Summer Travel Tips

গরম উপেক্ষা করেও ঘোরা যায় সাগরপারে, দূরে নয় তালিকায় থাক কলকাতার কাছের ৩ স্থান

গরমের দিনেও সঙ্গী হতে পারে সাগর। কিন্তু যাবেন কোথায়? পুরীর সমুদ্র চিরকালই পছন্দের বাঙালির। তবে ভিড় খানিক এড়িয়ে, সবুজের স্পর্শ পেতে হলে বেছে নিন অন্য তিন গন্তব্য।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১০:২৩
Share:

ছবি: সংগৃহীত।

গরম মানেই ভ্রমণে খানিক শীতল স্পর্শ খোঁজেন পর্যটনপিপাসুরা। যেখানে গেলে মিলবে খানিক স্বস্তি। তবে ভালবাসা যদি সাগরের সঙ্গে হয়, তা হলে গরম হোক বা ঠান্ডা, তাতে কী যায় আসে! গরমের দিনেও সঙ্গী হতে পারে সমুদ্র। কিন্তু যাবেন কোথায়? পুরীর সমুদ্র চিরকালই পছন্দের বাঙালির। তবে ভিড় খানিক এড়িয়ে, সবুজের স্পর্শ পেতে হলে তালিকায় থাক তিন সৈকত।

Advertisement

বাগদা সৈকত: ঢেউয়ের গর্জন বা জোর নেই এখানে। সমুদ্র এখানে শান্ত। নরম ঢেউ যখন আলতো করে পায়ের পাতা ভিজিয়ে দেয়, সূর্য ডুব দেয় ঘন সবুজ ঝাউবনের অন্তরালে— সেই ছবি দেখে মন ভাল হয়ে যায়। ওড়িশার বালেশ্বরের কাছে রয়েছে বাগদা সৈকত। এখনও এখানে মেলে ক্ষণিকের নির্জনতা। সৈকতের সমান্তরালে বিস্তৃত ঝাউয়ের বন। এখানে দু’দিন কাটালে সঙ্গী হবে পাখির কিচিরমিচির, আর সমুদ্রের শব্দ। সকাল-বিকাল জাল ফেলেন মাঝিরা।

কংক্রিটের বিলাসবহুল হোটেল এখনও এখানে মাথা তোলেনি। ওড়িশার এই সৈকতের কাছাকাছি থাকার জন্য রয়েছে পরিবেশবান্ধব কটেজ, তাঁবু। ঘরোয়া খাবার। পাতে থাকবে টাটকা মাছ, কাঁকড়া। আশপাশে ঘোরার জন্য বেশ কয়েকটি জায়গা রয়েছে। দিন দুই-তিন ঘোরার জন্য এই জায়গা বেশ ভাল।

Advertisement

কী ভাবে যাবেন?

কলকাতা থেকে সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। যেতে সময় লাগে ৫-৬ ঘণ্টার মতো। কলকাতা থেকে কোলাঘাট-দাঁতন হয়ে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে এগিয়ে যেতে হবে। হলদিপদার কাছ থেকে বাঁ দিকে বেঁকে যেতে হবে। জাতীয় সড়ক ছেড়ে গ্রামের পথ ধরে বেশ কিছুটা এগিয়ে পৌঁছনো যাবে বাগদা সৈকতে। ট্রেনে গেলে নামতে হবে বালেশ্বর। বাকি পথের জন্য অটো বা গাড়ি ভাড়া করে নিন।

কানাইচট্ট: কাঁথি বাস স্ট্যান্ড থেকে খানিক দূরে দরিয়াপুর। সেখানেই রয়েছে কানাইচট্ট সৈকত। এখনও সে ভাবে পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে জনপ্রিয় হয়নি এই স্থান। তবে ভ্রমণপিপাসু কিছু মানুষ নিরালা প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে যেতে শুরু করেছেন সেখানে। লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা সৈকতের আশপাশে রয়েছে সবুজের ছোঁয়া। সেই কারণেই গরমেও এক বা দু’দিনের জন্য যাওয়া যেতে পারে সেখানে। কাছেই রয়েছে পরিবেশবান্ধব বিচ ক্যাম্প। সেখানেই থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা।

কী ভাবে যাবেন?

ট্রেনে কাঁথি স্টেশনে নেমে অটো ভাড়া করে পৌঁছতে হবে কানাইচট্ট সৈকতে। সড়কপথে এলে কাঁথির রূপশ্রী বাইপাস হয়ে যেতে হবে গন্তব্যে। দিঘাগামী বাসে রূপশ্রী বাইপাসে নেমে সেখান থেকে অটো ভাড়া করে যেতে পারেন কানাইচট্ট।

নুয়ানাই। ছবি: সংগৃহীত।

নুয়ানাই: পুরীর কাছেই আছে সবুজের সান্নিধ্য। আছে নির্জন সৈকতও।

পুরী থেকে কোনার্ক যাওয়ার পথে মেরিন ড্রাইভ ধরে গেলে পৌঁছনো যায় বালুখণ্ড-কোনার্ক অভয়ারণ্যে। সেখানেই মিলবে ম্যানগ্রোভ ঘেরা সাগরের সান্নিধ্য। নিরালা বালুকাবেলা। জায়গাটির নাম বালুখণ্ড, নুয়ানাই।

থাকার জন্য রয়েছে সরকারি পরিবেশবান্ধব অতিথি আবাস। সেখানেই তাঁবুতে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা। প্রশস্ত গাছগাছালি ঢাকা এই স্থানে মাঝেমধ্যেই উঁকিঝুঁকি দেয় হরিণ। শুধু সাগরতটে নয়, ঘুরে আসা যায় বনপথ ধরে নদীর ধারেও। গাড়ি নিয়ে চলে যেতে পারেন চন্দ্রভাগা সৈকতেও।পুরী থেকে নুয়ানাইয়ের দূরত্ব ১০ কিলোমিটারের মতো।

কী ভাবে যাবেন?

ট্রেনে হাওড়া থেকে পুরী। সেখান থেকে গাড়িতে বালুখণ্ড। কলকাতা থেকে সরাসরি গাড়িতেও যেতে পারেন। কলকাতা-পুরীর মধ্যে এসি বাসও যাতায়াত করে নিয়মিত।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement