ভুবনেশ্বরই আছে এমন জায়গা। কী ভাবে সেখানে যাবেন? ছবি: সংগৃহীত।
পড়শি রাজ্য ওড়িশার সৈকত শহর পুরীর সঙ্গে বাঙালির সম্পর্ক বড় গভীর। জগন্নাথ দর্শন, সমুদ্রস্নান, জমিয়ে ভূরিভোজ— এই সব কিছুই বড় প্রিয় বঙ্গবাসীর। পুরী সূত্রেই ঘোরা হয় ভুবনেশ্বরের উদয়গিরি, খণ্ডগিরি, লিঙ্গরাজ মন্দির, নন্দনকানন।
তবে যদি চেনা ছকের বাইরে গিয়ে ঘুরতে চান, খুঁজতে চান নতুন কিছু, তা হলে ভুবনেশ্বরকেই আবিষ্কার করুন নতুন ভাবে। পুরী নয়, এবার গন্তব্য হোক শুধুই ভুবনেশ্বর। দিন দুই-তিন হাতে থাকলে এখান থেকে ঘুরে নিতে পারবেন স্বল্প পরিচিত কিছু জায়গা। অভিজ্ঞতা হবে একেবারে অন্য রকম।
বারুনি পাহাড়ট্রেকিং করার মানসিকতা থাকে তা হলে ভুবনেশ্বর শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে বারুনি মাতার মন্দিরে চলুন। বারুনি পাহাড়েই রয়েছে মন্দির। মন্দির ছাড়িয়ে বাঁধানো পথ উঠেছে পাহাড়ের চূড়োয়। এক সময় বাঁধানো রাস্তা ছেড়ে পায়ে চলা পথ ধরতে হয়। জায়গাটি পড়ে খুরদা জেলায়।
অরণ্যঘেরা পাহাড়ে রয়েছে বারুনি মাতার মন্দির। ছবি:সংগৃহীত।
স্থানীয় মানুষজনের কাছে বারুনি মাতার মন্দির পবিত্র স্থান। শীতের দিনে স্থানীয়দের অনেকেই এখানে ট্রেক করতে আসেন। এমনিতে ভুবনেশ্বরে বেশ গরম পড়ে। তাই ট্রেক করার ইচ্ছা থাকলে, শীতের মরসুমই আদর্শ। রাস্তার পাশ থেকে মন্দির পর্যন্ত উঠে গিয়েছে সিঁড়ি। তার পরে শুরু হয়েছে বাঁধানো চড়াই পথ। ভুবনেশ্বর জমজমাট শহর। সেই শহরের এত কাছে এমন ঘন সবুজ পাহাড় থাকতে পারে, না এলে বোঝা কঠিন। চড়াই পথে ওঠা খানিক কষ্টকর। কিন্তু একবার চূড়োয় পৌঁছতে পারলে সেখান থেকে শহরের দূর পর্যন্ত দেখা যাবে। সেই সৌন্দর্য মন ভাল করে দেবে।
ধীরে-সুস্থে পাহাড়ে উঠতে হলে ২-৩ ঘণ্টা লাগতেই পারে। আবার নামতেও সময় লগাবে। সব মিলিয়ে হাতে ৪-৫ ঘণ্টা সময় রাখা ভাল। বারুনি পাহাড় চড়তে গেলে ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন। সঙ্গে জলের বোতল এবং শুকনো ফলমূল বা খাবার রাখা ভাল।
দেরাস ড্যাম
ভুবনেশ্বরেই রয়েছে এমন জলাধার। ছবি: জার্নি অফ ওড়িশা (ইনস্টাগ্রাম)
ভুবনেশ্বর থেকে মাত্র ২৭ কিলোমিটার দূরে দেরাস জলাধারের নাম শুনেছেন কি? চন্দ্রকা-ডাম্পারা অভয়ারণ্যের গায়েই রয়েছে পাহাড় ঘেরা দেরাস বাঁধ। চার দিকে গাছগাছালি, টিলার মতো পাহাড় আর জলাধার। মনেই হবে না ব্যস্ত শহরের মধ্যে এমন স্থান! দেরাসের সৌন্দর্য বর্ষাতেই ভাল। কারণ, তখন জলে টইটম্বুর থাকে জলাধার। তবে শীতের আবহাওয়া মনোরম। স্থানীয়দের কাছে এটিও জনপ্রিয় স্থান।
দেরাসের পাশাপাশি ঘুরে নিন অরণ্য।১৯৩ বর্গকিলোমিটার জুড়ে চন্দ্রকা-ডাম্পারা অভয়ারণ্যের বিস্তৃতি।এই জঙ্গল হাতি, চিতল, বার্কিং ডিয়ার, বাঁদর, ময়ূর-সহ অসংখ্য বন্যপ্রাণের আস্তানা। ঘোরার জন্য সাফারির ব্যবস্থা রয়েছে।
ভুবনেশ্বরে এসে যদি আরণ্যক পরিবেশ এবং নিরালার খোঁজ করেন তা হলে থেকে যেতে পারেন দেরাস নেচার ক্যাম্পে।ওড়িশা ইকো-ট্যুরিজ়মের সাইট থেকে তা বুকিং করা যায়।
তাপাং
ঘুরে নিতে পারেন তাপাং। ছবি: সংগৃহীত।
পাহাড়ের মধ্যে হ্রদ, জলের রং কিছুটা নীলাভ সবুজ! তাপাং এক ঝলকে দেখলে মনে হবে কোনও ক্যানিয়নে হ্রদ তৈরি হয়েছে। মনে হবে এ যেন বিদেশি কোনও স্থান। ভুবনেশ্বর থেকে ৩৭ কিলোমিটার দূরে নিজগড় নামক একটি স্থানে অবস্থিত তাপাং। আসলে এটি একটি পরিত্যক্ত খনি এলাকা। খনির ফাঁকা গহ্বরে জল জমে তা হ্রদের আকার নিয়েছে। প্রকৃতি নিজের মতো সেজে উঠেছে এখানে। ইদানীং তাপাং নিয়ে পর্যটক মহলে উৎসাহ বাড়ছে। সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময়ে গেলে এই জায়গাটি সবচেয়ে সুন্দর দেখাবে।
কোথায় থাকবেন?
ভুবনেশ্বরে বিভিন্ন মানের হোটেল, রেস্তরাঁ রয়েছে। তবে যদি একটু অন্য ভাবে সফর সাজাতে চান, রাত্রিবাস করতে পারেন ওড়িশা সরকারের দেরাস নেচার ক্যাম্পে। সেখানে থেকেই ঘুরতে পারেন শহরটি।
কী ভাবে যাবেন?
হাওড়া, সাঁতরাগাছি থেকে ভুবনেশ্বর যাওয়ার অনেক ট্রেন আছে।ধর্মতলা থেকে এসি বাসও ছাড়ে। ব্যক্তিগত গাড়িতেও ভুবনেশ্বর যাওয়া যায়। কলকাতা থেকে সড়কপথে ভুবনেশ্বরের দূরত্ব ৪৪১ কিলোমিটার। গাড়িতে মোটমুটি ৮-১০ ঘণ্টাতেই পৌঁছোনো সম্ভব।