাল্ট অল্টম্যান্স পজেশনের ওপর জোর দেন। আজলান শাহ ম্যাচের ভিডিও দেখান যাতে ভুলগুলো থেকে শিখতে পারে দল। ‘‘বেঙ্গালুরুতে আমাদের শিবিরে পজেশনের উপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। কোচ ভিডিও দেখিয়ে বলেছেন কী ভাবে আরও উন্নতি করা যায়,’’ বলছেন মনদীপ। অল্টম্যান্সের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মনদীপ আরও বলছেন, ‘‘অল্টম্যান্স স্যার দারুণ কোচ। অনেক সাহায্য করেন। আশা করছি অনেক দিন থাকবেন ভারতের কোচ হয়ে।’’

জানা গেল, বারো বছরে পঞ্জাবের সুরজিৎ অ্যাকাডেমিতে ট্রায়াল দিতে গিয়েছিলেন মনদীপ। তারই মাঝে পঞ্জাবের হয়েও খেলেছিল‌েন। কিন্তু আজও তাঁর মন পড়ে আছে পাড়ার মাঠে যখন বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতেন। ‘‘আমার দারুণ লাগত চার-ছয় মারতে। ক্রিকেট খেলাটা আমার পছন্দ। বাড়ির লোকের ইচ্ছা ছিল হকি খেলব। আমার দাদাও হকি খেলি,’’ বলছেন মনদীপ। বাইশ বছরের ফরোয়ার্ডের পছন্দের ক্রিকেটারের নাম জিজ্ঞাসা করা হলে সময় না নিয়েই বলে দি‌লেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি ও সচিন তেন্ডুল‌কর। সারা ভারত যখন মজে ‘সচিন আ বিলিয়ন ড্রিমসে’, মনদীপেরও মনে পড়ে লিটল‌ মাস্টারের সঙ্গে সাক্ষাতের সেই মুহূর্ত। ‘‘জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ার আগের কথা। সচিন তেন্ডুলকর গোটা দলের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। আমাদের বলেছিলেন, ‘তোমরাও জাতীয় দলের হয়ে খেলো। আমিও খেলি। দেশের হয়ে খেলা গর্বের। নিজেদের সেরাটা দাও।’ এত বড় ক্রিকেটার হয়েও পুরো মাটির মানুষ। সেই দিন ভুলব না।’’

Advertisement

মনদীপের লক্ষ্য আগামী বছর হকি বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়ে ভাল কিছু করার। ‘‘আমার লক্ষ্য যাতে হকি বিশ্বকাপে ভাল কিছু করতে পারি। ওটাই সবচেয়ে বড় মঞ্চ,’’ বলছেন মনদীপ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement