কাউন্টির প্রথম ম্যাচেই তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ৪ ওভারে ৪ উইকেট নিয়ে প্রথম ম্যাচেই ম্যান অব দ্য ম্যাচ। কিন্তু দীর্ঘ বিমানযাত্রার পরেই ম্যাচের ধকল যে তাঁর শরীর নিতে পারেনি, তা পরের ম্যাচেই বোঝা গিয়েছিল। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নেমে পড়তে হয়েছিল বল হাতে। শুধু তাই নয় কাউন্টি অভিষেকেই ম্যাচের সেরা। কিন্তু রূপকথার শুরু হলেও শেষটা একদমই ভাল হল না মুস্তাফিজুর রহমানের। কাঁধের চোটে আর আদৌ খেলতে পারবেন কী না সেটা বলা যাচ্ছে না। ন্যাট ওয়েস্ট টি২০ ব্লাস্ট ও রয়্যাল লন্ডন ওয়ানডে কাপের গ্রুপ পর্বে তাঁর যে কোনও খেলার সম্ভাবনা নেই সেটা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে তাঁর সাসেক্স। এই দু’টি টুর্নামেন্টের জন্যই সাসেক্সের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন মুস্তাফিজুর। গ্রুপ পর্বে না পেলেও নক আউটে মুস্তাফিজুরকে পাওয়ার আশায় রয়েছে সাসেক্স। কিন্তু চোটের অবস্থা বুঝেই পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড মুস্তাফিজুরকে নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না। তাদের তরফে বলা হয়েছে, ‘‘এই অবস্থায় মুস্তাফিজুরের খেলা চালিয়ে যাওয়ার কোনও কারণ নেই। এখনও কয়েকটি ম্যাচ বাকি আছে। তবে খেলার সম্ভাবনা খুবই কম।’’ না খেললেও এখনই দেশে ফিরছেন না মুস্তাফিজ। কবে ফিরবেন সেটাও নিশ্চিত নয় বিসিবি। শুক্রবার মুস্তাফিজুরের অর্থোগ্রাম হবে। তার রিপোর্টের উপরই নির্ধারিত হবে কী চিকিৎসা হবে তাঁর।
তবে চিকিৎসা যা-ই হোক, বিসিবি তা ইংল্যান্ডেই করিয়ে আনতে চায় বলে জানিয়েছে বিসিবি। যদি অস্ত্রোপচারও করতে হয় তা হলে বাংলাদেশ দলের ফিজিও ও চিকিৎসকরে সঙ্গে আলোচনার পরই হবে। কিন্তু সেটাও লন্ডনেই করানোর চেষ্টা করা হবে। এর মধ্যেই তামিম ইকবালের কাঁধের চোট নিয়েও চিন্তায় বিসিবি। মুস্তাফিজের সঙ্গে তাঁরও চিকিৎসা লন্ডনে করাতে চাইছে বিসিবি। একই সমস্যা দু’জনের। যদিও সামনে ইংল্যান্ড সিরিজ। তাই সেটা নিয়েও ভাবনা-চিন্তা চলছে। তামিম নিজে কী সিদ্ধান্ত নেবেন তার উপরই পুরো ব্যাপারটা নির্ভর করছে। দুজনেরই একই সমস্যা। তবে মুস্তাফিজ ও তামিমের মধ্যে পার্থক্য হলো, তামিম চাইলে অস্ত্রোপচারের ব্যাপারটি আরও বিলম্বিত করতে পারেন। কিন্তু মুস্তাফিজের যদি অস্ত্রোপচার লাগে, তা হলে সেটি না করিয়ে সম্ভবত তাঁর খেলায় ফেরার আর কোনও বিকল্প নেই।
আরও খবর
নরসিংহর ভাগ্য ঝুলে রইল শনিবার পর্যন্ত