—প্রতীকী চিত্র।
অভিনব মুকুন্দ ডেঙ্গিতে ভুগছেন। অম্বাতি রায়ডুর পায়ের চোট। ধবল কুলকার্নির গোড়ালির সমস্যা। শ্রেয়স আইয়ারের হাঁটুর চোট। পরভেজ রসুল হজে যাচ্ছেন।
চলতি দলীপ ট্রফি থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়া ক্রিকেটারদের তালিকা এখানেই শেষ নয়। এ রকম আরও কয়েকজন ক্রিকেটার রয়েছেন, যাঁদের অবস্থা না জেনেই দলীপ ট্রফির মতো টুর্নামেন্টে তাঁদের ডাকা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, কয়েকজন নাকি দেশেই নেই।
আয়োজক সংস্থা উত্তর প্রদেশ ক্রিকেট সংস্থার সূত্র অনুযায়ী ৪৫ জনের মধ্যে অন্তত ১০ জন দলে থেকেও খেলতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। কিন্তু সেই তালিকা মিডিয়াকে জানাতে চায় না বোর্ড। উপরের পাঁচ জনের নাম পাওয়া গেল লখনউয়ে সংশ্লিষ্ট দলের খেলা চলছে বলে। কিন্তু বাকিরা কারা, তা জানতে চাইলে লখনউয়ে থাকা নির্বাচক-প্রধান এমএসকে প্রসাদ বলে দেন, ‘‘আমার কাছে এই তথ্য নেই। আমি জানি না কারা খেলতে পারবে না।’’
দলীপ ট্রফির দায়িত্বে থাকা বোর্ড কর্তা কেভিপি রাও বলেন, ‘‘আমি এই নিয়ে কোনও কথা বলতে চাই না। যখন আপনাদের জানানোর সময় হবে, ঠিক জানিয়ে দেওয়া হবে।’’ শুধু জানালেন, ঝাড়খন্ডের বরুণ অ্যারন ও মুম্বইয়ের পৃথ্বী শ-কে দলীপে যোগ দিতে বলা হয়েছে। বরুণ সবুজ দলে ও পৃথ্বী লাল দলে। তবে কাদের জায়গায় যোগ দেবেন তাঁরা, তার কোনও সরকারি ঘোষণা নেই বোর্ডের তরফে। কোনও এক অজানা কারণে পুরোটাই গোপন রাখা হচ্ছে। যা অবস্থা, তাতে প্রতি দলে ১৫ জন করে থাকার কথা থাকলেও কোনও দলেই সেই সংখ্যক ক্রিকেটার নেই।
এখানেই শেষ নয়। তিন দিন আগে এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটে লখনউয়ে লাল বনাম সবুজ দলের ম্যাচের ঠিক আগে পঞ্জাবের পেস বোলার সিদ্ধার্থ কউল জানতে পারেন, সবুজ দলে তাঁর নাম থাকা সত্ত্বেও তাঁকে লাল দলের হয়ে খেলতে হবে। না হলে লাল দল তাদের কম্বিনেশন তৈরি করতে পারছিল না। এ দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্রিকেট টুর্নামেন্টগুলির অন্যতম এই দলীপ ট্রফি। পঞ্চাশ বছরেরও বেশি বয়সের এই প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্টকে এ ভাবেই প্রায় পাড়ার টুর্নামেন্টের পর্যায়ে নামিয়ে এনেছেন বোর্ড কর্তারা। টেকনিক্যাল কমিটির প্রস্তাবের তোয়াক্কা না করে তাঁদের মর্জিমাফিক কাজকর্মের জন্যই এমনটা হয়েছে বলে অভিযোগ।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রস্তাব পুরোপুরি অগ্রাহ্য করে ২৩ দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টকে ঘরোয়া সূচি থেকে বাতিলই করে দিয়েছিলেন বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত কর্তারা। কমিটির চেয়ারম্যান সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের চিঠি ও সিওএ-র নির্দেশের গুঁতোয় তড়িঘড়ি ক্রীড়াসূচি ও দল ঘোষণা করা হয় টুর্নামেন্ট শুরুর সাত দিন আগে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নজিরবিহীন সাফল্য সত্ত্বেও দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের দৈন্যদশার এর চেয়ে স্পষ্ট ছবি আর কী হতে পারে?
এ সব ডামাডোলেই লাল দলের ওপেনার প্রিয়ঙ্ক পাঞ্চাল (১৩৩) ও দীনেশ কার্তিক (১০০) সেঞ্চুরি করেন।